গাজায় ঝড়ে প্লাবিত তাঁবু, আশ্রয়ের তাগিদে মানুষ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪০ বার
গাজায় প্রবল ঝড়ে বহু তাঁবু প্লাবিত, হাজারো মানুষ আশ্রয়ের খোঁজে

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গাজায় যুদ্ধবিধ্বস্ত জনগোষ্ঠীর জীবন নতুনভাবে বিপন্ন হয়েছে শীতকালীন ঝড় বাইরনের কারণে। সারা এলাকা জুড়ে প্রবল বৃষ্টি, দমকা বাতাস এবং শিলাবৃষ্টির সঙ্গে আসা এই ঝড়ে আশ্রয়শিবিরের বহু তাঁবু প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে শত শত ফিলিস্তিনি মানুষ তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আশ্রয় ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। দুর্ভিক্ষ ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রতিকূল পরিবেশে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত এই অঞ্চলটি মানবিক দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক সাহায্যের অভাব পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তুলেছে।

কারকাসের আশ্রয়শিবিরে এমন অবস্থার মধ্যে অনেকেই শুকনো এবং নিরাপদ স্থানের খোঁজে ছুটে যাচ্ছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার পর্যন্ত বজ্রঝড়, ভারী বৃষ্টি এবং শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় নতুনভাবে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। এখানে লাখো মানুষ ধ্বংসপ্রাপ্ত বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত তাঁবু এবং আধাপাকা ঘরে বসবাস করছে।

মানবিক সহায়তাকর্মীরা বলছেন, তাঁবু, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গাজায় পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞার কারণে এই দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় ব্যবস্থাপনা সীমিত। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাত্ক্ষণিকভাবে সহায়তা প্রবেশ করানোর জন্য ইসরায়েল সরকারের প্রতি চাপ দিতে আহ্বান জানিয়েছে।

দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে আশ্রয়শিবির থেকে বহু পরিবারের বিপদসংকেত পেয়েছে, যারা তাঁদের প্লাবিত তাঁবু এবং ভেতরে আটকে পড়ার শঙ্কায় সাহায্য চেয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, “প্রয়োজনীয় সম্পদ এবং সরঞ্জামের ঘাটতি সত্ত্বেও আমাদের দল সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে মানুষজনকে উদ্ধারে।”

জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয় দপ্তর ওসিএইচএ জানিয়েছে, ৭৬১টি আশ্রয়স্থলে থাকা প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষ সবচেয়ে বেশি প্লাবনের ঝুঁকিতে রয়েছে। আগের ঝড়ে দেখা গেছে, অনেকে নোংরা পানি এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত তাঁবুর কারণে নিরাপদ স্থান খুঁজে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল।

প্যালেস্টিনিয়ান এনজিও নেটওয়ার্কের পরিচালক আমজাদ শাওয়া বলেছেন, “ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞার কারণে গাজায় তাঁবু এবং জরুরি সরঞ্জাম পৌঁছানো সম্ভব নয়, ফলে পুরো অঞ্চলই অরক্ষিত।” অক্সফামের পরামর্শক ক্রিস ম্যাকইনটশ বলেন, “গাজার মানুষ ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে যথাযথ আশ্রয় ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হয়নি এবং নতুন তাঁবু ঢুকতে দেরি হওয়ায় অর্ধেকেরও বেশি মানুষ ভাঙা তাঁবুতে বসবাস করছে, যা ঝড়-বৃষ্টিতে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে।”

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে নবজাতকসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি বিপদে রয়েছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, যদি ঝড় এবং বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে, তাহলে গাজায় আরও ব্যাপক মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে।

শীতকালীন ঝড়ের কারণে গাজার মানুষগুলো নতুনভাবে বিপন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত, অর্থনৈতিক সঙ্কট এবং আন্তর্জাতিক অব্যবস্থাপনার কারণে এখানকার মানুষ প্রতিনিয়ত নিরাপদ আশ্রয় এবং খাদ্য-জল সংকটে জর্জরিত। এই প্রেক্ষাপটে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং মানবিক সহায়তা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে, যাতে গাজার সাধারণ মানুষ মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে পারে এবং সাময়িক হলেও নিরাপদ আশ্রয় পায়।

এই বিপর্যয় শুধু আবহাওয়া নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থার সঙ্গে জড়িত। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে জরুরি সহায়তা পৌঁছানো ব্যাহত হচ্ছে, যা গাজার মানবিক সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। সিভিল সোসাইটি এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তৎপর হতে আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় কমিয়ে আনা যায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারে।

গাজায় এই প্রবল বৃষ্টিপাত এবং ঝড়ের মধ্যে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে, যা আন্তর্জাতিক মনোযোগ এবং সহায়তার তাগিদ বাড়িয়েছে। মানবিক সংগঠনগুলো বলছে, এখনই যদি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে গাজার মানুষ একটি নতুন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত