সেপটিক ট্যাংকে মৃত্যু ফাঁদ, শ্রীমঙ্গলে চার তরুণের করুণ পরিণতি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই, ২০২৫
  • ২৮ বার

সেপটিক ট্যাংকে মৃত্যু ফাঁদ: শ্রীমঙ্গলে চার তরুণের করুণ পরিণতি

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হরিণছড়া চা বাগানে ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক ও অস্বাভাবিক দুর্ঘটনা, যা স্থানীয়দের স্তব্ধ করে দিয়েছে শোক আর বিস্ময়ে। এক সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যাওয়া একটি মোবাইল ফোন তুলতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসের ফাঁদে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন চার তরুণ। নিঃশ্বাসের জন্য লড়াই করে বেঁচে ফিরেছেন আরেকজন, যাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার রাতের গভীর অন্ধকারে হরিণছড়া চা বাগানের এক সরল সন্ধ্যার শুরুতে এমন মৃত্যুকূপের আশঙ্কা ছিল না কারোরই। মৃত চারজন—রানা নায়ক, শ্রাবণ নায়েক, কৃষ্ণ রবিদাস ও নিপেন ফুলমালি—সবাই এই চা বাগান এলাকার চা শ্রমিক পরিবারের সন্তান। বয়সের সীমানা পেরিয়ে তারা কেউ কৈশোরে, কেউ যৌবনের শুরুতে; হঠাৎই সব থেমে গেল এক সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে।

প্রথমে কারো হাত থেকে ট্যাংকের ভেতর পড়ে যায় মোবাইল ফোনটি। সেটি তুলতে গিয়ে একজন নামে ট্যাংকের ভেতর। দীর্ঘক্ষণ না উঠতে দেখে আরেকজন নামে, তারও সাড়া নেই। এভাবে একে একে চারজনই বিষাক্ত গ্যাসে অচেতন হয়ে মৃত্যুবরণ করে। হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। বেঁচে যাওয়া রবি বুনার্জি তৎক্ষণাৎ অচেতন হলেও তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পর কিছুটা সাড়া মেলে। তবে তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রণয় কান্তি ভট্টাচার্য এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সব্যসাচী পাল তমাল ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন। তারা জানিয়েছেন, এক রিংয়ের ছোট সেপটিক ট্যাংকে এত বিপজ্জনক মাত্রার গ্যাস কীভাবে জমলো, তা সত্যিই অস্বাভাবিক। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের জমে থাকা গ্যাস হঠাৎ মুক্তি পেয়ে প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। তবে সঠিক কারণ জানতে মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত হবে।

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, রাতে খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনাকেই কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কোনও অবহেলা বা অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল হরিণছড়া চা বাগান এলাকার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একদিকে পরিবারের কান্না, অন্যদিকে স্থানীয়দের আতঙ্ক—সব মিলে এক বেদনাবিধুর পরিবেশ বিরাজ করছে পুরো এলাকায়। চারটি তরতাজা প্রাণের এই অপমৃত্যু স্থানীয়দের মনে জাগিয়ে তুলেছে নিরাপত্তা সচেতনতার প্রশ্নও। সেপটিক ট্যাংক বা এ ধরনের বিপজ্জনক স্থানে অপ্রশিক্ষিত ও অপ্রস্তুত হয়ে নামা যে কত বড় ঝুঁকি বয়ে আনতে পারে, তা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল শ্রীমঙ্গলের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পুলিশের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হবে এবং ভবিষ্যতে এমন মৃত্যু এড়াতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিহতদের স্বজনদের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও চা বাগান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদানের আশ্বাসও মিলেছে। শ্রীমঙ্গলবাসী এখন শোকের সঙ্গে সঙ্গে অপেক্ষা করছে সত্য উদঘাটনেরও।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত