ভারতের শুল্ক চাপ কমাতে মোদির ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৫ বার
ভারতের শুল্ক চাপ কমাতে মোদি ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা

প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে কয়েকবার টেলিফোনালাপ করেছেন। এই সংলাপের মূল উদ্দেশ্য হলো রাশিয়া থেকে তেল আমদানি সংক্রান্ত ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক কমানো। বৃহস্পতিবার মোদি সামাজিকমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে জানান, তিনবারের ফোনালাপে দু’দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

মোদি তার পোস্টে এই আলাপকে ‘উষ্ণ ও আন্তরিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেন, “বিশ্ব শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্য একসাথে কাজ চালিয়ে যাবে দুই দেশ।” তাঁর এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ভারত শুল্কভারের বোঝা থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসায়িক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুসংহত করার পরিকল্পনা করছে।

হোয়াইট হাউজের একজন কর্মকর্তা ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে বিস্তারিত আলোচনা প্রকাশ করা হয়নি। ওয়াশিংটনের পক্ষে ভারতীয় বাণিজ্য বিষয়ক প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যেই ভারতে অবস্থান করছে এবং শুল্কভিত্তিক আলোচনার জন্য যৌথ কার্যক্রম শুরু করেছে। নয়াদিল্লি রাশিয়ার তেল কেনার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শাস্তিমূলক শুল্ক থেকে অব্যাহতি চাইছে।

ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রতি কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। চলতি বছরের জুলাই মাসের শেষের দিকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনায় অচলাবস্থা দেখা দেয়। ভারতের পক্ষ থেকে মার্কিন কৃষি পণ্যের বাজারে প্রবেশের বিরোধিতা করা হয়। এতে আলোচনার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তবে মোদি ও ট্রাম্পের ফোনালাপের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চেষ্টা শুরু হয়েছে।

ভারত সরকার জানায়, অক্টোবরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি ৬.৩১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ৬.৯১ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ কম। শুল্ক আরোপের ফলে ভারতের পণ্যের প্রতিযোগিতা কমে গেছে এবং বাণিজ্য ঘাটতিতে প্রভাব পড়েছে। তাই নয়াদিল্লি শুল্কভারের বোঝা কমানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপ কেবল শুল্ক সংক্রান্ত নয়, এটি দু’দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক মজবুত করার অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য বজায় রাখা এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য।

মোদি ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চে একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেছেন। এতে করে আন্তর্জাতিক বাজারে দুই দেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।

এই আলাপ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণে ব্যস্ত। ভারত শুল্ক কমানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনোযোগ আকর্ষণ করতে ফোনালাপের পথ বেছে নিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, চলতি বছরের বাণিজ্য চুক্তি ও শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনা এখনও অচল। তবে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের আন্তরিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের ওপর শুল্ক আরোপ এবং রপ্তানি হ্রাসের ফলে দেশটির শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। মোদির ফোনালাপ মূলত এই চাপ কমানো এবং আমদানি-রপ্তানি খাতে পুনঃস্থিরতা আনার প্রচেষ্টা। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও এর অংশ।

উপসংহারে বলা যায়, মোদি-ট্রাম্পের ফোনালাপ ভারতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। নয়াদিল্লির উদ্দেশ্য হলো শুল্কভারের বোঝা কমানো, মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার বজায় রাখা এবং দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করা। এই আলোচনার ফলাফল ভবিষ্যতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত