প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভোটার বা প্রার্থী হতে পারবেন কিনা—এ ধরনের প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরে নানা জল্পনা তৈরি করেছিল। তবে নির্বাচনী আইন, ভোটার তালিকা এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী তার ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার যে কোনো সংশয় শেষ হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্নের অবসান ঘটেছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ইতিমধ্যে ভোটের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, সংবিধান ও ভোটার তালিকা আইনে যেখানে ভোটার ও প্রার্থীর যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত উল্লেখ আছে, তা লঙ্ঘন না করলে তারেক রহমানের ভোটার বা প্রার্থী হওয়ার কোনো বাধা নেই। নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থী হতে চাইলে তাকে ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটার হতে হবে এবং সেইসাথে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে।
ভোটার তালিকা আইনের বিধি অনুযায়ী, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে বসবাস করলে তিনি প্রবাসে বা দেশে ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। ফরম–২ পূরণ করে দেশে বা সংশ্লিষ্ট দেশে রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তার কাছে বা অনলাইনে আবেদন করার মাধ্যমে ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া সম্ভব। ভোটার তালিকা আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী, কমিশন যেকোনো সময় যোগ্য ব্যক্তিকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। শুধুমাত্র বিশেষ কিছু কারণে কেউ ভোটার হওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারেন, যেমন: বাংলাদেশি নাগরিক না থাকা, আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত হওয়া, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের অধীনে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ইত্যাদি।
সিইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারেক রহমান লন্ডন থেকেও ভোটার হতে পারবেন। যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে প্রবাসে বসে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। তাই বিদেশে বসেই তার ভোটার হওয়ার কোনো বাধা নেই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিতে হলে ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে তা করতে হবে। মনোনয়নপত্র নিজে অথবা প্রতিনিধি মারফত স্বাক্ষর করে রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো যাবে। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ১ ও ২ দফায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নাগরিক এবং বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে একজন প্রার্থী হতে পারবেন। তবে আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষণা, ফেরারি আসামি থাকা, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করা, নৈতিক স্খলনজনিত সাজাপ্রাপ্ত হওয়া বা ১৯৭২ সালের ‘বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশ’ অনুযায়ী দণ্ডিত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারানো যায়।
মনোনয়নপত্রে তথ্যগত ঘাটতি থাকলে বা বিভ্রান্তিকর/মিথ্যা তথ্য থাকলে তা বাতিল হতে পারে। তবে যদি তারেক রহমান বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ না করে থাকেন, তাহলে বিদেশ থেকে ভোটার হয়ে প্রার্থী হওয়া সম্ভব। মনোনয়নপত্র ডাকযোগে পাঠানো বা প্রতিনিধি মারফত স্বাক্ষর করিয়ে দাখিল করাও সম্ভব।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা জানিয়েছেন, তারেক রহমান শিগগির দেশে ফিরবেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশে ফিরে ভোটার হয়ে যাওয়া কোনো সমস্যা হবে না এবং ভোটার হওয়ার সময়সীমা নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হবে না। এই অবস্থায় তারেক রহমান লন্ডন থেকেও ভোটার ও সংসদ প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সুবিধা পুরোপুরি বজায় রাখবেন।
এই পরিস্থিতি বিএনপির আসন্ন নির্বাচনী প্রস্তুতিকে আরও সুসংহত করবে। বিদেশে থাকা দলের সভাপতি লন্ডন থেকেও দেশের ভোটার ও প্রার্থী হয়ে অংশগ্রহণ করতে পারলে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়বে। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং আইনসম্মতভাবে পরিচালিত হবে, যা নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ খুলে দিয়েছে।