মিরপুরে সেনা অভিযানে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২০ বার
No weapon vector sign isolated on white background

প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

মিরপুরে সেনা অভিযানে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে নতুন করে সামনে এনেছে এবং একই সঙ্গে সন্ত্রাস দমনে রাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের বার্তাও দিয়েছে। শুক্রবার ভোররাতে ঢাকার মিরপুরের পল্লবী থানাধীন পুরান সিটি মার্কেট বা আলুপট্টি এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ভবনে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তবে অভিযানের আগাম খবর পেয়ে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ‘বোমা কজু’ ও ‘লেংড়া রুবেল’সহ তাদের সহযোগীরা কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। প্রাপ্ত তথ্যে বলা হয়েছিল, পল্লবীর ওই পরিত্যক্ত ভবনে দীর্ঘদিন ধরে কুখ্যাত কয়েকটি সন্ত্রাসী চক্র নিয়মিত জড়ো হতো এবং সেখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন চলত। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় ধরনের নাশকতার ছক কষা হচ্ছিল বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ছিল ‘বোমা কজু’ ও ‘লেংড়া রুবেল’ নামের দুই কুখ্যাত সন্ত্রাসী, যাদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক গুরুতর মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন তারা তাদের সহযোগীদের নিয়ে ভবনটিতে অস্ত্র বিতরণ ও পরবর্তী সহিংস কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনায় একত্রিত হয়েছিল। সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল দ্রুততার সঙ্গে ভবনটি ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করে।

তবে অভিযানের সময় একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় সেনাসদস্যদের। ভবনটি ছিল অত্যন্ত বড়, প্রায় একটি ফুটবল মাঠের সমান আয়তনের, এবং আশপাশে সুগম কোনো রাস্তা ছিল না। পাশাপাশি সন্ত্রাসী চক্রটির নিজস্ব তথ্যদাতা থাকায় অভিযানের বিষয়টি আগেই টের পায় তারা। এর সুযোগে ভবনের পেছনের একটি গেট ব্যবহার করে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন দুষ্কৃতকারী পালিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মধ্যেই মূল হোতা ‘বোমা কজু’ ও ‘লেংড়া রুবেল’ ছিলেন।

যদিও অভিযানে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি, তবে ভবনটির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। সেনাবাহিনী জানায়, উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে একাধিক রিভলভার, বিপুল সংখ্যক তাজা গুলি, ধারালো অস্ত্র, গান পাউডার ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম। এছাড়া সেখানে একটি বিস্ফোরিত ইম্প্রোভাইজড ককটেলের আলামতও পাওয়া গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে ওই স্থানে আগেও বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর তদন্ত বিভাগ জানায়, এই পরিত্যক্ত ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, সশস্ত্র মহড়া এবং চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাঝেমধ্যেই ভবনের ভেতর থেকে ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যেত, যা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করত। অতীতেও ওই ভবন থেকে অজ্ঞাত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

গোয়েন্দা তথ্যে আরও উঠে এসেছে, ‘বোমা কজু’ ও ‘লেংড়া রুবেল’ এই ভবনটিকে মূলত একটি ‘টর্চার সেল’ হিসেবে ব্যবহার করত। এখানে প্রতিপক্ষের লোকজনকে ধরে এনে নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। ‘বোমা কজু’ সম্প্রতি ককটেল বিস্ফোরণে আহত হয়ে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্প এলাকার বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে ‘লেংড়া রুবেল’ আলুপট্টি সংলগ্ন বিহারি ক্যাম্পগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব আধিপত্য বজায় রেখে আসছিলেন।

অভিযান শেষে উদ্ধার করা অস্ত্র ও বিস্ফোরক সামগ্রী সেনাবাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পল্লবী থানার সঙ্গে সমন্বয় করে পলাতক সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, এই অভিযান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং রাজধানীসহ সারা দেশে সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধে চলমান কার্যক্রমেরই অংশ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অভিযানের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে রাজধানীর কিছু পরিত্যক্ত ভবন কীভাবে অপরাধী চক্রের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হচ্ছে। নিয়মিত নজরদারি ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এসব জায়গা থেকে অপরাধ নির্মূল করা কঠিন। একই সঙ্গে তারা মনে করছেন, নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এমন অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা সজাগ ও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ—এমন বার্তাও বিজ্ঞপ্তিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। রাজধানীবাসীর অনেকেই আশা করছেন, এই অভিযানের ধারাবাহিকতায় দ্রুতই পলাতক সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হবে এবং মিরপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিনের অপরাধচক্রের কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা আসবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত