প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢাকায় কাতার রাষ্ট্রের জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে এক প্রীতি ও কূটনৈতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে, যা দুই দেশের সম্পর্কের দৃঢ় বন্ধন এবং অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সহযোগিতা উদযাপনের একটি প্রতীক হয়ে ওঠে। রাজধানীর একটি প্রখ্যাত হোটেলে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কাতার দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তা, কূটনৈতিক মিশন ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানগণ, বাংলাদেশে নিযুক্ত কূটনৈতিক কোরের সদস্য, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ কাতার ও বাংলাদেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গৃহীত সংস্কারমূলক পদক্ষেপ দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে তিনি কাতারি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করবে।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ কাতার রাষ্ট্রের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভূমিকাকে প্রশংসা করেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন কাতারের মধ্যস্থতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে দেশটির সহযোগিতার কথা। এই ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা দুই দেশের মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তুলেছে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কাতার রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সেরায়া আলি আল কাহতানি। রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাতার ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, কাতারে চার লক্ষেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক কর্মরত রয়েছেন, যারা দেশটির বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, রাষ্ট্রদূত কাতার রাষ্ট্রের অর্জন তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের সাথে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার দিক নির্দেশনা দেন। তিনি জানান, গত বছর কাতার আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির বাংলাদেশ সফরের সময় বিনিয়োগ, জ্বালানি, শ্রম, সামুদ্রিক যোগাযোগ, শিক্ষা, পর্যটন ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বসহ বিভিন্ন খাতে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এটি দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কাতার এয়ারওয়েজ, কাতার চ্যারিটি এবং কাতার রেড ক্রিসেন্টের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কাতার রাষ্ট্রের অর্জন নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেশটির উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে। উপস্থিত অতিথিরা কাতার রাষ্ট্রের জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান, যা কূটনৈতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।
এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুধু কাতার ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বই নয়, দুই দেশের জনগণের মধ্যে সৌহার্দ্য, বন্ধুত্ব এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতার উন্নয়নকেও উজ্জীবিত করা হয়েছে। কাতারের জাতীয় দিবস উদযাপন ঢাকার কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক মহলে দুই দেশের অংশীদারিত্বকে দৃঢ় করার একটি প্রতীক হিসেবে কাজ করেছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ধরনের অনুষ্ঠান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা, বিনিয়োগ ও সামাজিক ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করে। কাতার রাষ্ট্রের অর্জন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুদৃঢ় ভিত্তি বাংলাদেশের জন্য কাতার বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ আরও বাড়িয়েছে।