প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সিরিয়ার মাটিতে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ওপর এক ভয়াবহ প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শুক্রবার সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে আইএসের ৭০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। গত সপ্তাহের শেষদিকে সিরিয়ায় আইএসের হামলায় তিন মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় এই ‘কঠোর প্রতিশোধ’ নেওয়া হলো বলে হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তার দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, যারা মার্কিন নাগরিকদের ওপর হামলা চালাবে, তাদের ওপর এমন ভয়াবহ আঘাত করা হবে যা আগে কখনো দেখা যায়নি।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ওয়াশিংটনের তথ্যমতে, গত ১৩ ডিসেম্বর সিরিয়ার পালমিরা শহরে আইএসের একজন বন্দুকধারী অতর্কিত হামলা চালায়। ইউনেস্কো স্বীকৃত প্রাচীন ঐতিহ্যের শহর পালমিরা একসময় আইএসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। ওই হামলায় আইওয়া ন্যাশনাল গার্ডের দুই সার্জেন্ট উইলিয়াম হাওয়ার্ড ও এডগার টোরেস টোভার এবং মিশিগান থেকে আসা বেসামরিক দোভাষী আয়াদ মানসুর সাকাত নিহত হন। নিজ দেশের নাগরিকদের এমন মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প প্রশাসন মধ্য সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় আইএসের আস্তানা লক্ষ্য করে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও কামানের গোলা বর্ষণ করে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই অভিযানে ১০০টিরও বেশি নিখুঁত ও সুনির্দিষ্ট মারণাস্ত্র ব্যবহার করে আইএসের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অস্ত্রভাণ্ডার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে বলেন, “যেমনটা আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, মার্কিন নাগরিকদের খুনিদের বিরুদ্ধে ঠিক ততটাই কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হচ্ছে। যারা আমাদের ওপর হামলা চালায়, তাদের ওপর পাল্টা আঘাত করার ক্ষেত্রে আমরা কোনো আপস করব না।” গত বছরের ডিসেম্বরে সিরিয়ার দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই ছিল সিরিয়ার অভ্যন্তরে মার্কিন বাহিনীর সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান। সেন্টকম আরও জানিয়েছে যে, পালমিরা হামলার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রবাহিনী সিরিয়া ও ইরাকে মোট ১০টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে, যাতে অন্তত ২৩ জন সন্ত্রাসী নিহত বা আটক হয়েছে।
সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নূরেদ্দিন আল-বাবা এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পালমিরায় মার্কিনদের ওপর হামলাকারী ব্যক্তি মূলত সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন। তবে তার চরমপন্থী মতাদর্শের কারণে তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, আর তার আগেই সে এই হামলাটি চালায়। অন্যদিকে, সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও মার্কিন হামলা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। মন্ত্রণালয়টি নিশ্চিত করেছে যে, সিরিয়ার ভূখণ্ডকে কোনোভাবেই সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় হতে দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, সিরিয়ায় এখনো আইএসের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে, বিশেষ করে দেশটির জনমানবহীন বিস্তীর্ণ মরুভূমি এলাকায় তারা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। বর্তমানে সিরিয়ার কুর্দি নিয়ন্ত্রিত উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং জর্ডান সীমান্তের কাছে আল-তানফ এলাকায় মার্কিন বাহিনী মোতায়েন আছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন, তবে বর্তমান পরিস্থিতি ও আইএসের নতুন করে উত্থান মার্কিন বাহিনীর সেখানে উপস্থিতিকে দীর্ঘায়িত করছে। নিহত মার্কিন নাগরিকদের মৃতদেহ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সেখানে আয়োজিত শোকসভায় ট্রাম্পসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।