তোশাখানা মামলা: ইমরান খান ও বুশরা বিবির ১৭ বছরের কারাদণ্ড

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৩ বার
ইমরান খান ও বুশরা বিবির

প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পাকিস্তানের রাজনীতিতে আবারও বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তোশাখানা মামলায় বেআইনিভাবে রাষ্ট্রীয় উপহার গ্রহণ ও বিক্রির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি করার দায়ে ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন পাকিস্তানের একটি বিশেষ আদালত। আজ শনিবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে ইমরান খান ওই কারাগারেই বন্দি রয়েছেন। এই রায়ের ফলে ইমরান খানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও সংকটের মুখে পড়ল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আদালতের রায়ে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৩৪ এবং ৪০৯ ধারার অধীনে ইমরান খানকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের অধীনে আরও ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ তাকে সর্বমোট ১৭ বছর কারাবাস ভোগ করতে হবে। একইভাবে তার স্ত্রী বুশরা বিবিকেও সমপরিমাণ অর্থাৎ ১৭ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত এই দম্পতিকে ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন। আইন অনুযায়ী, এই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে তাদের উভয়কেই অতিরিক্ত মেয়াদে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেছে যে, সাজা প্রদানের সময় ইমরান খানের বর্তমান বয়স এবং বুশরা বিবির নারী হওয়ার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হয়েছে। এই দুটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাদের অপরাধের তুলনায় কিছুটা কম সাজা দেওয়া হয়েছে বলে রায়ে জানানো হয়। তবে ইমরান খান ও বুশরা বিবির আইনজীবীরা এই রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন এবং দ্রুতই উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, রাজনৈতিক ময়দান থেকে সরিয়ে রাখতেই একের পর এক মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হচ্ছে পিটিআই প্রধানকে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে পাকিস্তানের শক্তিশালী দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা জাতীয় জবাবদিহি ব্যুরো (এনএবি) এই মামলাটি দায়ের করেছিল। মামলায় অভিযোগ আনা হয় যে, ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সৌদি আরবের যুবরাজের কাছ থেকে পাওয়া অত্যন্ত মূল্যবান দুটি গয়নার সেট বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে দেখিয়ে তোশাখানা থেকে নিজের আয়ত্তে নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেগুলো উচ্চমূল্যে বিক্রি করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হন এবং রাষ্ট্রের কোষাগারের বড় ক্ষতি সাধন করেন। এই রায়ের পর পাকিস্তান জুড়ে পিটিআই সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং দেশটির বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত