জাতীয় কবির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন শহীদ ওসমান হাদি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৯ বার

প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

অশ্রুসিক্ত নয়নে শেষ বিদায় জানানো হলো জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অগ্রনায়ক ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে। আজ শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। দাফনের আগে যখন তার মরদেহ শেষবারের মতো বিদায়ের জন্য প্রস্তুত করা হয়, তখন সেখানে উপস্থিত পরিবার, সহযোদ্ধা এবং হাজার হাজার সাধারণ মানুষের গগনবিদারী আর্তনাদে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কবির সেই কালজয়ী আকুতির পাশে আজ চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এই সময়ের এক লড়াকু বিপ্লবী।

এর আগে দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ হাদির বিশাল নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম এবং এতে অংশগ্রহণ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের লাখো মানুষ। জানাজা শেষে একটি সুসজ্জিত অ্যাম্বুলেন্সযোগে তার কফিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওনা হয়। রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষ হাত নেড়ে এবং স্লোগান দিয়ে প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানান। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই তার মরদেহ ঘিরে ছিল জনতার বাঁধভাঙ্গা ঢল।

শহীদ হাদির বড় ভাই জানাজার ঠিক আগ মুহূর্তে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তার ভাইয়ের হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, হাদি সবসময় দেশের মানুষের অধিকার ও সার্বভৌমত্বের কথা বলতেন, আর সেই কারণেই তাকে টার্গেট করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আব্দুল আহাদ নিশ্চিত করেন যে, ময়নাতদন্তের সকল প্রক্রিয়া আইনি নিয়ম মেনেই সম্পন্ন করা হয়েছে। গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে গণসংযোগকালে মোটরসাইকেলে আসা সন্ত্রাসীদের মাথায় করা গুলিতেই তার জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, যা দীর্ঘ এক সপ্তাহের লড়াই শেষে গত বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে থেমে যায়।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর থেকে মরদেহ দেশে আসার পর সেটি রাখা হয়েছিল জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমাগারে। আজ দাফনের মাধ্যমে শেষ হলো এক বর্ণাঢ্য অথচ স্বল্প সময়ের বিপ্লবী জীবনের। উল্লেখ্য, জুলাই বিপ্লবে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া এই তরুণ নেতার মৃত্যুতে আজ সারাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কবির পাশে হাদির এই সমাধি এখন থেকে তরুণ প্রজন্মের কাছে আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াই ও দেশপ্রেমের এক নতুন তীর্থস্থান হিসেবে গণ্য হবে বলে মনে করছেন তার সহযোদ্ধারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত