নেইমারের অস্ত্রোপচার সফল, বিশ্বকাপ স্বপ্ন নিয়ে ফেরার লড়াই

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১০৮ বার
নেইমারের অস্ত্রোপচার সফল, জানুয়ারিতেই মাঠে ফেরার আশা

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল নামগুলোর একটি নেইমার জুনিয়র। ক্যারিয়ারের শেষভাগে এসে একের পর এক চোট তাকে বারবার থামিয়ে দিচ্ছে। তবু হার মানতে নারাজ এই সুপারস্টার। শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আবারও প্রমাণ করেছেন, বয়স কিংবা ইনজুরি তার সংকল্পকে ভাঙতে পারেনি। সর্বশেষ হাঁটুর চোটে অস্ত্রোপচারের টেবিলে গেলেও, সফল অস্ত্রোপচার এবং আশাব্যঞ্জক পুনর্বাসন পরিকল্পনা নতুন করে আলো জ্বালিয়েছে নেইমারের মাঠে ফেরার সম্ভাবনায়।

সান্তোসের হয়ে ব্রাজিলিয়ান সিরি আ’র মৌসুমের শেষ কয়েক সপ্তাহ ছিল নেইমারের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত কঠিন। হাঁটুর তীব্র ব্যথা নিয়েই মাঠে নামতে হয়েছে তাকে। চিকিৎসকদের পরামর্শ উপেক্ষা করে দলকে অবনমন থেকে বাঁচাতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছেন তিনি। শেষ ম্যাচে সান্তোস অবনমন এড়ানোর পাশাপাশি জায়গা করে নেয় দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় স্তরের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট কোপা সুদামেরিকানায়। এই সাফল্যের পরই নিশ্চিত হয়ে যায়, মৌসুম শেষ করে নেইমারকে অস্ত্রোপচারে যেতে হবে।

সৌদি ক্লাব আল হিলালে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নেইমারের ক্যারিয়ারে যেন নতুন করে দুর্ভাগ্যের ছায়া নামে। জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গিয়ে গুরুতর এন্টেরিয়র ক্রুশিয়েট লিগামেন্ট বা এসিএল চোটে পড়েন তিনি। দীর্ঘ পুনর্বাসনের পর মাঠে ফিরলেও ফর্ম ও ফিটনেসে পুরোপুরি ফিরতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত আল হিলালের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ফিরে যান নিজের শেকড়ে—সান্তোসে। ভক্তরা ভেবেছিলেন, পরিচিত পরিবেশে হয়তো নতুন করে নিজেকে গড়ে তুলবেন নেইমার। কিন্তু চোট যেন তার পিছু ছাড়েনি।

সান্তোসে ফেরার পর মাঝেমধ্যেই হাঁটুর সমস্যায় ভুগেছেন নেইমার। মৌসুমের শেষ দিকে সেই ব্যথা আরও প্রকট হয়। তবুও দলের প্রয়োজনেই মাঠে ছিলেন তিনি। পরে সিদ্ধান্ত হয় অস্ত্রোপচারের। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে ব্রাজিলের মাতার দেই নোভা লিমা শহরে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ডা. রদ্রিগো লাসমার ও তার টিমের তত্ত্বাবধানে নেইমারের হাঁটুতে আর্থ্রোস্কোপি করা হয়। ক্লাব সূত্রে জানানো হয়েছে, মিডিয়াল মেনিস্কাসে থাকা একটি ক্ষত সারাতেই এই অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

সান্তোস এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ সফল হয়েছে এবং নেইমারের অবস্থা স্থিতিশীল। বিবৃতিতে বলা হয়, অস্ত্রোপচারের পর নেইমার ভালো আছেন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। একই দিন দুপুরের মধ্যেই তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এখন তিনি পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করবেন, যা তার দীর্ঘদিনের ফিজিওথেরাপিস্ট রাফায়েল মার্টিনির তত্ত্বাবধানে চলবে।

এই অস্ত্রোপচার নেইমারকে দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে রাখবে না বলেই আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম ইএসপিএনের তথ্য অনুযায়ী, তাকে প্রায় এক মাস বিশ্রামে থাকতে হতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ কিংবা ফেব্রুয়ারির শুরুতেই মাঠে ফিরতে পারেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। এমনকি ২২ জানুয়ারি ক্যাম্পেওনাতো পাউলিস্তার করিন্থিয়ান্সের বিপক্ষে বহুল আলোচিত ডার্বি ম্যাচ দিয়েই তার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।

অস্ত্রোপচারের আগে দল অবনমন থেকে বাঁচানোর পর নেইমার নিজেই জানিয়েছিলেন, কতটা কষ্টের মধ্যে দিয়ে তাকে খেলতে হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, ‘এ কারণেই আমি এখানে এসেছিলাম—যতটা সম্ভব দলকে সাহায্য করতে। গত কয়েক সপ্তাহ আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। হাঁটুর ব্যথা নিয়েই মাঠে নামতে হয়েছে। যারা আমাকে মানসিকভাবে শক্ত রেখেছে, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা না থাকলে হয়তো এই ম্যাচগুলো খেলা সম্ভব হতো না।’ তিনি আরও বলেন, এখন বিশ্রাম নেওয়া এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরোপুরি সুস্থ হওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

নেইমারের সঙ্গে সান্তোসের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ এ মাসের শেষেই শেষ হওয়ার কথা। তবে ক্লাব ও খেলোয়াড়—দুই পক্ষই চুক্তি নবায়নে আগ্রহী বলে জানা গেছে। সান্তোস সভাপতি মার্সেলো টেইশেইরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নেইমারের প্রকল্প মূলত ২০২৬ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করেই। তার বিশ্বাস, নেইমার ক্লাবেই থাকবেন এবং নতুন চুক্তি হবে।

টেইশেইরা বলেন, নেইমার চাইলে যেকোনো বড় ক্লাবে যেতে পারতেন, কিন্তু তিনি নিজের ঘরে ফিরতে চেয়েছেন। মৌসুমের শুরুতে হয়তো তাকে যতটা কাজে লাগানো দরকার ছিল, ততটা পারা যায়নি, তবে শেষ দিকে তিনি ছিলেন নির্ণায়ক। মাঠে ও মাঠের বাইরে—দুই জায়গাতেই তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ। আর্থিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে আমরা ইতিবাচকভাবেই আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছি।

নেইমারের ব্যক্তিগত লক্ষ্য অবশ্য স্পষ্ট—২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জার্সিতে খেলতে চান তিনি। বয়স তখন ৩৪ হলেও নিজের ওপর বিশ্বাস হারাননি এই ফরোয়ার্ড। তবে তার জন্য চ্যালেঞ্জও কম নয়। ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, নাম নয়—ফিটনেস ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই বিশ্বকাপ দল গঠন করা হবে।

এই মাসের শুরুতে আনচেলত্তি সাংবাদিকদের বলেন, নেইমার অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়, কিন্তু ব্রাজিল দলকে ব্যক্তি নয়, সামগ্রিকভাবে ভাবতে হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, মার্চের ফিফা উইন্ডোর পর চূড়ান্ত তালিকা তৈরির কাজ শুরু হবে এবং মে মাসে বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করা হবে। নেইমার যদি তখন ফিট থাকেন এবং অন্যদের চেয়ে ভালো পারফর্ম করেন, তবেই তার জায়গা হবে দলে।

সব মিলিয়ে নেইমারের সামনে সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সফল অস্ত্রোপচার তাকে নতুন করে আশার আলো দেখালেও, মাঠে ফিরেই নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করতে হবে। ইনজুরি কাটিয়ে ধারাবাহিকভাবে খেলতে পারলেই কেবল বাস্তব রূপ পাবে তার বিশ্বকাপ স্বপ্ন। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলপ্রেমীরাও এখন তাকিয়ে আছেন, আবার কবে পুরোনো সেই জাদুকরী নেইমারকে দেখা যাবে সবুজ মাঠে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত