প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় চর দখলকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং আরও বহু লোক আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে সুখচর ইউনিয়নের জাগল্লার চর এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সহিংসতায় স্থানীয় জনগণ আতঙ্কে ভুগছেন এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে চর এলাকায় জমি ও চরের সম্পত্তি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পূর্বশত্রুতার জের ধরে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উভয় পক্ষের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র এবং লাঠিসোটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন প্রাণ হারান, অনেকেই গুরুতর আহত হয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হন। আহতদের মধ্যে কিছু লোককে নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে কিছু নাম পাওয়া গেছে, তবে চূড়ান্ত তথ্য এখনো স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারা নিশ্চিত করা হয়নি। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগের অবস্থাও গুরুতর। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, সংঘর্ষ চলাকালীন চর এলাকার কিছু ঘর-বাড়ি ও সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, দুই গ্রুপের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। মঙ্গলবার বিকেলে বিরোধটি নতুন করে ধ্বনিত হলে তা রূপ নেয় উভয় পক্ষের মধ্যকার সশস্ত্র সংঘর্ষে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে ঘটনাটি ইতিমধ্যে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, আহতদের চিকিৎসার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য তদন্ত শুরু করেছে। এছাড়া স্থানীয় জনগণকে শান্তি বজায় রাখতে এবং উত্তেজনা না ছড়াতে সতর্ক করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, চর দখল ও সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। আগের ঘটনাগুলোও হিংসাত্মক আকার ধারণ করেছিল, কিন্তু মঙ্গলবারের সংঘর্ষে প্রাণহানি হওয়ায় পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। এলাকাবাসীর মতে, প্রশাসনের তৎপরতা এবং দ্রুত পদক্ষেপ না থাকলে এই ধরনের সংঘর্ষ ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনার তদন্তের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং সুষ্ঠু বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, জনগণ শান্তি চাইছে এবং এই ধরনের সহিংসতা বারবার যেন না ঘটে, তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এদিকে, আহতদের মধ্যে কিছুজনের অবস্থার গুরুতর হওয়ায় স্থানীয় হাসপাতাল ও মেডিকেল সুবিধাগুলো ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের তৎপরভাবে চিকিৎসা প্রদান করছেন। আহতদের পরিবারের সদস্যরা হতাশা ও শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায়, চর এলাকায় ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, এমন সহিংসতা পুনরায় যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের উপস্থিতি এবং সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, নোয়াখালীতে চর দখলকে কেন্দ্র করে পূর্বেও কয়েকবার সহিংস ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা জানান, জমি ও চরের সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ থাকায় প্রতিটি পক্ষ নিজেদের পক্ষে শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা চালায়। এই ধরণের সংঘর্ষে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, নিহত ও আহতদের জন্য সহায়তা প্রদান, তদন্ত প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতে এমন সংঘর্ষ প্রতিরোধে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, স্থানীয় মানুষকে শান্তি বজায় রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।