এআই নির্ভরতা,প্রযুক্তির ফিতনা ও ঈমানি সচেতনতার পরীক্ষা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫
  • ৭৪ বার

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতি আমাদের জীবনযাত্রা যেমন সহজ করেছে, তেমনি জটিল করে তুলেছে বিশ্বাস, নৈতিকতা ও জ্ঞানের বোধ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আর কোনো কল্পবিজ্ঞানের বিষয় নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ হয়ে গেছে। প্রশ্নোত্তর থেকে বিশ্লেষণ, লেখালেখি থেকে ব্যক্তিগত সহকারী—সবই এআই করছে মুহূর্তে। অথচ এই প্রযুক্তিই যখন ইসলামের মতো স্পর্শকাতর ও পবিত্র বিষয়ে অনুপ্রবেশ করে, তখন এর গতি আর নিরপেক্ষতা কতখানি নিরাপদ—সে প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গবেষণা ও খবর থেকে জানা যাচ্ছে, এআই এখন শুধু ভুল তথ্য দিচ্ছে না, কখনো হুমকি দিচ্ছে, মিথ্যা বলছে বা তথ্য গোপন করছে। ফ্রান্স২৪-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লড ৩.৫ মডেল পর্যন্ত একজন প্রকৌশলীকে হুমকি দিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের চেষ্টা করেছে। এমআইটি টেকনোলজি রিভিউসহ একাধিক গবেষণাতেও বলা হয়েছে, এআই-এর অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া এক ধরনের ‘ব্ল্যাক বক্স’—যা বাইরে থেকে বোঝা কঠিন। অথচ ইসলামে জ্ঞান স্পষ্ট, বিশ্বস্ত ও সুন্নাহ নির্ভর হওয়া অপরিহার্য। কোরআনেই বলা হয়েছে, ‘‘যদি কোনো ফাসেক সংবাদ নিয়ে আসে, যাচাই করো’’ (সুরা হুজুরাত ৪৯:৬)। কিন্তু এই ‘ফাসেক’ হয়ে উঠতে থাকা প্রযুক্তি যদি নিজেই মিথ্যা-সত্য মিশিয়ে ফতোয়া দেয়, তখন এর ভয়াবহতা অনুধাবন করা সহজ।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তরুণ প্রজন্মের ঈমানি জিজ্ঞাসা। নতুন প্রজন্ম এখন আলেমদের কাছে নয়, দ্রুতগতির এআই-এর কাছে দ্বীনের জ্ঞান খুঁজছে। অথচ এই জ্ঞান হয়তো হুবহু নয়, ভুলে ভরা, ব্যাখ্যাহীন বা পক্ষপাতদুষ্ট কোনো কোডের ফসল। ফলে এআই নির্ভর ‘যান্ত্রিক ফতোয়া সংস্কৃতি’ গড়ে উঠছে, যেখানে তথ্য আছে, কিন্তু খুশু নেই, তাকওয়া নেই, আমানতের বোধ নেই। এই প্রবণতা দাওয়াহ ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি—যেখানে আলেমরা ওয়াজ-মাহফিলে সীমাবদ্ধ, আর প্রশ্নের সহজ উত্তর চলে যাচ্ছে চ্যাটবটের হাতে।

তবে সবই অন্ধকার নয়। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার হতে পারে সহিহ হাদিসের গবেষণায়, আরবি ব্যাকরণ শেখায়, সহজ ব্যাখ্যা পেতে যদি তা হয় বিশ্বস্ত ইসলামি তত্ত্বাবধানে। সৌদি আরবের কিং সৌদ ইউনিভার্সিটির মতো উদ্যোগ আমাদের দেশেও প্রয়োজন, যেখানে ইসলামি জ্ঞান ও প্রযুক্তি একসঙ্গে এগোবে, বিভ্রান্তি নয়।

সার্বিকভাবে এআই এক যুগান্তকারী পরীক্ষা—যা আমাদের প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি নৈতিকতা ও বিশ্বাস কতটা অটল, সেটিও যাচাই করছে। তাই প্রযুক্তিকে হাতিয়ার হিসেবে সীমিত রাখতে হবে, প্রভু নয়। আমাদের ঈমানি জিজ্ঞাসা যেন কেবল যন্ত্রের ওপর নির্ভর না করে, বরং সত্যিকারের আলেম, সহিহ উৎস ও তাওয়াক্কুলের উপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়—এই হোক যুগের শিক্ষণীয় বার্তা।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের ফিতনা থেকে হেফাজত করুন, আমিন।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত