প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশের আইন পেশার জন্য এক অভূতপূর্ব সম্মাননা বয়ে এনেছে হংকংভিত্তিক খ্যাতনামা প্রকাশনা সংস্থা এশিয়া বিজনেস ল’ জার্নাল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমাদৃত এই সংস্থাটি ২০২৫ সালের ‘বাংলাদেশের শীর্ষ ৫০ আইনজীবীর তালিকা’ প্রকাশ করেছে, যেখানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন দেশের একঝাঁক প্রখ্যাত ও উদীয়মান আইনবিদ।
শুক্রবার (১১ জুলাই) ল’ জার্নাল তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই তালিকা প্রকাশ করে। এতে উঠে এসেছে বাংলাদেশের আইনি অঙ্গনের সেইসব মুখ, যারা শুধুমাত্র আদালতের বারান্দা নয়, বরং আইন, বিচার, মানবাধিকার ও ব্যবসায়িক পরামর্শের ক্ষেত্রে দেশে এবং বিদেশে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন।
তালিকায় রয়েছেন সংবিধান প্রণেতা হিসেবে পরিচিত ড. কামাল হোসেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আইনমন্ত্রী এবং সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার এম. আমীর-উল ইসলাম, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কেসি, এবং বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক।
তালিকায় আরও রয়েছেন— নারী ও মানবাধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা ব্যারিস্টার সারা হোসেন, সাবেক এমসিসিআই প্রেসিডেন্ট ও কর্পোরেট ল’ বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার নিহাদ কবির, কর্পোরেট ও চুক্তিবদ্ধ আইনজীবী হিসেবে খ্যাত ব্যারিস্টার ওমর সাদাত, এবং নতুন প্রজন্মের উদীয়মান আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, যিনি টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ আইন চর্চায় বিশেষ অবদান রেখেছেন।
এই তালিকায় আরও যারা স্থান পেয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন— ব্যারিস্টার আখতার ইমাম, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার আনিতা রহমান, ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ, ব্যারিস্টার আশরাফুল হাদী, ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব, ব্যারিস্টার সামির সাত্তার, ব্যারিস্টার তানজীবুল আলম, ব্যারিস্টার ওমর এইচ খান, ব্যারিস্টার ইউসুফ আলী, ব্যারিস্টার খান খালিদ আদনান, ব্যারিস্টার সাজেদ সামী আহমেদ, ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ ফারুক, ব্যারিস্টার মারগুব কবির, ব্যারিস্টার শাওন এস. নোবেল, ব্যারিস্টার আলামিন রহমান, ব্যারিস্টার এ.এস.এম. সাকিব শিকদার, ফেরদৌস রহমান, মো. ফারুক রহমানসহ আরও অনেকে।
এই সম্মাননা প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব জানান, “স্বাধীন গবেষণা, পিয়ার ফার্ম ও ক্লায়েন্টদের মূল্যায়ন, এবং সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে এই র্যাঙ্কিং তৈরি করা হয়েছে। এটি একমাত্র প্ল্যাটফর্ম যেখানে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে শীর্ষস্থানীয় আইনজীবীদের তালিকা নিরপেক্ষভাবে উপস্থাপন করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের আইনজীবীরা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃত হচ্ছে, যা এই পেশার মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে আরও সুদৃঢ় করবে।”
এর আগে ২০২৪ সালে, এশিয়া ল’ জার্নাল ২০ জন শীর্ষস্থানীয় বাংলাদেশি আইনজীবীর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছিল। এবারে সংখ্যাটি বাড়িয়ে ৫০-এ উন্নীত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের আইনি পেশাজীবীদের সক্ষমতা, বিস্তার ও গুণগত মানের একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই তালিকায় স্থান পাওয়া আইনজীবীরা বিচার বিভাগ, ব্যবসায়, মানবাধিকার, সংবিধান, আন্তর্জাতিক আইন, বিনিয়োগ ও টেকসই উন্নয়নের মতো বিভিন্ন খাতে অনন্য অবদান রেখে চলেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই আন্তর্জাতিক আদালত, সংস্থায় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন কিংবা জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
এশিয়া ল’ জার্নালের এই স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের আইনি শিক্ষার মান, আইনচর্চার শৃঙ্খলা ও গ্লোবাল ফোরামে আমাদের দেশের অবস্থানকে আরও একধাপ এগিয়ে দিয়েছে— এমনটাই মনে করছেন দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের আইনজীবীরা।
এই তালিকা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের আইন পেশাজীবীদের আত্মবিশ্বাস ও দৃশ্যমানতা আরও বাড়িয়ে দেবে বলেও আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।