প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চট্টগ্রামের পটিয়ায় রোববার দিবাগত রাতে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক ট্রাকচালক নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা ঘটে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া আমজুরহাট এলাকায়। নিহত ট্রাকচালকের নাম মো. সালাম (৫৫), তিনি বগুড়া জেলার আকতার মিয়ার ছেলে। আহতরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইউনুচ মিয়ার ছেলে জাহেদুল ইসলাম (২৬), একই এলাকার জুয়েলের পুত্র জাকির ইসলাম (৩০), সবুর মিয়ার ছেলে সাকিব উল হাসান (১৭) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসরিন সুলতানা (২৯)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করা হানিফ পরিবহনের একটি বাস আমজুরহাট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পণ্যবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের সময় ট্রাকচালক মো. সালাম বাস ও ট্রাকের মাঝখানে আটকে পড়েন। খবর পেয়ে পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ চেষ্টার পর তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তারেকুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আহত চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের অবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চিকিৎসকরা সতর্ক থাকলেও গুরুতর অবস্থায় আছেন বলেই জানা গেছে।
পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রাজেশ বড়ুয়া জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাত ২টা ২০ মিনিটে তাদের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। তারা বাস ও ট্রাকের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে এবং আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তর নিশ্চিত করে। পরে হাইওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলি উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নেয়।
পটিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ জসিম উদ্দীন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে গাড়িগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তে পুলিশ কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে বলা যায়, রাস্তার সংকীর্ণ স্থান এবং রাতের অন্ধকারে উভয় যানবাহনের অল্পমাত্রা কম দূরত্বে চলাচল এই দুর্ঘটনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ এলাকা যানজটপূর্ণ হওয়ার কারণে দুর্ঘটনা অনিবার্য হয়ে থাকে। সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ অংশগুলিতে যথাযথ সড়ক সংকেত ও লাইটের অভাবও প্রায়শই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উঠে আসে। বিশেষ করে রাতের সময় চলাচলরত ভারী যানবাহনের জন্য এই সড়কটি বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেন তারা।
দুর্ঘটনার কারণে এলাকায় অস্থায়ী যান চলাচলের জট সৃষ্টি হয়। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পুলিশ ও উদ্ধারকারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে যানবাহন সরিয়ে সড়ক খোলা রাখার চেষ্টা করে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই ছিল যে সংঘর্ষের শব্দ দূরের এলাকা পর্যন্ত শোনা যায়।
এই দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, সড়কে নিরাপত্তা এবং সচেতনতার অভাব জীবনহানির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুর্ঘটনার পর সতর্কবার্তা জারি করেছে এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ চলাচলের নির্দেশনা প্রদান করেছে।
এ ধরনের দুর্ঘটনা শুধু হতাহতের ঘটনা নয়, বরং পরিবার ও সমাজের জন্য মানসিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিহত মো. সালামের পরিবারের সদস্যরা শোকাহত, এবং আহতদের দ্রুত সেরে ওঠার জন্য স্থানীয়রা সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনার তীব্রতা কমাতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার গুরুত্ব বহুলাংশে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।