বিএনপি একা, বিপরীতে সারা বাংলাদেশ: ডা. তাহের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৯ বার
বিএনপি একা, বিপরীতে সারা বাংলাদেশ: ডা. তাহের

প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে ভিন্নমাত্রার সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তা অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে আলাদা—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। তিনি বলেছেন, এই নির্বাচনে বিএনপি কার্যত একা হয়ে পড়েছে, আর অপরদিকে ডানপন্থি রাজনৈতিক শক্তি ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে রয়েছে। তাঁর ভাষায়, “একদিকে রয়েছে দুয়েকটি দল ও কিছু মানুষ, আরেকদিকে রয়েছে সারা বাংলাদেশ।”

সোমবার কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর এই বক্তব্য মুহূর্তেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দেয় এবং নির্বাচনের সামগ্রিক চিত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়।

ডা. তাহের বলেন, এই নির্বাচন তিনটি মৌলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ব্যতিক্রমধর্মী। প্রথমত, দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অনুপস্থিত। দ্বিতীয়ত, বিএনপি এই নির্বাচনে একা হয়ে পড়েছে, তাদের পাশে আগের মতো রাজনৈতিক শক্তির সমর্থন নেই। তৃতীয়ত, যারা ডানপন্থি রাজনীতি ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তারা সবাই একটি বৃহৎ ঐক্যে আবদ্ধ হয়েছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন হবে না—এমন ধারণা বা ষড়যন্ত্র যারা ছড়িয়েছিল, বাস্তবতায় তা প্রাথমিকভাবেই ব্যর্থ হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ও নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে, নির্বাচন আয়োজনের পথ এখন উন্মুক্ত। ডা. তাহের আশা প্রকাশ করেন, এই নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ, যেখানে জনগণ সুশৃঙ্খলভাবে তাঁদের কাঙ্ক্ষিত প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে।

ডা. তাহেরের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাস। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, নিষেধাজ্ঞা ও সাংগঠনিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়া দলটি এখন নতুন বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে চাইছে। তাঁর মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ জামায়াতসহ ডানপন্থি শক্তিগুলোর জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে, যেখানে তারা জনগণের সামনে নিজেদের রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মসূচি তুলে ধরতে পারবে।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় ডা. তাহেরের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নেতাদের মধ্যে ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমির অ্যাডভোকেট মু. শাহজাহান, সাবেক আমির আবদুস সাত্তার, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আমির মাহফুজুর রহমান, সাবেক আমির ভিপি সাহাব উদ্দিন, পৌর আমির মাওলানা ইব্রাহিম, উপজেলা সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, সাবেক সেক্রেটারি শাহ মো. মিজানুর রহমান, ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী ফরায়েজী ও পৌর জামায়াত সেক্রেটারি মোশারফ হোসেন ওপেলসহ আরও অনেকে। তাঁদের উপস্থিতি স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি ও নির্বাচনী প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডা. তাহেরের বক্তব্য কেবল বিএনপিকে লক্ষ্য করে দেওয়া সমালোচনা নয়; বরং এটি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি ব্যাখ্যা। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে যে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে পরিচিত ছিল, সেই অবস্থানও এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। একদিকে বিএনপি জোট রাজনীতিতে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে, অন্যদিকে ডানপন্থি দলগুলো নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ব্লক তৈরির চেষ্টা করছে।

ডা. তাহেরের “ব্যতিক্রমধর্মী নির্বাচন” মন্তব্যটি এই প্রেক্ষাপটেই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতা বদলের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দেশের রাজনৈতিক ধারার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। জনগণ এই নির্বাচনের মাধ্যমে কোন রাজনৈতিক দর্শন ও শক্তিকে সমর্থন দেবে, সেটিই ভবিষ্যতের রাজনীতির ভিত্তি গড়ে দেবে।

তবে বিএনপি ঘনিষ্ঠ মহল ডা. তাহেরের এই বক্তব্যকে অতিরঞ্জিত বলে মনে করছে। তাদের মতে, বিএনপি এখনো দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি এবং মাঠপর্যায়ে তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত। একই সঙ্গে তারা দাবি করছে, নির্বাচন ঘনিয়ে এলে রাজনৈতিক সমীকরণে আরও পরিবর্তন আসতে পারে। অন্যদিকে জামায়াতপন্থি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডা. তাহেরের বক্তব্য বাস্তবতার প্রতিফলন, কারণ বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থায় নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান স্পষ্ট।

চৌদ্দগ্রাম আসন স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। এখানে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে আসছে। ডা. তাহেরের প্রার্থী হওয়া স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই এই নির্বাচনকে আগের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে আলাদা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, প্রার্থীদের পরিচয়, রাজনৈতিক অবস্থান ও জাতীয় প্রেক্ষাপট—সব মিলিয়ে ভোটের সিদ্ধান্ত এবার আরও সচেতনভাবে নেওয়া হবে।

সার্বিকভাবে ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বক্তব্য দেশের চলমান নির্বাচনী রাজনীতিতে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। এটি একদিকে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, অন্যদিকে ডানপন্থি ও আন্দোলনপন্থি শক্তির ঐক্যের দাবি জোরালো করেছে। এই ব্যতিক্রমধর্মী নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জনগণ কোন দিকটি বেছে নেবে, সেটিই এখন রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত