বরিশালে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি আরও ১৩৮ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৭ বার
বরিশালে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি আরও ১৩৮ জন

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব প্রতিবেদক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দেশজুড়ে আবারও ধীরে ধীরে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। শুক্রবার (১১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩৮ জন রোগী। তবে স্বস্তির খবর হলো, এই সময়ের মধ্যে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ২৫ জন রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার বাইরের অন্যান্য বিভাগে নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১১৩ জন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি, যেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৬০ জন রোগী—যা সারাদেশের মোট নতুন আক্রান্তের প্রায় অর্ধেক।

এ বছর ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত (১১ জুলাই) ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৪ জন। মৃত্যুর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, যেখানে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২১ জন। বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ইতোমধ্যেই দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মারা গেছেন ৫ জন, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে ৪ জন করে, রাজশাহীতে ২ জন এবং ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগে ১ জন করে মোট ২ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

ডেঙ্গুর দীর্ঘমেয়াদি চিত্র বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, এই ভাইরাসবাহিত রোগটি দেশে ক্রমাগত ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৭৫ জন। এর আগের বছর, ২০২৩ সালে, পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ। সেই বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭০৫ জন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আবহাওয়া পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, মশক নিধন কার্যক্রমে সমন্বয়ের অভাব এবং জনসচেতনতার ঘাটতি—সবমিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষাকাল ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এডিস মশার বিস্তার ও বংশবৃদ্ধির হারও বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই যদি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয়, তবে আগের বছরের মতো এবছরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। সিটি করপোরেশন, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণকে সম্মিলিতভাবে মশক নিধন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন ডেঙ্গু উপসর্গ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান, দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ এবং নিয়মিত হাসপাতালের তথ্য পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের বহু অঞ্চলে এখনও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ সীমিত পর্যায়ে রয়ে গেছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে যে পরিমাণ তৎপরতা প্রয়োজন, তা দৃশ্যমান নয় বহু জায়গাতেই। ফলে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে—ডেঙ্গু সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হলে তা নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

সচেতনতা, সমন্বিত উদ্যোগ এবং তথ্যভিত্তিক কার্যক্রমই এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, প্রতিবারের মতো এবারও ডেঙ্গুর ছোবল মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে ফেলতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত