বিশ্বকাপে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে আফগানিস্তানের দল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮৫ বার
আফগানিস্তানের টি২০ বিশ্বকাপ দল

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে ১৫ সদস্যের শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছে গত আসরের সেমিফাইনালিস্ট আফগানিস্তান। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সুষম মিশেলে গড়া এই দলে ফিরেছেন অলরাউন্ডার গুলবাদিন নাইব, বাঁহাতি পেসার ফজলহক ফারুকি এবং গতি তারকা নাভিন-উল-হক। দলের নেতৃত্বে থাকছেন স্পিন জাদুকর রশিদ খান, আর সহঅধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান। বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের লক্ষ্য নিয়েই এই দল সাজিয়েছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

গত টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা সাফল্য দেখিয়েছে। প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে উঠে তারা প্রমাণ করে দিয়েছে, সহযোগী দল থেকে পূর্ণ সদস্যে পরিণত হওয়ার পর আফগান ক্রিকেট কতটা দূর এগিয়েছে। সেই আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করেই এবার আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও অভিজ্ঞ একটি স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। দলে থাকা ক্রিকেটারদের সাম্প্রতিক ফর্ম, ফিটনেস এবং বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বোর্ড।

দলে ফেরা তিন ক্রিকেটারের প্রত্যাবর্তন আলাদা করে নজর কাড়ছে। গুলবাদিন নাইব এবং ফজলহক ফারুকি বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে খেলেননি। ফিটনেস ও দলীয় কম্বিনেশনের কারণে তাদের বাইরে রাখা হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের অভিজ্ঞতা এবং চাপের মুহূর্তে কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতার কারণে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ফেরানো হয়েছে। বিশেষ করে নাইবের অলরাউন্ড দক্ষতা এবং বড় ম্যাচের মানসিকতা দলের ভারসাম্য বাড়াবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নাভিন-উল-হকের প্রত্যাবর্তনও আফগান শিবিরের জন্য স্বস্তির খবর। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাঁধের অস্ত্রোপচার করানোর পর তিনি কিছুদিন মাঠের বাইরে ছিলেন। পুনর্বাসন শেষে অনুশীলনে ফিরে তিনি খেলেছেন এসএ টোয়েন্টি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটে। যদিও এশিয়া কাপে জায়গা পাননি নাভিন, তবে সাম্প্রতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্স নির্বাচকদের আস্থা ফেরাতে সহায়ক হয়েছে। বিশ্বকাপের দলে জায়গা পেয়ে তিনি যে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে পেস আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করবেন, সে প্রত্যাশাই করছেন সমর্থকরা।

নাভিনের প্রত্যাবর্তনের পরও তরুণ পেসার আবদুল্লাহ আহমদজাইকেও দলে রাখা হয়েছে। এশিয়া কাপে নাভিনের জায়গায় সুযোগ পেয়ে তিনি সম্ভাবনার ঝলক দেখিয়েছিলেন। নির্বাচকরা তাই তাকে পুরোপুরি বাদ না দিয়ে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত রেখেছেন। এতে করে আফগান পেস আক্রমণে অভিজ্ঞতা ও তরুণদের সমন্বয় তৈরি হয়েছে।

দলের স্পিন বিভাগেও রয়েছে শক্তিশালী সমাহার। রশিদ খানের সঙ্গে নুর আহমেদ এবং মুজিব উর রহমানের উপস্থিতি যে কোনো ব্যাটিং লাইনআপের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। মুজিব উর রহমান দলে ফেরায় তরুণ আল্লাহ গজনফরকে রাখা হয়েছে রিজার্ভ তালিকায়। এই রিজার্ভ তালিকায় আরও আছেন ইজাজ আহমদজাই ও জিয়া উর রহমান শরিফি, যারা প্রয়োজনে দলে যুক্ত হতে পারেন।

ব্যাটিং বিভাগেও আফগানিস্তান রেখেছে বৈচিত্র্য। ওপেনিংয়ে ইব্রাহিম জাদরান ও রহমানউল্লাহ গুরবাজের জুটি আগ্রাসী সূচনা এনে দিতে সক্ষম। গুরবাজের সঙ্গে উইকেটরক্ষক হিসেবে থাকছেন মোহাম্মদ ইশাক, যা দলকে বাড়তি বিকল্প দিচ্ছে। মিডল অর্ডারে সেদিকুল্লাহ অটল, দারউইশ রাসুলি এবং শহিদুল্লাহ কামালের মতো ব্যাটাররা ইনিংস গড়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত রান তুলতে পারদর্শী। অলরাউন্ডার হিসেবে আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও মোহাম্মদ নবির উপস্থিতি দলকে গভীরতা দেবে।

বিশ্বকাপের আগে আফগানিস্তানের এই স্কোয়াড সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি ত্রিদেশীয় টি–টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে। এই সিরিজে অংশ নেবে স্বাগতিক আরব আমিরাতও। ১৯ জানুয়ারি সিরিজের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, এরপর ২১ ও ২২ জানুয়ারি হবে পরের দুটি ম্যাচ। এই সিরিজকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে আফগান শিবির।

আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হবে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে। তবে আফগানিস্তান তাদের অভিযান শুরু করবে ৮ ফেব্রুয়ারি। ‘ডি’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, আরব আমিরাত ও কানাডা। শক্তিশালী নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচগুলোকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন আফগান ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। তবে এশিয়ান কন্ডিশনে খেলা হওয়ায় স্পিন নির্ভর আফগান দল নিজেদের বাড়তি সুবিধা পাবে বলে আশাবাদী তারা।

দল ঘোষণার সময় আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নাসিব খান বলেন, গত বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের সাফল্য ছিল ঐতিহাসিক। সেই স্মৃতি এখনো ক্রিকেটারদের অনুপ্রেরণা জোগায়। তিনি জানান, এবারের বিশ্বকাপ এশিয়ান কন্ডিশনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় আফগানিস্তান আরও ভালো করার সুযোগ দেখছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি সিরিজ দলকে নিজেদের সেরা কম্বিনেশন খুঁজে নিতে সাহায্য করবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।

সব মিলিয়ে, অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের প্রত্যাবর্তন, তরুণদের সুযোগ এবং শক্তিশালী স্পিন আক্রমণের সমন্বয়ে আফগানিস্তান এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আবারও চমক দেখাতে প্রস্তুত। গত আসরের সাফল্য যে কাকতালীয় ছিল না, তা প্রমাণ করাই এখন রশিদ খানদের মূল লক্ষ্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত