প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দিনাজপুরে চোরাচালান বিরোধী অভিযানে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) বড়সড় মাদক উদ্ধার করেছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন ৪২-এর বৈরচুনা বিওপি ও চান্দেরহাট বিওপির যৌথ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ৫০ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল এবং ৫০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদক সামগ্রী বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
৪২ ব্যাটালিয়ন দিনাজপুর বিজিবি একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত পিলার ৩৩৫/৫-এস থেকে ১৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সিংহর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৫০ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। একই রাতে চান্দেরহাট বিওপির একটি টহল দল পার্শ্ববর্তী সীমান্ত পিলার ৩৩২/৯-এস-এর ৮০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রানীরঘাট এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৫০ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করে। এই অভিযানের মাধ্যমে সীমান্তে অবৈধ মাদকপাচার রোধে বিজিবি একটি কার্যকর উদাহরণ স্থাপন করেছে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন ৪২-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, উদ্ধারকৃত মাদকের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পালিয়ে যাওয়া সংশ্লিষ্ট মাদক ব্যবসায়ীদের শনাক্তকরণ এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এই অভিযান প্রমাণ করেছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি মাদক ও চোরাচালান রোধে নিয়মিত ও কার্যকরীভাবে কাজ করছে।
বিজিবি কর্মকর্তা আরও জানান, দেশের মাদকমুক্তি নিশ্চিত করা এবং সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা তাদের প্রধান দায়িত্ব। তারা ভবিষ্যতেও সীমান্তে চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাবে। স্থানীয় জনগণও বিজিবির এই ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত অভিযান মাদকপাচার ও চোরাচালান কমাতে সহায়ক হবে।
এই ধরনের অভিযান কেবল সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করাই নয়, দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সীমান্ত দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা মাদক সামগ্রী প্রতিরোধের মাধ্যমে যুবসমাজকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব। বিজিবির এই অভিযানই প্রমাণ করছে যে, সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও তৎপরতা বজায় রাখা গেলে মাদকপাচার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
মাদক উদ্ধারের পর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ মাদকবিক্রেতাদের চিহ্নিত ও গ্রেফতারের জন্য সহযোগিতা করছে। বিজিবি জানিয়েছে, আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় জনগণও আশা প্রকাশ করেছেন, এই অভিযান মাদকপাচারকারীদের জন্য সতর্কবার্তা হবে এবং পরবর্তী সময়ে সীমান্ত এলাকায় মাদকবিক্রির হার কমাতে সহায়ক হবে।
বিজিবির এই অভিযান দেশের মাদকমুক্তি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এটি প্রমাণ করে যে, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত ও পরিকল্পিত অভিযান যুব সমাজকে সুরক্ষা এবং দেশের সামাজিক পরিবেশকে নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং বিজিবির সমন্বিত তৎপরতা মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করেছে।
বাংলাদেশের সীমান্তে মাদকপাচার রোধে বিজিবির এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দেশব্যাপী মাদকমুক্তি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার লক্ষ্যে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় আরও কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখবে। এই অভিযান স্থানীয় জনগণকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করলেও দেশের মাদকবিরোধী কার্যক্রমে একটি নতুন দিক উন্মোচিত করেছে।