প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দখলকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলে বুধবার ইসরাইলি সেনাবাহিনী নূর শামস শরণার্থী শিবিরে অন্তত ২৫টি ভবন ধ্বংস করেছে। এই ধ্বংসযজ্ঞে প্রায় ১০০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, এটি সশস্ত্র গোষ্ঠী নির্মূলের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।
নূর শামস শিবির দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি যোদ্ধা ও ইসরাইলি বাহিনীর সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। বুধবার ভোরে বুলডোজার ও ক্রেন ব্যবহার করে ভবনগুলো ধ্বংস করা হয়, যার ফলে আকাশে ঘন ধুলো কুণ্ডলি ছড়িয়ে পড়ে। বহু বাসিন্দা দূর থেকে এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখেন। ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে ঝাঁপিয়ে থাকা ধোঁয়া ও ধুলোর কুণ্ডলি শিবিরের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে।
শিবিরের বাসিন্দা মুতাজ মাহর তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “আমাদের ঘরবাড়ি, পাড়া-প্রতিবেশী এবং স্মৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দখলদার বাহিনী আমাদের ক্লান্ত ও চাপে ফেলতে চাইছে।” তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ আমাদের জীবনে স্থায়ী আঘাত তৈরি করেছে। আমরা নিরাপদ আশ্রয় ও পুনর্বাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্যের প্রয়োজন।”
নূর শামস শিবিরের জনপ্রিয় কমিটির সদস্য নিহায়া আল-জেন্দি জানান, চলতি বছরের শুরুতেই সামরিক অভিযান শুরুর আগে শত শত পরিবার শিবির ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল। তিনি বলেন, “আজও শিবিরের দেড় হাজারের বেশি পরিবার তাদের বাড়িতে ফিরতে পারেনি। এটি একটি বড় মানবিক বিপর্যয়।” তিনি আরও মন্তব্য করেন, “বিশ্বের সামনে এটি ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য এক ভয়াবহ মানবিক দুর্যোগ হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।”
ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “নূর শামস এলাকায় চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভবনগুলো ভাঙা হয়েছে। উত্তর সামারিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক এলাকা থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।” তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ধ্বংসযজ্ঞকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দৃষ্টিতে দেখছেন এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন।
শিবিরে ধ্বংসযজ্ঞের ফলে বহু শিশু, নারী ও বৃদ্ধ পরিবারবর্গের জীবন বিপন্ন হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, বাড়ি না থাকায় রাতের শীত ও খাদ্য সংকটে বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। শরণার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, দীর্ঘদিনের বসবাস ও সম্প্রদায়ের বন্ধন হঠাৎ ধ্বংস হওয়ায় তাদের সামাজিক ও মানসিক অবস্থা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরাইলি বাহিনীর এই পদক্ষেপকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, এটি শুধুমাত্র ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার লঙ্ঘন করছে না, বরং শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। শিবিরের ধ্বংসযজ্ঞ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং দ্রুত মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা জোরালোভাবে প্রমাণ করছে।
এই ঘটনা ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে বিদ্যমান সংঘর্ষকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। বিশ্ববাসী এই সংকটের সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তবে সামরিক হুমকি ও মানবিক দুর্যোগের চাপে স্থানীয় জনগণ আজও নিরাপদ আশ্রয় ও সাধারণ জীবনযাত্রার জন্য অপেক্ষা করছে।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত