মালদ্বীপে বেগম জিয়ার গায়েবানা জানাজায় প্রবাসীদের ঢল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭০ বার
মালদ্বীপে খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজায় প্রবাসীদের ঢল

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে দেশে-বিদেশে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ঢাকায় অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় মর্যাদাপূর্ণ জানাজার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আয়োজন করা হয় গায়েবানা জানাজা। এরই ধারাবাহিকতায় মালদ্বীপেও অনুষ্ঠিত হয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা, যেখানে অংশগ্রহণ করেন হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি, বিএনপি নেতাকর্মী এবং স্থানীয় নাগরিকরা।

বুধবার ৩১ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় বাদ আসর মালদ্বীপের রাজধানী মালের জাতীয় মসজিদ আল-সুলতান মুহাম্মদ ঠাকুরুফানু আল-আউজামে অনুষ্ঠিত হয় এই গায়েবানা জানাজা। কর্মব্যস্ত প্রবাসজীবনের কঠিন বাস্তবতা উপেক্ষা করে মালদ্বীপের বিভিন্ন দ্বীপ ও শহর থেকে ছুটে আসেন বাংলাদেশিরা। জানাজাস্থলে নেমে আসে এক হৃদয়বিদারক আবেগঘন পরিবেশ। চোখের অশ্রু আর নীরব প্রার্থনায় শোক জানাতে দেখা যায় প্রবাসী নারী-পুরুষ সবাইকে।

জানাজার সারিতে দাঁড়িয়ে অনেকেই স্মরণ করেন বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, তার আপসহীন নেতৃত্ব এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকার কথা। এক সময়ের গৃহিণি থেকে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠার গল্প যেন জানাজার প্রতিটি কাতারে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। অনেক প্রবাসী আবেগভরে বলেন, দূরে থাকলেও বেগম জিয়ার সঙ্গে তাদের আত্মিক সম্পর্ক কখনো ছিন্ন হয়নি।

গায়েবানা জানাজায় অংশ নেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। জানাজা শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, আপসহীন নেতৃত্বের মাধ্যমে বেগম জিয়া একাধিকবার জাতিকে স্বৈরশাসন ও গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন।

হাইকমিশনার আরও বলেন, দেশ ও জাতির প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার গভীর ভালোবাসা এবং দায়বদ্ধতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তার নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগ রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গায়েবানা জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মালদ্বীপ শাখার সভাপতি মো. খলিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলামসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া সাংবাদিক ফোরাম মালদ্বীপের সভাপতি মো. এমরান হোসেন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর ফারুক খোন্দকার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোহেল রানা এবং বাংলাদেশ ফোরাম মালদ্বীপের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

জানাজায় অংশগ্রহণকারী প্রবাসীরা জানান, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন গণতন্ত্রকামী মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। বহু প্রবাসী বলেন, বিদেশের মাটিতে থেকেও দেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে তারা সবসময় তার নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে থেকেছেন।

শোক প্রকাশের অংশ হিসেবে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রাঙ্গণে অর্ধনমিত রাখা হয়েছে জাতীয় পতাকা। একই সঙ্গে বিদেশি কূটনীতিক, মালদ্বীপ সরকারের প্রতিনিধি এবং প্রবাসীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে শোক বই, যেখানে অনেকে বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনুভূতি লিপিবদ্ধ করছেন।

গায়েবানা জানাজার মাধ্যমে মালদ্বীপের প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রমাণ করেছেন, ভৌগোলিক দূরত্ব কখনোই ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বন্ধনকে দুর্বল করতে পারে না। ঢাকার জানাজার সঙ্গে একাত্ম হয়ে তাদের এই আয়োজন যেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিদের সম্মিলিত শোক ও শ্রদ্ধার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বরং এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক গভীর শূন্যতার নাম। মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত এই গায়েবানা জানাজা সেই শূন্যতাকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে, যেখানে প্রবাসীদের চোখের জল, নীরব দোয়া আর স্মৃতিচারণায় ফুটে উঠেছে এক অনন্য রাজনৈতিক জীবনের শেষ বিদায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত