প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
২০২৫ সালটি ফুটবলবিশ্বের জন্য ছিল গোলের বন্যায় ভরা এক স্মরণীয় বছর। ইউরোপ থেকে শুরু করে আমেরিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য—সব মহাদেশেই গোলের ঝড় তুলেছেন তারকারা। তবে সবার ওপরে জায়গা করে নিয়েছেন ফরাসি সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকেই যেন গোল করার নতুন ঠিকানা খুঁজে পেয়েছেন তিনি। সদ্য বিদায়ী বছরে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট নিঃসন্দেহে উঠেছে তার মাথায়।
২০২৪ সালের গ্রীষ্মে প্যারিস সেন্ট জার্মেই ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে পা রাখার সময় এমবাপ্পেকে ঘিরে প্রত্যাশার পাহাড় ছিল। যদিও দলগতভাবে রিয়াল মাদ্রিদ ২০২৫ সালে বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেনি, তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে একক আধিপত্য দেখিয়েছেন এমবাপ্পে। পুরো বছরে রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে মোট ৬৭ ম্যাচ খেলে তিনি গোল করেছেন ৬৬টি। ম্যাচপ্রতি প্রায় এক গোলের এই পরিসংখ্যান তাকে সময়ের অন্যতম ভয়ংকর গোলস্কোরারে পরিণত করেছে।
২০২৫ সালে এমবাপ্পের কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছেন মাত্র একজন ফুটবলার। তিনি ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন। বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ৬৫ ম্যাচ, যেখানে তার গোলসংখ্যা ৬০। জার্মান ফুটবলে নিজের মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটা ২০২৪ সালেই শুরু করেছিলেন কেন, আর ২০২৫ সালে এসে সেটি পূর্ণতা পেয়েছে। ধারাবাহিক গোল করে তিনি প্রমাণ করেছেন, বয়স বাড়লেও তার গোলক্ষুধা একটুও কমেনি।
তৃতীয় স্থানে থাকা আর্লিং হলান্ডের নামও নতুন করে কিছু বলার অবকাশ রাখে না। ম্যানচেস্টার সিটি ও নরওয়ে জাতীয় দলের হয়ে ২০২৫ সালে ৫৫ ম্যাচে ৫৭ গোল করেছেন এই নরওয়েজিয়ান দানব। ইনজুরি ও ব্যস্ত সূচির মাঝেও গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন হলান্ড, যা তাকে বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকারদের কাতারে অটুট রেখেছে।
তবে শীর্ষ চারে থাকা একটি নাম ফুটবলবিশ্বকে চমকে দিয়েছে। পুয়ের্তো রিকোর কেভিন হার্নান্দেজ মাত্র ৩৭ ম্যাচ খেলেই করেছেন ৪৮ গোল। জাতীয় দল ও স্থানীয় ক্লাব আকাদেমিয়া কুইন্তানার হয়ে দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্স তাকে ছাপিয়ে যেতে সাহায্য করেছে অনেক বড় তারকাকে। ইউরোপের আলোচনার বাইরে থেকেও যে গোলদাতারা কতটা কার্যকর হতে পারেন, তার বড় প্রমাণ হার্নান্দেজ।
নাইজেরিয়ার ভিক্তর অসিমহেন ২০২৫ সালে গোলদাতার তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছেন। তুরস্কের গালতাসারেতে খেলে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৫২ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ৪৬। ইনজুরি ও দলবদলের গুঞ্জনের মাঝেও অসিমহেন নিজের গোল করার দক্ষতা ধরে রেখেছেন।
এই গোলদাতাদের তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত দুটি নাম নিঃসন্দেহে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসেও দু’জনই প্রমাণ করেছেন, গোল করার ক্ষুধা বয়সের কাছে হার মানে না। ৩৮ বছর বয়সী লিওনেল মেসি ইন্টার মায়ামি ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ২০২৫ সালে খেলেছেন ৫৪ ম্যাচ। গোল করেছেন ৪৬টি। মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামিকে প্রথমবারের মতো লিগ শিরোপা এনে দেওয়ার পেছনে মেসির এই গোলগুলোই ছিল প্রধান অনুপ্রেরণা।
অন্যদিকে, ৪০ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো সৌদি আরবের আল নাসর ও পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ৪৬ ম্যাচ, যেখানে তার গোলসংখ্যা ৪১। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে গোলের রেকর্ড ভেঙে যাওয়া এই পর্তুগিজ মহাতারকা প্রমাণ করেছেন, বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। গোলের তালিকায় নবম স্থানে থাকলেও তার উপস্থিতিই তালিকাটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
এই তালিকায় আরও একটি উল্লেখযোগ্য নাম গ্রিসের ভ্যাঞ্জেলিস পাভলিডিস। বেনফিকার হয়ে ২০২৫ সালে তিনি খেলেছেন ৭৩ ম্যাচ এবং গোল করেছেন ৪৫টি। ম্যাচসংখ্যা বেশি হলেও গোলের ধারাবাহিকতায় তিনি ছিলেন অসাধারণ। ব্রাজিলের গুইলহের্মে বিসোলি থাইল্যান্ডের বুরিরাম ইউনাইটেডের হয়ে ৬০ ম্যাচে ৪৪ গোল করে তালিকায় অষ্টম স্থানে অবস্থান করছেন।
সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শেষ নামটি পুয়ের্তো রিকোর আরেক ফুটবলার জর্জ রিভেরা। দেশটির ক্লাব ডন বসকোর হয়ে তিনি ২০২৫ সালে ৩৫ ম্যাচ খেলেই করেছেন ৪০ গোল। কম ম্যাচে এত বেশি গোল তাকে আলোচনায় এনে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে ২০২৫ সাল ছিল তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার এক চমৎকার মেলবন্ধনের বছর। এমবাপ্পে, হলান্ড, কেনের মতো তরুণ ও মধ্যবয়সী তারকারা যেমন গোলের রাজত্ব করেছেন, তেমনি মেসি ও রোনালদোর মতো কিংবদন্তিরা প্রমাণ করেছেন, ফুটবল ইতিহাসে তাদের অধ্যায় এখনও শেষ হয়ে যায়নি। তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে সত্য একটাই—২০২৫ সালের গোলের রাজা একজনই, আর তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পে।