ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের দাবিকৃত ৫০০ মৃত্যু: ব্যর্থতায় যুদ্ধবিরতি, বলছে তেহরান

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৯ বার
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের দাবিকৃত ৫০০ মৃত্যু: ব্যর্থতায় যুদ্ধবিরতি, বলছে তেহরান

প্রকাশ: ১২ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে টানটান উত্তেজনার মধ্যেই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধ নিয়ে ইরান প্রথমবারের মতো বিস্তারিত পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধটি শেষ হয়েছে ইসরায়েলের ‘ব্যর্থতা ও বিপর্যয়ের’ মধ্য দিয়ে। সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের মন্তব্য, যেখানে তিনি দাবি করেছেন—ইরানী হামলায় ইসরায়েলের কমপক্ষে ৫০০ জন নিহত হয়েছেন, যা সরকারিভাবে প্রকাশিত তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি।

তেহরানে এক সংসদীয় সভায় কালিবাফ বলেন, “ইসরায়েলের নিরাপত্তা গবেষণা কেন্দ্র থেকে পাওয়া তথ্যমতে, এই যুদ্ধে ইসরায়েলের আহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৫২০ জন ছাড়িয়েছে। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী অন্তত ৫০০ জন নিহত হওয়া অস্বাভাবিক নয়।” তিনি স্পষ্ট করে জানান, সরকারিভাবে প্রকাশিত সংখ্যার আড়ালেই রয়েছে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র।

ইরানি পার্লামেন্ট স্পিকার আরও জানান, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত কোনও উদার রাজনৈতিক উদ্যোগ ছিল না বরং এটি ছিল সরাসরি সামরিক পরাজয়ের স্বীকৃতি। “ইসরায়েল ব্যর্থ হয়েছে। তাদের স্থল ও আকাশপথে প্রতিরক্ষা অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছিল,” মন্তব্য করেন কালিবাফ।

তার ভাষ্যমতে, যুদ্ধের শেষদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্ভুলতার হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। এর ফলে ইসরায়েলের বহু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বিমান প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলো অচল হয়ে পড়ে। কালিবাফ বলেন, “আমরা লক্ষ্যবস্তুর উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলাম, যার ফলে ইসরায়েল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আর সক্ষমতা হারায়।”

এ প্রসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার সমালোচনায় বলেন, “যখন পরোক্ষ আলোচনার কথা চলছিল, তখনই আমেরিকা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এটি কূটনৈতিকতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।” তার অভিযোগ, ওয়াশিংটন আলোচনার মুখোশ পরে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ‘দ্বিমুখী নীতি’ বাস্তবায়ন করেছে।

ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো নেতৃত্বাধীন জোট এই যুদ্ধে ইসরায়েলের পক্ষে সক্রিয় ছিল, কিন্তু তেহরান কেবল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নয়, বরং একটি বৃহৎ পশ্চিমা সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর বিরুদ্ধেই লড়েছে। এরই মধ্যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ‘সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ’ দাবি করেছে যুদ্ধকালীন হামলার জন্য।

গণমানসিকতা গঠনের ক্ষেত্রেও ইরান এক নতুন ধারার কূটনীতি অবলম্বন করছে। কালিবাফ বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত দেশীয় গান ‘বুম বুম তেলআবিব’ এক বিলিয়ন দর্শকের মাইলফলক অতিক্রম করে দেশের সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ ও গণকূটনীতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, “এটি কেবল গান নয়, এটি এক মূল্যবোধের যুদ্ধ—যেখানে ইরান বিজয় অর্জন করেছে।”

এই যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে সামরিক ভারসাম্য, কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ইরান যেখানে আত্মবিশ্বাসের সাথে বিজয়ের গল্প বলছে, সেখানে ইসরায়েল ও পশ্চিমা শক্তিগুলো এখনো তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিসংখ্যান সামনে আনেনি। তবে যে বিষয়টি পরিষ্কার, তা হলো—এই ১২ দিনের সংঘর্ষ মধ্যপ্রাচ্যকে এক নতুন অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত