প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইস্রায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের হিরিসম্পন্ন শহরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ইব্রাহিমী মসজিদের ওপর ফিলিস্তিনিদের কর্তৃত্বকে সরিয়ে নিয়েছে। তেলআবিব থেকে জানা গেছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মসজিদ সম্পর্কিত পরিকল্পনা, নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা ইসরাইলি সংস্থাগুলোর হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনিরা ইব্রাহিমী মসজিদের মর্যাদা ও নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এটি দীর্ঘমেয়াদে স্থানটির ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বে ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র ও প্রবাসী মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেন, পৌরসভা এবং ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার বাতিল করা ইব্রাহিমী মসজিদের আইনি ও ঐতিহাসিক অবস্থার সরাসরি লঙ্ঘন। মন্ত্রণালয় আরও সতর্ক করেছেন, এই ধরনের একতরফা পদক্ষেপ মসজিদটিকে কেবল রাজনৈতিক এবং দখলসংক্রান্ত হুমকির মধ্যে ফেলে নয়, বরং ফিলিস্তিনের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নিদর্শনগুলোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও বিস্তার করতে পারে।
ইব্রাহিমী মসজিদ নবী ইব্রাহিম (আ) এর জন্মস্থান হিসেবে মুসলিমদের জন্য পবিত্র স্থান। একই সঙ্গে ইহুদি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়েরও কাছে এটি গুরুত্ব বহন করে। তাই মসজিদটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানান, ইসরাইলের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা মসজিদে একতরফা নিয়ন্ত্রণ আরোপের পরিকল্পনা করছে এবং এর ফলে স্থানটির ঐতিহাসিক পরিচয় ও ধর্মীয় সমতা বিপন্ন হতে পারে।
সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবহিত করেছে। তারা দাবি করছে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ মসজিদটির ওপর তাদের পরিকল্পিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য প্রমাণ করেছে। মসজিদের উঠোনে ছাদ নির্মাণের ক্ষেত্রে দেওয়া অনুমোদনকে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বেআইনি কাজ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এটি আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের প্রস্তাব এবং দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরাইলের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলেন, মসজিদ সম্পর্কিত এই একতরফা পদক্ষেপ কোনও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নয়, বরং এটি ইসরাইলি দখলদারিত্বকে শক্তিশালী করার একটি প্রচেষ্টা। মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছেন, এমন পদক্ষেপের ফলে মসজিদটির ধর্মীয় চিহ্ন, ঐতিহাসিক স্থিতি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য এর আধ্যাত্মিক মর্যাদা বিপন্ন হবে।
উল্লেখযোগ্য যে, ইব্রাহিমী মসজিদ বহু শতাব্দী ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত। ইতিহাসে এটি বহুবার দখল ও পুনর্নির্মাণের মধ্য দিয়ে এসেছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিশেষভাবে সংবেদনশীল হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ মসজিদটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং আন্তর্জাতিক সহিংসতা ও বিতর্কের সূচনা হতে পারে।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরেও এসেছে। মানবাধিকার সংস্থা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই ইসরাইলের এই পদক্ষেপকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে। তারা মনে করছেন, ফিলিস্তিনিদের কর্তৃত্ব ছিনিয়ে নেওয়া শুধুমাত্র স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য নয়, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় সংবেদনশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলেন, ইসরাইলি সংস্থাগুলোর হাতে কর্তৃত্ব হস্তান্তরের ফলে মসজিদ সম্পর্কিত যেকোনও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সংস্কার বা নির্মাণ কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। এর ফলে ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং মসজিদের সাধারণ ব্যবস্থাপনার ওপর প্রভাব পড়বে।
সংবাদ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইব্রাহিমী মসজিদ ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বের একটি সংবেদনশীল কেন্দ্রীয় স্থান। নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন কেবল ধর্মীয় নয়, বরং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারা বলছেন, এটি ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের সংঘাত ও আন্তর্জাতিক নিন্দার সূচনা করতে পারে।
মসজিদের মুসলিম সম্প্রদায় ও ফিলিস্তিনিরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আপিল জানিয়েছে, যেন তারা ইসরাইলের এই একতরফা পদক্ষেপকে প্রতিহত করে এবং মসজিদের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষা করে। পাশাপাশি তারা বিশ্ব সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছেন, স্থানটির নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের ফলে এটি ধর্মীয় সহিংসতা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার উষ্ণকেন্দ্র হিসেবে পরিণত হতে পারে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বিবৃতি এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার রিপোর্টের আলোকে দেখা যায়, ইব্রাহিমী মসজিদ ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বে একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতের জন্য ফিলিস্তিনিদের অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ঐতিহাসিক স্থিতি রক্ষায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।