বসুন্ধরায় আইনজীবী হত্যায় গ্রেপ্তার জুবায়ের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮৭ বার
বসুন্ধরায় আইনজীবী হত্যায় গ্রেপ্তার জুবায়ের

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারী ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর অভিজাত আবাসিক এলাকা বসুন্ধরায় সড়ক দুর্ঘটনার জেরে আইনজীবী নাঈম কিবরিয়াকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে বারিধারা এলাকা থেকে মো. জুবায়ের নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই অভিযুক্ত জুবায়েরকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে একটি প্রাইভেট কারের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় পাবনা জজ আদালতের শিক্ষানবিশ আইনজীবী নাঈম কিবরিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে নাঈম কিবরিয়াকে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত নাঈম কিবরিয়ার পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একজন তরুণ আইনজীবীর এভাবে প্রাণ হারানোকে আইন পেশার জন্যও একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায় এবং দ্রুত বিচার ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি ওঠে।

ভাটারা থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি নথিভুক্ত হওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হয়। তদন্তের একপর্যায়ে ভিডিও ফুটেজে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. জুবায়েরকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর রোববার রাতে বারিধারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি ইমাউল হক বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার জুবায়ের ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি সরাসরি মারধরের বিষয়ে কী ভূমিকা রেখেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আপাতত প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খুঁজে বের করতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নিহত নাঈম কিবরিয়া পাবনা জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং সম্প্রতি তিনি পাবনা জজ আদালতে শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। সহকর্মীরা জানান, নাঈম ছিলেন শান্ত স্বভাবের ও পরিশ্রমী একজন তরুণ। পেশাগত জীবনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন নিয়ে তিনি ঢাকায় যাতায়াত করতেন। তার এমন আকস্মিক ও নির্মম মৃত্যুতে আইন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও বিভিন্ন আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকেও এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা একে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আইনজীবী নেতারা বলছেন, সড়কে সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা রাজধানীর একটি অভিজাত ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এখানে সহিংস ঘটনার খবর মাঝে মধ্যেই সামনে আসছে। এ ঘটনায় একজন আইনজীবীর মৃত্যু এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়েছে। তারা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কে ছোটখাটো দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বাড়ার পেছনে সামাজিক সহনশীলতার অভাব ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ঘাটতি বড় কারণ। দ্রুত রাগ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং তাৎক্ষণিক বিচারহীনতার সংস্কৃতি এই ধরনের অপরাধকে উসকে দিচ্ছে। তারা মনে করেন, শুধু অপরাধের পর গ্রেপ্তার নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগই পারে এমন ঘটনা কমাতে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার জুবায়েরকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে, যাতে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য বের করা যায় এবং অন্য জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে পুলিশ।

নিহত নাঈম কিবরিয়ার পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার দাবি করেছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, নাঈমের কোনো শত্রু ছিল না এবং তিনি কখনো ঝামেলাপূর্ণ জীবনযাপন করতেন না। একটি আকস্মিক ঘটনায় এভাবে প্রাণ হারানো তাদের কাছে মেনে নেওয়া কঠিন। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা রেখে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রত্যাশা করছেন।

সব মিলিয়ে বসুন্ধরায় আইনজীবী নাঈম কিবরিয়া হত্যার ঘটনা আবারও রাজধানীতে সড়ককেন্দ্রিক সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র সামনে এনেছে। একজন তরুণ আইনজীবীর প্রাণহানি শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও বড় ধরনের ক্ষতি। তদন্তের অগ্রগতি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে এখন তাকিয়ে আছেন নিহতের পরিবার, সহকর্মী এবং সচেতন নাগরিকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত