আইসিটি বিভাগের শ্বেতপত্র প্রকাশ, অনিয়মের খতিয়ান উন্মোচন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৫ বার
আইসিটি বিভাগের শ্বেতপত্র বিস্তারিত সংবাদ

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ সম্প্রতি তার ওয়েবসাইট ictd.gov.bd-এ নতুন শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে। শ্বেতপত্রটি দীর্ঘ অনুসন্ধান, পর্যালোচনা এবং গবেষণার ফলস্বরূপ তৈরি করা হয়েছে। এটি বিগত সরকারের সময় আইসিটি সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং কাঠামোগত সমস্যার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেছে। শ্বেতপত্রের মূল উদ্দেশ্য হলো আগামী দিনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিশ্চিত করা।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই শ্বেতপত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স নিয়োজিত ছিল। টাস্ক ফোর্সটি প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনক্রমে ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল গঠন করা হয়েছিল। মূল লক্ষ্য ছিল আইসিটি বিভাগের বিগত কার্যক্রম, প্রকল্পের ডিপিপি, বিভিন্ন অডিট রিপোর্ট এবং তদন্ত প্রতিবেদন খতিয়ে দেখা। এই বিশ্লেষণ ও তদন্তের ভিত্তিতে শ্বেতপত্রটি চূড়ান্ত রূপে প্রস্তুত করা হয়েছে।

শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, গত দেড় দশকে আইসিটি বিভাগের কর্মকাণ্ডে যথাযথ তদারকি ও স্বচ্ছতার অভাব লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়নে বাজেট ও সময়সীমার উপর নজরদারির ঘাটতি, নিয়মের শিথিল প্রয়োগ এবং কিছু ক্ষেত্রে আর্থিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে প্রায়শই সরকারি চুক্তি ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জটিলতা এবং অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব প্রতিফলিত হয়েছে, যা সেবা প্রাপ্য জনগণের জন্য বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে।

শ্বেতপত্রে ভবিষ্যতে আইসিটি বিভাগের কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং দক্ষ করার জন্য সুস্পষ্ট সুপারিশগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে প্রতিটি প্রকল্পের তদারকি শক্তিশালী করা, চুক্তি ও বাজেট ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, এবং অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিরোধে কার্যকর নিয়মাবলী প্রণয়ন করা। এছাড়া, জনসেবা আরও দক্ষ ও জনবান্ধব করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দিকনির্দেশনাও শ্বেতপত্রে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

আইসিটি বিভাগের উপসচিবরা জানান, শ্বেতপত্রটি শুধুমাত্র অনিয়মের খতিয়ানই নয়, বরং এটি আগামী প্রজন্মের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নীতিমালা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। শ্বেতপত্রের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য হলো জনগণকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ এবং সেবা-উन्मুখ ব্যবস্থার সুবিধা প্রদান করা।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, শ্বেতপত্রটি তৈরি করার প্রক্রিয়ায় টাস্ক ফোর্স দেশজুড়ে বিভিন্ন তথ্যসংক্রান্ত নথি সংগ্রহ, সরকারি প্রকল্প ও কার্যক্রমের অডিট রিপোর্ট পর্যালোচনা এবং প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিবর্গের সাক্ষাৎকার নেয়ার মাধ্যমে বিস্তারিত গবেষণা করেছে। এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তথ্য যাচাই ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা শ্বেতপত্রের তথ্যসমৃদ্ধতা ও বাস্তবতা নিশ্চিত করেছে।

শ্বেতপত্রের প্রকাশ সরকারের পক্ষ থেকে আইসিটি খাতের প্রতি প্রতিশ্রুতি ও দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। এটি একটি সংকেত হিসেবে কাজ করবে যে, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জনগণের আস্থা ও সেবা মান উন্নয়নের জন্য প্রশাসন দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই শ্বেতপত্র কার্যকরভাবে প্রয়োগ হলে আগামী দিনের আইসিটি নীতি ও প্রকল্প পরিচালনার ধারা আরও স্বচ্ছ, দক্ষ এবং ফলপ্রসূ হবে।

তাছাড়া, শ্বেতপত্রে বিগত অনিয়ম ও দুর্নীতি নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশও করা হয়েছে। এতে আইসিটি বিভাগের কর্মীদের মধ্যে নৈতিকতা ও জবাবদিহিমূলক সংস্কার বৃদ্ধিতে সহায়তা মিলবে। এছাড়া, শ্বেতপত্রে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, ডিজিটালাইজেশন, সাইবার নিরাপত্তা ও সরকারি অনলাইন সেবার মান বৃদ্ধি সম্পর্কেও সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

পর্যালোচকরা বলছেন, শ্বেতপত্রের প্রকাশ একদিকে জনগণকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন করবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে আইসিটি বিভাগের নীতি নির্ধারণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারে।

সরকার আশা করছে, এই শ্বেতপত্রের মাধ্যমে আইসিটি খাতে স্বচ্ছতা, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। শ্বেতপত্রের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হলে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জনগণের সেবা গ্রহণের মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত