কোচ নন, ভবিষ্যতে ক্লাব মালিক হিসেবেই নিজেকে দেখেন মেসি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮ বার
কোচ নয়, ক্লাব মালিক মেসি

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে মাঠে নিজের প্রতিভা, ধারাবাহিকতা ও নেতৃত্বগুণ দিয়ে বিশ্ব ফুটবলে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই তার অবসরের পরের জীবন নিয়েও ভক্ত-সমর্থকদের কৌতূহলের শেষ নেই। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, খেলোয়াড়ি অধ্যায় শেষ হলে মেসি হয়তো কোচিং পেশায় যুক্ত হবেন, যেমনটা করেছেন অসংখ্য কিংবদন্তি ফুটবলার। কিন্তু সেই ধারণায় স্পষ্ট বিরতি টানলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা নিজেই। মেসি জানিয়ে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোচ হিসেবে নিজেকে দেখছেন না তিনি। বরং ক্লাব মালিক হয়ে ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত থাকার চিন্তাটাই তার কাছে বেশি আকর্ষণীয়।

আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় স্ট্রিমিং চ্যানেল লুজু টিভিকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নিজের ভাবনা খোলামেলা ভাবে তুলে ধরেন মেসি। সেখানে তিনি বলেন, কোচ বা ম্যানেজার হওয়ার ধারণা তার কাছে পুরোপুরি অচেনা নয়, তবে সেটি তাকে টানে না। মেসির ভাষায়, তিনি নিজেকে কখনোই কোচ হিসেবে কল্পনা করতে পারেন না। বরং নিজের একটি ক্লাব থাকবে, যেটিকে শূন্য থেকে গড়ে তোলা যাবে—এই চিন্তাটাই তাকে বেশি অনুপ্রাণিত করে।

মেসি বলেন, “আমি নিজেকে কোচ হিসেবে দেখি না। ম্যানেজার হওয়ার ভাবনাটা খারাপ না, কিন্তু মালিক হওয়ার ধারণাটাই আমার বেশি ভালো লাগে। আমি চাই, আমার নিজের একটি ক্লাব থাকুক। একেবারে নিচ থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে সেটিকে বড় করে তুলতে চাই। শিশু ও তরুণদের উন্নতির সুযোগ তৈরি করতে পারলে, তাদের সামনে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের পথ খুলে দিতে পারলে সেটাই হবে সবচেয়ে অর্থবহ কাজ।” তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট, ফুটবল থেকে পুরোপুরি সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই তার, তবে ভূমিকার ধরনটা হবে ভিন্ন।

বর্তমানে ইন্টার মায়ামির হয়ে এমএলএসে খেলছেন মেসি। সম্প্রতি তিনি ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সালের মৌসুম পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। অর্থাৎ, আরও কয়েক বছর সবুজ মাঠে তাকে দেখা যাবে। এই সময়টাতে নিজের খেলোয়াড়ি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ধীরে ধীরে ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও সাজিয়ে নিচ্ছেন তিনি। মাঠের বাইরে মেসির যে উদ্যোগগুলো ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে, সেগুলো দেখলেই বোঝা যায়—ক্লাব মালিকানা ও অবকাঠামো গড়ে তোলার চিন্তা কেবল কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

এরই মধ্যে মেসি ক্লাব মালিক হিসেবেও নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সতীর্থ লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে অংশীদার হয়ে তিনি উরুগুয়ের চতুর্থ ডিভিশনের একটি ক্লাব পরিচালনা করছেন। ক্লাবটির নাম ডিপোর্তিভো এলএসএম, যা এসেছে লুইস সুয়ারেজ ও লিওনেল মেসির নামের আদ্যক্ষর থেকে। এই উদ্যোগ ফুটবলবিশ্বে বেশ সাড়া ফেলেছে। কারণ, এটি কোনো বড় বিনিয়োগ গোষ্ঠীর প্রকল্প নয়; বরং দুই ফুটবলারের ব্যক্তিগত স্বপ্ন ও আবেগের ফসল।

ডিপোর্তিভো এলএসএম ক্লাবটিতে বর্তমানে প্রায় ৮০ জন কর্মী কাজ করছেন। সদস্য সংখ্যা তিন হাজারের কাছাকাছি। সুয়ারেজ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এই ক্লাব তার বহুদিনের স্বপ্ন। ২০১৮ সাল থেকেই তিনি এমন একটি প্রকল্পের কথা ভাবছিলেন, যেখানে উরুগুয়ের শিশু ও কিশোরদের ফুটবলে বেড়ে ওঠার জন্য সঠিক সুযোগ ও কাঠামো দেওয়া যাবে। তিনি বলেন, উরুগুয়ের ফুটবল তার হৃদয়ের খুব কাছের, কারণ এখানেই তার শৈশব কেটেছে। তাই দেশের নতুন প্রজন্মের জন্য কিছু করতে পারাটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার প্রসঙ্গে মেসিও নিজের অনুভূতির কথা জানান। তিনি বলেন, “লুইস আমাকে এই যাত্রায় সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছে—এটা ভেবে আমি গর্বিত এবং আনন্দিত। আমি চাই, এই ক্লাবটিকে আরও এগিয়ে নিতে যা যা করা দরকার, তার সবকিছুতেই অবদান রাখতে। সবচেয়ে বড় কথা, এই পথচলায় আমি লুইসের পাশে থাকতে চাই।” এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, মেসির কাছে এটি কেবল একটি বিনিয়োগ নয়; বরং বন্ধুত্ব, বিশ্বাস ও ভবিষ্যতের স্বপ্নের এক সম্মিলিত রূপ।

শুধু ক্লাব মালিকানাই নয়, তরুণ প্রতিভা গড়ে তোলার দিকেও বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছেন মেসি। তারই অংশ হিসেবে সম্প্রতি তিনি চালু করেছেন ‘মেসি কাপ’। এটি অনূর্ধ্ব-১৬ বয়সভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক যুব ফুটবল টুর্নামেন্ট। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের একাডেমি দলকে এক মঞ্চে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মায়ামিতে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে আটটি দেশের একাডেমি দল অংশ নেয়, যা তরুণ ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের দারুণ সুযোগ তৈরি করেছে।

ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত মেসি কাপের প্রথম আসর ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফাইনালে স্প্যানিশ ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রিভার প্লেটের যুব দল। এই আয়োজন নিয়ে ফুটবল মহলে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতে এই টুর্নামেন্ট বিশ্ব যুব ফুটবলে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হতে পারে।

এদিকে, মাঠের ফুটবলেও আপাতত পূর্ণ মনোযোগ মেসির। ইন্টার মায়ামি এমএলএস কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। নতুন মৌসুমে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়ে দলটি প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২১ ফেব্রুয়ারি লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচ দিয়ে নতুন মৌসুম শুরু করবে ইন্টার মায়ামি। এই ম্যাচ ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে আগ্রহের কমতি নেই, কারণ মেসির পারফরম্যান্সই দলের সাফল্যের বড় চাবিকাঠি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বেশ স্পষ্ট। কোচিংয়ের চাপ, ডাগআউটের কৌশল আর প্রতিদিনের মিডিয়া সমালোচনার ভিড়ে নিজেকে আটকে রাখতে চান না তিনি। বরং ফুটবলের প্রতি নিজের ভালোবাসাকে ভিন্ন এক রূপ দিতে চান—যেখানে তিনি হবেন পথপ্রদর্শক, বিনিয়োগকারী ও স্বপ্নদ্রষ্টা। শিশু ও তরুণদের জন্য সুযোগ তৈরি করা, একটি ক্লাবকে ধাপে ধাপে বড় করে তোলা এবং ফুটবলের সামাজিক শক্তিকে কাজে লাগানো—এই লক্ষ্যগুলোই যেন মেসির অবসরোত্তর জীবনের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত