মেহেরপুরে শৈত্যপ্রবাহে হাসপাতাল ভর্তি রোগীর চাপ বৃদ্ধি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৩ বার
মেহেরপুরে শৈত্যপ্রবাহে হাসপাতাল ভর্তি রোগীর চাপ বৃদ্ধি

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মেহেরপুরে শৈত্যপ্রবাহের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। আবহাওয়ার তীব্র পরিবর্তনের ফলে সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, বঙ্কালাইটিস, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট এবং ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগে ভুগছেন রোগীরা। মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল বর্তমানে ধারণ ক্ষমতার তিনগুণ রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা দিচ্ছে, যা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, পুরুষ বিভাগের ৩০ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে ৭৩ জন রোগী ভর্তি আছেন। গাইনি বিভাগে ৩৫ শয্যায় ৬৫ জন রোগী, শিশু ও মহিলা সার্জারি বিভাগের ৪০ শয্যায়ও দ্বিগুণ রোগী ভর্তি রয়েছেন। ডায়রিয়া বিভাগের রোগীর সংখ্যা মাত্র ধারন ক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মোট ১০০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে ৩২০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে অনেক রোগী শয্যা না পেয়ে হাসপাতালের বারান্দা, মেঝে বা অন্যান্য খোলা স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যার ফলে সুস্থ হতে এসে কিছু রোগী আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শীতে ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য গরম কাপড় ব্যবহার করা এবং পর্যাপ্ত গরম পানি পান করা জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে দ্রুত খাবার, স্যালাইন গ্রহণ এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ কামিজ নাইমা বলেন, “শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা করা চলবে না। দ্রুত স্যালাইন ও চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুর জীবন রক্ষা সম্ভব।”

হাসপাতালের পাশাপাশি দৈনিক প্রায় হাজারখানেক রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বহির্বিভাগের রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। শীতে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকায় প্রতিদিন নতুন রোগীর আগমন অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেন, “প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী এবং পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। রোগীর চাপ সামলাতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, শীত ও স্বাস্থ্যসেবা সীমিত হওয়ার কারণে অনেকেই শারীরিক কষ্ট সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছেন। কিছু পরিবার জটিল অবস্থায় হাসপাতালে ছুটছেন, এবং স্থান সংকটের কারণে শিশু ও বয়স্করা ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। শীতে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে মেহেরপুরে সম্প্রতি সরকারী ও বেসরকারি উদ্যোগে গরম কাপড়, স্যালাইন ও সাধারণ ঔষধ বিতরণের ব্যবস্থা করা হলেও তা রোগীর সংখ্যা সামলাতে যথেষ্ট নয়।

চিকিৎসকরা আরও বলেছেন, ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে ঘরে বিশ্রাম, যথেষ্ট পানি পান, গরম খাদ্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষত শিশু, বৃদ্ধ ও শ্বাসকষ্ট রোগীদের ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা না নিলে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক বলেন, “আমরা প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে মানিয়ে চলতে হিমশিম খাচ্ছি। শীতের কারণে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আমাদের স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। সরকারী পর্যায়ে আরও সহায়তার আবেদন করা হয়েছে। জনসাধারণকেও গরম কাপড়, স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানাই।”

বর্তমানে মেহেরপুরে শৈত্যপ্রবাহ চলমান, এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই স্থানীয় জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, শিশু ও বৃদ্ধদের বিশেষ যত্ন নেওয়া এবং চিকিৎসকের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই পরিস্থিতি বিশেষত শিশুদের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ। কমবয়সী শিশুরা দ্রুত ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হতে পারে, যা সময়মতো চিকিৎসা না পেলে মারাত্মক হতে পারে। অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত তরল, হালকা খাদ্য এবং গরম কাপড় ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।

মেহেরপুর জেলার স্বাস্থ্য বিভাগও ইতোমধ্যেই রোগীর চাপ মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের সংখ্যা বাড়ানো, জরুরি ঔষধ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং রোগীদের তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তবে এ ধরনের শীতকালীন রোগপ্রবণতা সামলাতে আরও সম্পূর্ণ প্রস্তুতি ও জনসচেতনতা অপরিহার্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত