প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ শুক্রবার দেশের প্রধান তেল কোম্পানিগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কোম্পানিগুলোর সমর্থন আদায় করা। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্রাম্পের আশা, আগামী কয়েক বছর ধরে ভেনেজুয়েলার জ্বালানি সম্পদ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। ৩ জানুয়ারি এক ঝটিকা সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে। ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভিট জানিয়েছেন, “এই মুহূর্তে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের ওপর ওয়াশিংটনের সর্বোচ্চ মাত্রার প্রভাব রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা দেশটির তেল শিল্পকে কার্যত নিয়ন্ত্রণ করছি।” এছাড়া জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, “ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিয়ন্ত্রণ করবে।”
তবে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, তার সরকার এখনও ক্ষমতায় আছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি কেবল তেলের বিক্রির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে।
এনবিসি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, বৈঠকে এক্সন মবিল, শেভরন এবং কনোকোফিলিপসের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লিভিট জানিয়েছেন, “এটি মূলত আলোচনামূলক বৈঠক, যেখানে তেল কোম্পানিগুলোর জন্য বর্তমানে যে বিশাল সুযোগ রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হবে।”
বর্তমানে শেভরনই একমাত্র মার্কিন কোম্পানি যা ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম চালানোর লাইসেন্সপ্রাপ্ত। অন্যদিকে এক্সন মবিল ও কনোকোফিলিপস ২০০৭ সালে দেশটি ত্যাগ করেছিল। সে সময় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের দাবি অনুযায়ী স্থানীয় কার্যক্রমের বেশিরভাগ মালিকানা সরকারকে হস্তান্তর করার শর্তে তারা রাজি হয়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ মার্কিন ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৌশলগত সুবিধা মিলতে পারে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যের ওঠাপড়া এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণ হতে পারে।
ট্রাম্পের এই বৈঠক এবং সাম্প্রতিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র তেল শিল্প নিয়ন্ত্রণ নয়, এটি একটি কৌশলগত এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অংশ। বৈঠকের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে মার্কিন কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ আরও দৃঢ় হতে পারে।
বৈঠক শেষে ট্রাম্প ও তেল কোম্পানিগুলোর নেতারা সম্ভাব্য নীতি ও কৌশল নিয়ে আলোচনা করবেন, যা ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন ও রপ্তানির কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈঠকের ফলাফল ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের নিয়ন্ত্রণ ও মার্কিন কৌশলগত স্বার্থে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক এ পরিস্থিতিতে স্পষ্ট যে, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর নিজেদের প্রভাব বিস্তারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৈঠকটি শুধু কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা নয়, এটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মার্কিন প্রভাবকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।