বিসিবি পরিচালক তামিমকে ‘ভারতীয় দালাল’ মন্তব্য

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৪ বার
তামিম ইকবাল বিসিবি বিতর্ক মন্তব্য

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলাম। এই মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে করা হলেও, পরে তা মুছে ফেলা হয়েছে। তবে স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা ও আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলাম বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পেজে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করেন, যেখানে তামিমের ছবি সংবলিত এবং ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘এইবার আরো একজন পরিক্ষিত ভারতীয় দালাল এর আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখলো।’ যদিও বর্তমানে স্ট্যাটাসটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে সামাজিক মাধ্যমে তার প্রভাব এখনও দৃশ্যমান।

এ ঘটনার পটভূমিতে বৃহস্পতিবার সিটি ক্লাবে জিয়া ইন্টার ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ট্রফি ও জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে তামিম ইকবালও বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তামিম উল্লেখ করেন, ‘আমাদের অর্থের প্রায় ৯০-৯৯ শতাংশ আয় আসে আইসিসি থেকে। তাই সবকিছু চিন্তা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি ‍হুটহাট সিদ্ধান্তটা নিয়েন না। আর হুটহাট সিদ্ধান্তের চেয়েও বড় কথা হলো আপনি এ রকম পাবলিকলি কমেন্ট করে ফেলেন। বিভিন্ন ডিরেক্টর বিভিন্নভাবে কমেন্ট করছেন, এতে এক ধরনের আনসার্টেন্সি খামাখা তৈরি হয়ে যায়। আমি শিউর ওখানে যোগ্য লোকজন আছেন। বাংলাদেশের গভর্নমেন্টের যারা আছেন, তারা নিজেদের ইন্টার্নালি একটা ডিসিশন নিয়ে ফাইনাল ভার্ডিক্ট সবার সামনে আনা উচিত।’

বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলাম যে স্ট্যাটাসটি করেছিলেন, তা ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি করেছে। অনেকেই তার মন্তব্যের পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন, আবার অনেকে তীব্র সমালোচনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তামিম ইকবালের প্রতি সমর্থন ও বিতর্কমূলক মন্তব্যের কারণে ক্রিকেট মহলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কের প্রতি এমন মন্তব্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি বিসিবির ভাবমূর্তিকেও প্রভাবিত করতে পারে।

তামিমের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি গণমাধ্যম ও জনসাধারণের সামনে বিতর্কিত মন্তব্য না করে বিষয়গুলো অভ্যন্তরীণভাবে সমাধান করার পক্ষে। তিনি এও মন্তব্য করেছেন যে, দেশের ক্রিকেট এবং আইসিসির সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় সঠিক ও সুপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। তামিম ইকবালের সতর্ক বার্তা ক্রিকেট প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিসিবির এই বিতর্কিত মন্তব্য এবং তামিমের প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জাতীয় ক্রিকেটের দায়িত্বশীলতা, নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কের প্রতি ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিতর্কিত মন্তব্যের চেয়ে ক্রিকেট প্রশাসনকে স্থিতিশীল ও পেশাদারিভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

এ ঘটনায় ক্রিকেট ভক্ত, বিশ্লেষক এবং সাংবাদিকরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। অনেকে মনে করছেন, বিষয়টি প্রকাশ্যেই তোলার চেয়ে অভ্যন্তরীণভাবে সমাধান করা উত্তম ছিল। অন্যদিকে, কিছু সমর্থক নাজমুলের মন্তব্যকে ‘সত্যের প্রকাশ’ হিসেবে দেখছেন। তবে তামিমের যুক্তিসঙ্গত এবং সমন্বিত বক্তব্য সামাজিক ন্যায্যতার দিক থেকে সমর্থন পাচ্ছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে সাবেক অধিনায়কের সাথে এমন বিতর্ক নতুন নয়, কিন্তু তা জাতীয় দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার সম্ভাবনা রাখে। এজন্য ক্রিকেট প্রশাসনকে সকলের সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে উদগ্রীব থাকতে হবে। ক্রিকেটভক্তরা আশা করছেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে এবং জাতীয় দলের মনোবল অক্ষুণ্ণ থাকবে।

এই ঘটনায় একবারে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, ক্রিকেট নিয়ে কথা বলার সময় সাবধানতা অবলম্বন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাজমুলের মন্তব্যে ক্রিকেট প্রশাসন ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কের মধ্যে মতানৈক্য প্রকাশ পেয়েছে, যা সমাধান করা জরুরি। তামিম ইকবাল তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে বজায় রাখতে এবং আইসিসির সঙ্গে সংযোগ রক্ষায় দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত