মিটফোর্ডের হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিক রঙ দেয়ার চেষ্টা করছে কিছু পক্ষ : রিজভী

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫
  • ৩১ বার
মিটফোর্ডের হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিক রঙ দেয়ার চেষ্টা করছে কিছু পক্ষ : রিজভী

প্রকাশ: ১২ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার (১২ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় এক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে রিজভী বলেন, “মিটফোর্ডে যে হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। তবে এটিকে ঘিরে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

রিজভী আহমদ বলেন, “এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের মধ্যে কয়েকজনের নাম বিএনপির অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছি। তাদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক পরিবার। মাঝে মাঝে কিছু দুষ্কৃতিকারী প্রবেশ করতে পারে, তবে দলীয় নীতির বাইরে গিয়ে কেউ যদি অপকর্মে লিপ্ত হয়, তাহলে তাকে কোনভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “একটি রাজনৈতিক দলের ভেতরে যদি কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়, তাহলে সেটি দমন করার জন্য দলীয় নেতৃত্বের সদিচ্ছা থাকতে হয়। বিএনপি সেই দায়িত্ব নিতে কখনো কার্পণ্য করেনি। তারেক রহমান নিজেও এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন।”

এ সময় তিনি সরকারি দলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বলেন, “আপনারা দেখেছেন, শেখ হাসিনার আমলে অসংখ্য হত্যাকাণ্ড, গুম, অপহরণ ঘটেছে। কেউ বিচার পায়নি। সরকার সেসব ঘটনায় নির্লিপ্ত থেকেছে। অথচ বিএনপি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার সঙ্গে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছে। তাহলে এখনও কিছু রাজনৈতিক দল কেন মিছিল করছে? কেন দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে? এটা কি রাজনীতির নামে বিভ্রান্তি ছড়ানো নয়?”

রিজভী আহমেদ মনে করেন, ঘটনাটি মূলত ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে ঘটেছে, এর সঙ্গে দলীয় আদর্শ বা রাজনৈতিক কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক নেই। তার ভাষায়, “ঘটনার মূলে রয়েছে ভাঙাড়ি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ। যারা এতে জড়িত, তারা হয়তো কারও সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক রাখে, কিন্তু হত্যাকাণ্ডের উৎস একান্তই ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বন্দ্ব। এখানে দলের নাম টেনে রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে হেয় করার অপচেষ্টা হচ্ছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “যারা এখন বিএনপিকে দোষারোপ করছে, তাদের অতীতও সাধারণ মানুষের অজানা নয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বিনোদপুর, কিংবা দেশব্যাপী ছাত্রদের ওপর চালানো বর্বরতা মানুষ এখনো ভুলে যায়নি। যেসব দলের নেতা-কর্মীরা এসব ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিল, তারাই এখন বিএনপির বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বলছে। এটা কি দ্বিচারিতা নয়?”

রিজভী আরও বলেন, “এখন রাজনীতিতে শিষ্টাচার নেই, দায়িত্ব নেই, আছে শুধু প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার প্রতিযোগিতা। এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। আমরা চাচ্ছি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চা। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তা যে দলেরই হোক না কেন, দলকে দায়িত্ব নিতে হবে। বিএনপি সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”

তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তারা যত শক্তিশালীই হোক না কেন, মাটির নিচে থাকলেও খুঁজে বের করুন। তাদের আইনের আওতায় আনুন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন। যেন ভবিষ্যতে কেউ আর এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে রিজভী একদিকে দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করেছেন, অপরদিকে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপিকে কেন্দ্র করে যে নেতিবাচক প্রচার চালানো হচ্ছে তা প্রতিহত করার বার্তাও দিয়েছেন। বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে যেখানে সংঘাত ও হিংস্রতা বেড়ে চলেছে, সেখানে এমন সোজাসাপ্টা অবস্থান অনেককেই ভাবিয়ে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি কতটা রাজনৈতিকভাবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়, আর সরকার পক্ষ এর বিরুদ্ধে কতটুকু রাজনৈতিক সুযোগ নিতে চেষ্টা করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত