২০২৬ সালে চূড়ান্ত হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া এফটিএ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৫ বার
২০২৬ সালে চূড়ান্ত হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া এফটিএ

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ চলতি বছরের মধ্যেই চূড়ান্ত করার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও সম্প্রসারণ ও বহুমুখী করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী বলেছেন, আলোচনাটি জটিল হলেও লক্ষ্য দ্রুততম সময়ে সমাধান করা।

মহামান্য হাইকমিশনার জানান, কয়েক বছর আগে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ঢাকা সফরের পর আলোচনায় নতুন গতি এসেছে। দুই দেশ ইতিমধ্যেই চুক্তির নীতিগত শর্তাবলী নিয়ে একমত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া, তাই কিছুটা সময় লাগছে। তবে আমাদের লক্ষ্য হলো এই চুক্তি যত দ্রুত সম্ভব চূড়ান্ত করা।’

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩.৩৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত, যা আগের বছরের তুলনায় ৫.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

দুই দেশের প্রধান বাণিজ্য খাতগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে রপ্তানি হয় পেট্রোলিয়াম পণ্য, পাম অয়েল ও রাসায়নিক দ্রব্য, আর বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয় তৈরি পোশাক (টেক্সটাইল), জুতা, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও অন্যান্য পণ্য। হাইকমিশনার চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে শুধুমাত্র শ্রমিক রপ্তানির সঙ্গে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা আমরা করছি না। মানবসম্পদ খাতে আমাদের সম্পর্ক ইতিমধ্যেই সন্তোষজনক হলেও আমরা এখন ডিজিটাল প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং অন্যান্য আধুনিক খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছি।’

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন, যা দেশটিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদেশি শিক্ষার্থী গোষ্ঠী। এছাড়া বাংলাদেশের শিক্ষকরাও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। হাইকমিশনার আরও জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে আনোয়ার ইব্রাহিমের ঢাকা সফর এবং ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালয়েশিয়া সফর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

সাক্ষাৎকারে তিনি আরও আশ্বস্ত করেছেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও নতুন সরকার যাই গঠন করুক না কেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি অনুযায়ী মালয়েশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবে। হাইকমিশনার আশা প্রকাশ করেছেন, দুই দেশের ৫৪ বছরের অটুট বন্ধুত্ব আগামীতে আরও বহুমুখী ও অর্থবহ হবে, যা উভয় দেশের অর্থনীতি ও জনগণের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া এফটিএ চূড়ান্ত হলে এটি কেবল বাণিজ্যিক লেনদেন বাড়াবে না, বরং প্রযুক্তি, শিক্ষা, বিনিয়োগ ও অন্যান্য আধুনিক খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও দৃঢ় হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও খাদ্যপণ্য মালয়েশিয়ার বাজারে আরও সহজলভ্য হবে, আর মালয়েশিয়ার পেট্রোলিয়াম ও রাসায়নিক পণ্য বাংলাদেশের শিল্পখাতে সরবরাহ বাড়াবে।

হাইকমিশনার চৌধুরীর বক্তব্যে প্রকাশিত হয়েছে যে, বাংলাদেশ এই চুক্তি দিয়ে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বই নয়, পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এফটিএর মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা।’

মোটের উপর, চলতি বছর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার মধ্যে এফটিএ চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন দিগন্তে পৌঁছে দিতে পারে। এটি ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ, শিক্ষাক্ষেত্র ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে, যা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মান আরও শক্তিশালী করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত