সর্বশেষ :

ছুটির দিনে জমজমাট বাণিজ্য মেলা, বেচাকেনায় প্রাণচাঞ্চল্য

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৯৭ বার
ছুটির দিনে জমজমাট ঢাকা বাণিজ্য মেলা

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিসিএফসি) আয়োজিত ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসর ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। মাসব্যাপী এই বৃহৎ বাণিজ্য আয়োজনের প্রথম শুক্রবারে দর্শনার্থীদের ঢল নামায় পুরো মেলা প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও শিশুদের নিয়ে দর্শনার্থীরা মেলায় আসতে শুরু করেন, আর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও ঘন হয়ে ওঠে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, ছুটির দিনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাজধানীসহ আশপাশের জেলা থেকেও অনেকে এসেছেন এই বাণিজ্য মেলায়। অনেকেই সকালেই প্রবেশ করেছেন, আবার কেউ কেউ বিকেলের পর মেলায় আসার পরিকল্পনা করেছেন। বিশেষ করে শিশুদের বিনোদন ও কেনাকাটার আনন্দ দিতে অভিভাবকরা বেশ উৎসাহ নিয়েই মেলায় হাজির হচ্ছেন।

এবারের মেলায় পণ্যের বৈচিত্র্য দর্শনার্থীদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কাশ্মীরি শাল, নান্দনিক জামা-কাপড়, হাতবোনা কার্পেট, তুর্কি মোজাইক, ঝলমলে ল্যাম্প এবং রঙিন ঘর সাজানোর সামগ্রী ক্রেতাদের নজর কেড়েছে সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে শীত মৌসুম হওয়ায় কাশ্মীরি শাল ও উষ্ণ পোশাকের স্টলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। অনেকেই বলছেন, বাজারের তুলনায় মেলায় নকশা ও মানের দিক থেকে পণ্যে ভিন্নতা রয়েছে, যা তাদের আকৃষ্ট করছে।

নারী দর্শনার্থীদের মধ্যে অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্রের দোকানগুলো বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আধুনিক ডিজাইনের হালকা ও টেকসই রান্নার সামগ্রী অনেকেই কিনে নিচ্ছেন। এক ক্রেতা জানান, “মেলায় একসঙ্গে অনেক ধরনের পণ্য দেখা যায়, দরদামও করা যায়। তাই ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে আসাটা আনন্দের।”

এদিকে সময়ের চাহিদা ও জ্বালানি সংকটের বাস্তবতায় ইলেকট্রিক বাইকের স্টলগুলোও হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। রাজধানীর যানজট এড়াতে এবং জ্বালানির বিকল্প হিসেবে অনেকেই এই বাইকগুলোকে ব্যবহারযোগ্য সমাধান হিসেবে দেখছেন। ফলে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ইলেকট্রিক বাইকের স্টলগুলোতে সারাক্ষণ ভিড় লেগে থাকতে দেখা গেছে। কেউ বাইকের ফিচার সম্পর্কে জানতে চাইছেন, কেউ আবার বুকিং দিচ্ছেন। বিক্রেতারা বলছেন, আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার ইলেকট্রিক বাইক নিয়ে আগ্রহ অনেক বেশি।

মেলার প্রথম কয়েক দিনে প্রত্যাশিত বেচাকেনা না হলেও প্রথম ছুটির দিনে দর্শনার্থীর ভিড়ে নতুন করে আশার আলো দেখছেন ব্যবসায়ীরা। স্টল মালিকরা বলছেন, সপ্তাহের কর্মদিবসে অনেকেই সময় বের করতে পারেন না। শুক্রবার ছুটির দিনে মানুষ পরিবার নিয়ে বের হয়, তখন মেলায় কেনাকাটার প্রবণতাও বাড়ে। তাই আজকের দিনটি তাদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন স্টলে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ ছাড় ও অফার। কোথাও পণ্যের দামে ছাড়, কোথাও উপহার সামগ্রী—সব মিলিয়ে বিক্রি বাড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। একজন স্টল প্রতিনিধি বলেন, “আজ ভিড় দেখে আমরা আশাবাদী। সামনে আরও কয়েকটি ছুটির দিন আছে, তখন বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছি।”

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, মাসব্যাপী এই বাণিজ্য মেলার শুরুটা ধীর হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেচাকেনা গতি পায়—এটাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের ছুটি, সাপ্তাহিক বন্ধ ও শীতের মৌসুম একসঙ্গে থাকায় দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়বে বলে তারা বিশ্বাস করছেন।

দর্শনার্থীরাও মেলার পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিস্তৃত জায়গা, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাফেরা করা যাচ্ছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেন। শিশুদের জন্য আলাদা বিনোদন ব্যবস্থা থাকায় অভিভাবকরাও স্বস্তি পাচ্ছেন।

আয়োজক সূত্র জানায়, দেশীয় শিল্প ও পণ্যের প্রচার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং উদ্যোক্তাদের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরির লক্ষ্যেই এই বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে এবারের আসরে, যা দর্শনার্থীদের জন্য পণ্যের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করছে।

পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত এই ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। আয়োজক ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, দিন যত এগোবে ততই বাড়বে দর্শনার্থী ও ক্রেতার সংখ্যা, আর বাণিজ্য মেলা হয়ে উঠবে আরও প্রাণবন্ত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com