ইসলামি মূল্যবোধের ভিত্তিতেই রাজনীতি করবে বিএনপি: ইশরাক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬০ বার
বিএনপি: ইশরাক

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইসলামি মূল্যবোধকে রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি হিসেবে ধারণ করেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আগামী দিনের রাজনীতি পরিচালনা করবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, ইসলামি আদর্শ ও গণতান্ত্রিক চেতনার সমন্বয়েই একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে বিএনপি রাজনীতি করে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানার পাশের মিল ব্যারাকে আল ইশতেহার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আলেম-ওলামা, বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ইশরাক হোসেন তার বক্তব্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে ইসলামি মূল্যবোধকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ সংযোজনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মীয় বিশ্বাস ও জনগণের মূল্যবোধকে সম্মান জানানোর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

ইশরাক বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে আদর্শ রেখে গেছেন, বেগম খালেদা জিয়া সেই আদর্শকে সামনে রেখেই রাজনীতি করেছেন। আজ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি সেই একই পথ অনুসরণ করছে। ইসলামি মূল্যবোধ, জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্র—এই তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়েই বিএনপির রাজনীতি।”

অনুষ্ঠানে সম্প্রতি নিহত শরীফ ওসমান বিন হাদির আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, শরীফ ওসমান বিন হাদি ছিলেন একজন সাহসী, নীতিবান ও আদর্শনিষ্ঠ তরুণ দেশপ্রেমিক। তার আত্মত্যাগ শুধু একটি ব্যক্তিগত ঘটনা নয়, বরং তা জাতির বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো এক অনন্য উদাহরণ।

ইশরাক বলেন, “শরীফ ওসমান বিন হাদির মতো মানুষরা ইতিহাসে অমর হয়ে থাকেন। তার সাহস ও আত্মত্যাগ আমাদের রাজনীতিতে যুগের পর যুগ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন তার দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ স্মরণ করা হবে।”

রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশ একটি ফ্যাসিবাদী ও আধিপত্যবাদী শাসনের মধ্যে ছিল। তার ভাষায়, এই সময়কালে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দেশকে একটি পরনির্ভরশীল ও দাস রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “একটি শক্তি দীর্ঘদিন ধরে জনগণের মতামত উপেক্ষা করে ক্ষমতা আঁকড়ে রেখেছিল। কিন্তু জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ সেই শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই একটি নতুন, গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।”

বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতি সম্পর্কে ইশরাক হোসেন বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–এর আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করেই দলটি আগামী দিনে দেশ পরিচালনার রাজনীতি করবে। তিনি বলেন, ইসলামি মূল্যবোধ মানেই কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ন্যায়বিচার, মানবিকতা, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও সামাজিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার দর্শন।

স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, ঢাকা-৬ আসনের জনগণের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। নাগরিক সুবিধা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান—এসব খাতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা বা দালান নয়। মানুষের জীবনমান উন্নত করাই আসল উন্নয়ন। জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই এলাকার সমস্যার সমাধানে কাজ করা হবে।”

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপির নেতাদের বক্তব্যে ইসলামি মূল্যবোধ, জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্রের সমন্বয় নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। এতে দলটির মূল সমর্থকগোষ্ঠীর পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মাঝেও একটি আদর্শিক বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা স্পষ্ট।

সব মিলিয়ে, ইশরাক হোসেনের বক্তব্য বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা এবং আদর্শিক অবস্থানকে আরও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত