ইসলামে সন্তানের জন্য সুন্দর নাম রাখার গুরুত্ব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৩ বার
ইসলামে সন্তানের জন্য সুন্দর নাম রাখার গুরুত্ব

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান, যা মানুষের প্রতিটি দিকের জন্য সঠিক দিশা প্রদান করে। তার মধ্যে মানুষের পরিচয় ও সামাজিক স্বীকৃতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো তার নাম। ইসলামে নাম রাখার গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ এটি কেবল ব্যক্তিগত পরিচয়ের জন্য নয়, বরং ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক দিক থেকেও তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবিজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্তানসহ প্রত্যেক মুসলিমকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন কিভাবে নাম নির্বাচিত করা উচিত এবং কোন ধরনের নাম এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।

প্রথমত, ইসলামে সুন্দর নাম রাখার বিষয়টি নবীজীর সুন্নত হিসেবে পরিচিত। তিনি শিক্ষিত করেছেন যে, মন্দ বা অশ্লীল নাম রাখা থেকে বিরত থাকা উচিত। যদি কোনো কারণে কোনো শিশুতে অসুন্দর নাম রাখা হয়, তা পরিবর্তন করে সুন্দর ও অর্থপূর্ণ নাম রাখা উচিত। এভাবে শিশুর সামাজিক ও ধর্মীয় পরিচয় গঠিত হয়। নাম নির্বাচন কেবল পরিচয়ের জন্য নয়, বরং শিশুর চরিত্র ও ভবিষ্যতের আচরণের ওপরও প্রভাব ফেলে।

সুন্দর নাম রাখার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো কিয়ামতের দিন নামের মাধ্যমে মানুষকে ডাকা হবে। হাশরের ময়দানে প্রত্যেক ব্যক্তি তার নাম ও পিতার নামসহ চিহ্নিত করা হবে। হজরত আবুদ দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
إِنّكُمْ تُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَسْمَائِكُمْ، وَأَسْمَاءِ آبَائِكُمْ، فَأَحْسِنُوا أَسْمَاءَكُمْ
অর্থ: কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে তোমাদের ও তোমাদের বাবার নাম নিয়ে ডাকা হবে। তাই তোমরা নিজের জন্য সুন্দর নাম রাখ। (আবু দাউদ: ৪৯৪৮)

এটি স্পষ্ট নির্দেশনা যে, নাম কেবল ব্যক্তিগত নয়, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত। সুন্দর নাম রাখার মাধ্যমে শিশুর পরিচয় সমাজ ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে সম্মানিত হয়। একজন শিশুর নাম তার ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক স্বীকৃতি প্রতিফলিত করে। তাই পিতা-মাতার উপর সর্বপ্রথম দায়িত্ব হলো সন্তানের নাম নির্বাচন।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মুসলিম সমাজে অপরজনের নাম সম্পর্কে জানাটা ভালোবাসা এবং ভ্রাতৃত্বের প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হয়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যদি কেউ অন্যের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে তুলতে চায়, তবে সে যেন তার নাম, পিতার নাম ও বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
إِذَا آخَى الرّجُلُ الرّجُلَ فَلْيَسْأَلْهُ عَنْ اسْمِهِ وَاسْمِ أَبِيهِ وَمِمّنْ هُوَ، فَإِنّهُ أَوْصَلُ لِلْمَوَدّةِ
অর্থ: কেউ যখন অন্যের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে তুলতে চায়, তখন সে যেন তার নাম, বাবার নাম ও বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। এর দ্বারা ভালোবাসার সম্পর্ক আরও গভীর হয়। (তিরমিজি: ২৩৯২)

সুতরাং, ইসলাম শুধু সুন্দর নাম রাখার গুরুত্বই শিক্ষায় দেয় না, বরং এটি সামাজিক বন্ধন, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সম্মানের ক্ষেত্রেও অপরিহার্য। মন্দ নামের কারণে শিশু সামাজিক লজ্জার সম্মুখীন হতে পারে, তাই নাম নির্বাচন সব সময় মনোযোগী ও সতর্কতার সঙ্গে করা উচিত।

পিতা-মাতার দায়িত্বের মধ্যে সন্তানের জন্য সুন্দর নাম রাখা একটি অন্যতম নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। হাদিসে নির্দেশিত রয়েছে যে, নাম এমনভাবে রাখা উচিত যা সমাজে বলার সময়ে লজ্জার কারণ না হয়, এবং যার মাধ্যমে শিশুর পরিচয় ও মর্যাদা সুরক্ষিত থাকে। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত অনুসারে, মন্দ বা অশোভন নাম পরিবর্তন করে সুন্দর নাম রাখা ইসলামের নির্দেশনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এভাবে নাম নির্বাচন শিশুর জন্য জীবনের প্রথম শিক্ষণীয় দিক হিসেবে কাজ করে। নামের মাধ্যমে শিশুর আত্মপরিচয়, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক স্বীকৃতি নিশ্চিত হয়। পিতা-মাতার উচিত, সন্তানের নামকরণে যত্নবান হওয়া এবং ইসলামের সুন্নত ও দৃষ্টান্ত অনুযায়ী নাম নির্বাচন করা।

সর্বশেষে বলা যায়, সন্তানের সুন্দর নাম রাখা শুধুমাত্র সামাজিক মর্যাদা এবং আধ্যাত্মিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি পিতা-মাতার কর্তব্য এবং সন্তানের প্রথম অধিকারও বটে। নামের মাধ্যমে শিশুর ব্যক্তিত্ব, চরিত্র, এবং ভবিষ্যৎ জীবনের দিকনির্দেশনা প্রভাবিত হয়। ইসলামের সুন্নতের আলোকে এটি একটি অবিচ্ছেদ্য দায়িত্ব, যা প্রতিটি মুসলিম পরিবারকে পালন করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত