প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
শীতের বিকেলের নরম আলোয় সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য এক উষ্ণ মুহূর্ত উপহার দিলেন বলিউড অভিনেতা ও গায়ক নীল নিতিন মুকেশ। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও আপলোড করেন, যেখানে দেখা যায় কালো পোশাকে পিয়ানো বাজাচ্ছেন এই তারকা। দুই মিনিট তেত্রিশ সেকেন্ডের ভিডিওতে নীলের সুরের মাধুর্য ও পিয়ানোর ছন্দ দর্শক ও ভক্তদের মন মাতিয়ে রাখে। ভিডিওতে তিনি বিশেষভাবে বলিউড সিনেমা ‘তুম মিলে’-এর জনপ্রিয় গান ‘দিল ইবাদত’ পরিবেশন করেছেন।
নীল নিতিন মুকেশের এই অভিনব চেষ্টা নেটিজেনদের মধ্যে প্রশংসার ঝড় তোলেছে। অনেকেই তার সঙ্গীতপ্রতিভার প্রশংসা করতে গিয়ে মন্তব্য করেছেন, “নীল শুধু অভিনেতা নয়, এক অসাধারণ গায়কও।” অনেকে আরও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তার বাবা নিতিন মুকেশ এবং প্রয়াত দাদা মুকেশ চন্দ মাথুরের গানও পিয়ানোতে শুনতে চাইবার জন্য। এই প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করছে যে, দর্শকরা নীলকে কেবল সিনেমার পর্দায় নয়, মিউজিকের জগতে ও দেখার আগ্রহ রাখেন।
নীল নিতিন মুকেশের প্রকৃত নাম নীল মাথুর। তিনি ভারতীয় গায়ক নিতিন মুকেশের পুত্র এবং কিংবদন্তি নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী প্রয়াত মুকেশ চন্দ মাথুরের পৌত্র। শৈশবে শিশু শিল্পী হিসেবে কাজ করলেও ২০০৭ সালে শ্রীরাম রাঘবন পরিচালিত ক্রাইম থ্রিলার ‘জনি গদ্দার’-এ কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর একে একে তিনি বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয় করেছেন। যদিও নীল অভিনয় দিয়ে সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেছেন, বক্স অফিসে তিনি তেমন দাপট দেখাতে পারেননি। তবে তার অভিনয় ও সঙ্গীতপ্রতিভা আজও সমালোচকদের কাছে প্রশংসিত।
নীল অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘গোলমাল এগেইন’, ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’, ‘সাহো’ এবং ‘নিউইয়র্ক’। এই সিনেমাগুলোতে তার অভিনয় দর্শকদের মনে স্থান করে নিয়েছে। পাশাপাশি নীলের সঙ্গীতের প্রতি গভীর আগ্রহ ও দক্ষতা তাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। পিয়ানোতে ‘দিল ইবাদত’-এর মতো গান পরিবেশন করে তিনি প্রমাণ করেছেন, কেবল অভিনয় নয়, গায়ক হিসেবে তার প্রতিভা ও আবেগও সমানভাবে দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম।
শীতকালে সঙ্গীতের মাধ্যমে মানুষের মনকে উষ্ণ করার ক্ষেত্রে নীলের এই প্রয়াস অনন্য। পিয়ানোতে সুন্দর সুরের সঙ্গে তার মৃদু ভঙ্গি এবং মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো আবেগ ভক্ত ও দর্শকদের হৃদয়ে প্রভাব ফেলেছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং দর্শকরা প্রশংসা জানাতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। অনেকে নীলকে আরও বেশি সঙ্গীত পরিবেশন করতে অনুরোধ জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন, “নীলকে গান গাইতে আরও বেশি সুযোগ দেওয়া উচিত।”
পিয়ানোতে গান পরিবেশন করার পাশাপাশি নীল নিতিন মুকেশের শৈশবকালীন শিল্পী জীবনের কথা মনে করিয়ে দেয় যে, তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মে সঙ্গীত ও অভিনয়ের উত্তরাধিকার বহন করছেন। তার পরিবার ভারতীয় সংগীত জগতের নামকরা পরিবার হিসেবে পরিচিত। প্রয়াত দাদা মুকেশ এবং পিতার নিতিন মুকেশের গানের ধারাকে তিনি নিজস্ব স্বভাবে নতুন করে প্রাণবন্ত করেছেন। এভাবেই নীল নিজের অভিনয় ও সঙ্গীতের প্রতিভার মাধ্যমে দুই জগতে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছেন।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, নীল শুধুমাত্র পিয়ানোতে গান পরিবেশন করছেন না, তিনি এর মাধ্যমে দর্শকদের অনুভূতি ও আবেগের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছেন। প্রতিটি সুর, প্রতিটি টোন এবং প্রতিটি স্পর্শ দর্শকের হৃদয়ে সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে। এতে করে শীতের নিরবতা ভেঙে যায় এবং সঙ্গীতপ্রেমীদের মনে উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ে। এই ভিডিওতে নীলের হাতে বাজানো পিয়ানো এবং তার সুরের মেলবন্ধন দর্শককে এক স্বপ্নীল অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
নীল নিতিন মুকেশের এই নতুন প্রচেষ্টা প্রমাণ করছে, যে তিনি শুধু চলচ্চিত্রের পর্দায় নয়, সঙ্গীতের জগতে ও নিজেকে প্রমাণ করতে সক্ষম। তার প্রতিভা ও আবেগ দর্শকদের হৃদয়ে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। অনুরাগীরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে তিনি আরও সঙ্গীতমূলক ভিডিও প্রকাশ করবেন এবং দর্শকদের জন্য আনন্দের আরও নতুন মুহূর্ত উপহার দেবেন।
নীল নিতিন মুকেশের এই অভিনব সঙ্গীতযাত্রা প্রমাণ করে যে, একজন শিল্পী কেবল অভিনয়েই সীমাবদ্ধ নয়। তার প্রতিভা বিস্তৃত এবং সঙ্গীতের মাধ্যমে দর্শকদের আবেগ ও হৃদয় স্পর্শ করার ক্ষমতা রাখে। এটি ভক্তদের জন্য এক অনন্য আনন্দ ও অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে।