পরিণত শিল্পী হওয়ার তৃষ্ণা নিয়ে কাজ করছেন মাহি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৬ বার
পরিণত শিল্পী হওয়ার তৃষ্ণা নিয়ে কাজ করছেন মাহি

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের তরুণ অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি পরিণত শিল্পী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে একের পর এক নতুন গল্প ও চরিত্র দর্শকের সামনে উপস্থাপন করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তার অভিনীত দুটি নাটক ‘মেঘ না চাইতে বৃষ্টি’ ও ‘তোমার প্রেমে’ নিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই জি-সিরিজের ব্যানারে ‘মেঘ না চাইতে বৃষ্টি’ নাটকটি প্রকাশিত হয়েছে এবং এর মধ্যে মাহির অভিনয়ও প্রশংসিত হয়েছে।

‘মেঘ না চাইতে বৃষ্টি’ নাটকে মাহির বিপরীতে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আরশ খান। তাদের জুটি বাংলাদেশের নাট্যদুনিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়ে আসছে। তাদের সহচর্য দেখা গেছে ‘নীল ছাতা’, ‘দ্বিতীয় পত্র’, ‘ফিরে আসা’, ‘বকুল ফুল’, ‘ভেতরে আসতে দাও’, ‘প্রশ্ন করো না’, ‘আদরে রেখো’, ‘বালক বালিকা’, ‘প্রেমিকার বয়ফ্রেন্ড’, ‘মন খারাপের দিনে’সহ আরও অসংখ্য নাটকে। ‘মেঘ না চাইতে বৃষ্টি’ নাটকটি আসাদ জামানের রচনা ও সকাল আহমেদের পরিচালনায় নির্মিত এবং এতে আরও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাসুম বাসার, সুমি আক্তার, মিলি বাসার, আনোয়ার শাহী ও সম্পা নিজাম।

অন্যদিকে, মাহির দ্বিতীয় নাটক ‘তোমার প্রেমে’ প্রকাশিত হতে যাচ্ছে ক্লাব ইলেভেনের ইউটিউব চ্যানেলে। রুবেল আনুশের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় এ নাটকে মাহির বিপরীতে অভিনয় করছেন অভিনেতা সোহেল মণ্ডল। নাটকটিতে আরও অভিনয় করেছেন মিলি বাসার, লিয়া মনি ও সাদি। মাহি মনে করেন, এই দুটি নাটক দর্শকের সঙ্গে নতুন মাত্রার সংযোগ স্থাপন করবে।

নাটক দুটি প্রসঙ্গে মাহি বলেন, “গল্প ও চরিত্র নতুন হলেও এতে আছে চেনা জীবন ও আশপাশের মানুষের ছায়া। তাই দর্শক সহজেই গল্পের সঙ্গে মিশে যেতে পারবেন। যাপিত জীবনের নানা ঘটনাকে নতুনভাবে দেখার সুযোগও মিলবে। সব মিলিয়ে নাটক দুটি আমাকে যেমনি নতুন রূপে দর্শকের সামনে তুলে ধরছে, তেমনি দর্শক প্রত্যাশা পূরণের সুযোগও দিচ্ছে।”

অভিনয় পেশা নিয়ে মাহি বলেন, “শুধু এই দুটি নাটক নয়, আমি যে সব গল্প ও চরিত্র পর্দায় তুলে ধরছি, সেগুলো খুব বাছবিচারের পরই হাতে নিয়েছি। এর মূল কারণ হলো দিন দিন অভিনয়ের তৃষ্ণা বেড়ে যাওয়া এবং পরিণত শিল্পী হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা। যখন দর্শক আমার অভিনয়কে ভালোবাসা দিতে শুরু করে, তখন একরকম নিশ্চিত হয়েছি, এটাই আমার নিয়তি নির্ধারিত কাজ। মনপ্রাণ ঢেলে আমি এই কাজ করতেই চাই।”

মাহি আরও বলেন, “স্বল্প সময়ের অভিনয় ক্যারিয়ারে অনেক নাটকে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। তবে এটার সংখ্যা আসলে গুরুত্বপূর্ণ নয়। কী ধরনের কাজ করছি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। দর্শককে মানসম্পন্ন অভিনয় দিতে পারাটাই আসল উদ্দেশ্য। আমি চাই, যতদিন অভিনয় করি, দর্শকের কাছে ভালো কিছু তুলে ধরতে পারি। ‘মেঘ না চাইতে বৃষ্টি’ ও ‘তোমার প্রেমে’ নাটক দুটিতে এ ভাবনার আভাস পাওয়া যাবে।”

মাহি মনে করেন, নাটক নির্মাণ ও অভিনয়ে প্রতিটি মুহূর্তই শিক্ষণীয়। নতুন গল্পে নতুন চরিত্রে অভিনয় করা তাকে অভিজ্ঞ করে তুলছে এবং নিজের শিল্পী ব্যক্তিত্বকে আরও পরিণত করছে। প্রতিটি চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা এবং মানবিক, আবেগময় গল্প পরিবেশন করা তার প্রধান লক্ষ্য।

দর্শকপ্রিয়তা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে মাহি নিজের অভিনয়কে কেবল জনপ্রিয়তায় সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। তিনি চান, প্রতিটি নাটকে চরিত্রের জটিলতা, গল্পের গভীরতা এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটের ছোঁয়া দিতে। তাই তার কাজের নির্বাচনে নাটকের গল্পের গুণগত মান, চরিত্রের গভীরতা এবং দর্শকের অনুভূতির সঙ্গে সংযোগের দিককে প্রধানতা দেন।

মাহির কথায়, “আমি চাই দর্শক নাটক দেখার পর গল্প এবং চরিত্রের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে পারেন। এটি আমাকে নতুন করে ভাবতে শেখায় এবং অভিনয়ের প্রক্রিয়াকে আরও নিখুঁত করে। দর্শক যে ভালোবাসা দেন, তা আমার জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তাই প্রতিটি নাটকে সেই প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করি।”

এদিকে, মাহির কর্মকাণ্ড কেবল অভিনয় পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়; তিনি বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থেকে তরুণদের অনুপ্রেরণা জোগানোর পাশাপাশি নাট্যশিল্পের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। তার মতে, একজন শিল্পীর দায়িত্ব শুধুমাত্র মঞ্চ বা পর্দার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলা ও ভালো গল্প উপস্থাপন করাও তার কর্তব্য।

সামিরা খান মাহির এই ধারাবাহিক চেষ্টা এবং মনোযোগ দর্শকদের কাছে তাকে আরও প্রিয় করে তুলেছে। নাট্যশিল্পের নতুন প্রজন্মের জন্য তিনি অনুপ্রেরণার একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন, যেখানে প্রতিটি কাজের পেছনে রয়েছে পরিকল্পনা, অধ্যবসায় ও শিল্পীর নিজস্ব মানদণ্ড।

পরিশেষে মাহি বলেন, “আমি প্রতিটি নাটকে দর্শকের মন ছুঁতে চাই। অভিনেতা হিসেবে আমার লক্ষ্য হলো মানসম্পন্ন, আবেগময় এবং সমাজমুখী গল্প পরিবেশন করা। এটাই আমাকে পরিণত শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলছে। আমার এই যাত্রা চলমান থাকবে, যতদিন দর্শকের ভালোবাসা এবং প্রতিক্রিয়া থাকবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত