সকালের নাশতায় কাজু বাদাম খেলে যেসব উপকার মেলে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩১ বার
সকালের নাশতায় কাজু বাদাম খেলে যেসব উপকার মেলে

প্রকাশ:১২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সকালের নাশতা শুধু দিনের প্রথম খাবার নয়, এটি সারাদিনের শক্তি, মনোযোগ ও কর্মক্ষমতার ভিত্তি তৈরি করে। তাই পুষ্টিবিদরা বরাবরই সকালের খাবারকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার পরামর্শ দেন। সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে বাদামজাতীয় খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। নানা ধরনের বাদামের মধ্যে কাজু বাদাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে এর পুষ্টিগুণ ও সহজলভ্যতার কারণে। নিয়মিত সকালে এক মুঠো কাজু বাদাম খেলে শরীরে যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, তা নিয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পুষ্টিবিষয়ক প্রতিবেদনে আলোচনা করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কাজু বাদামে রয়েছে ফাইবার, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, জিঙ্ক ও কপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে ভিটামিন কে ও ভিটামিন বি৬-এর মতো প্রয়োজনীয় ভিটামিনও পাওয়া যায়। এসব উপাদান মানবদেহের হাড়, পেশি, রক্ত এবং রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে কাজু বাদাম খাওয়া হলে শরীর ধীরে ধীরে এর উপকারিতা অনুভব করতে শুরু করে।

সকালের নাশতায় কাজু বাদাম রাখার অন্যতম কারণ হলো, এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়। কাজুতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও প্রোটিন ধীরে হজম হয়, ফলে বারবার ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমে। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান বা ডায়েট মেনে চলছেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে একটি কার্যকর সহায়ক খাবার। তবে এখানে পরিমাণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত কাজু বাদাম খেলে ক্যালোরির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে, যা ওজন বাড়ার কারণও হতে পারে।

পুষ্টিবিদদের মতে, কাজু বাদাম খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো দুধের সঙ্গে ভিজিয়ে রাখা কাজু খাওয়া। রাতে দুধে কয়েকটি কাজু ভিজিয়ে রেখে সকালে সেগুলো খেলে শরীর সহজেই এর পুষ্টিগুণ শোষণ করতে পারে। দুধ ও কাজুর সংমিশ্রণ একটি পরিপূর্ণ পুষ্টিকর খাবার হিসেবে কাজ করে, যা শরীরকে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে।

হাড়ের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কাজু বাদামের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ক্ষয় একটি স্বাভাবিক সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। কাজু ও দুধ উভয়টিতেই থাকা ভিটামিন কে, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও অন্যান্য খনিজ উপাদান হাড়কে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত সকালে দুধে ভেজানো কাজু খেলে হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকের ক্ষেত্রে পেশির ব্যথা বা হালকা যন্ত্রণা কমাতেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

হজমের সমস্যায় ভোগা মানুষের জন্যও কাজু বাদাম উপকারী বলে ধারণা করা হয়। আধুনিক জীবনযাত্রায় অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, কম পানি পান এবং মানসিক চাপের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজু বাদামে থাকা ফাইবার অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে। সকালে দুধে ভেজানো কাজু খেলে মলত্যাগের সমস্যা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের জটিল সমস্যার ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও কাজু বাদামের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। বর্তমান সময়ে দূষণ, ফাস্টফুড নির্ভরতা ও অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে অনেকের শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। কাজুতে থাকা জিঙ্ক, কপার ও বিভিন্ন ভিটামিন শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে কাজু বাদাম খেলে শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি পেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

রক্তস্বল্পতা বা রক্তের বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রেও কাজু বাদামের গুরুত্ব রয়েছে। কাজু বাদামে থাকা কপার মানবদেহে লোহা শোষণের প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে কপারের অভাব হলে আয়রনের কার্যকারিতাও কমে যায়, যা রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি বাড়ায়। দুধের সঙ্গে ভেজানো কাজু বাদাম নিয়মিত খেলে এই ঘাটতি কিছুটা পূরণ হতে পারে। তবে এটি কোনো ওষুধ নয়, বরং সহায়ক খাদ্য—এই বিষয়টি মনে রাখা জরুরি।

মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও কাজু বাদামের ইতিবাচক প্রভাবের কথা বলা হয়। কাজুতে থাকা ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন বি৬ স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। সকালের নাশতায় কাজু বাদাম রাখলে দিনের শুরুটা তুলনামূলকভাবে সতেজ ও প্রাণবন্ত হতে পারে। অনেকেই মনে করেন, নিয়মিত কাজু খেলে মানসিক চাপ কমে এবং কাজে মনোযোগ বাড়ে।

তবে সব উপকারিতার মাঝেও সতর্কতার জায়গা রয়েছে। কাজু বাদাম উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার। তাই অতিরিক্ত খেলে উল্টো ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। যাদের বাদামে অ্যালার্জি রয়েছে বা বিশেষ কোনো শারীরিক জটিলতা আছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত কাজু খাওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরলের রোগীদের ক্ষেত্রেও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, সকালের নাশতায় পরিমিত পরিমাণে কাজু বাদাম যোগ করলে তা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। এটি একদিকে যেমন প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায়, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ জীবনযাপনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান ও নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই। কাজু বাদাম হতে পারে সেই সুষম খাদ্যাভ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা দিনের শুরুতেই শরীর ও মনকে প্রস্তুত করে তোলে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত