গোল্ডেন গ্লোবের মঞ্চে চমক ও প্রত্যাশার রাত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৭ বার
গোল্ডেন গ্লোবের মঞ্চে চমক ও প্রত্যাশার রাত

প্রকাশ:  ১২  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্ব চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডসের ৮৩তম আয়োজন বসেছিল যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বেভারলি হিলটন হোটেলে। বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোরে অনুষ্ঠিত এই জমকালো অনুষ্ঠানে তারকাদের উপস্থিতি, আবেগঘন বক্তৃতা এবং প্রত্যাশিত ও অপ্রত্যাশিত বিজয়ের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হলো—গোল্ডেন গ্লোব কেবল পুরস্কার বিতরণের অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি বিশ্ব বিনোদন শিল্পের গতিপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। এবারের আসরে যেমন পূর্বাভাস অনুযায়ী অনেক নাম উঠে এসেছে বিজয়ীর তালিকায়, তেমনি কিছু বিভাগে ছিল চমক, যা দর্শক ও সমালোচকদের আলোচনার কেন্দ্রে জায়গা করে নিয়েছে।

চলতি বছরের গোল্ডেন গ্লোবের সবচেয়ে আলোচিত বিভাগ ছিল মোশন পিকচার। ড্রামা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কার জিতেছে ‘হ্যামনেট’। শেক্সপিয়রের বিখ্যাত নাট্যচরিত্র হ্যামলেটকে ঘিরে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর থেকেই সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। আবেগ, মানবিকতা ও শিল্পসম্মত নির্মাণশৈলীর কারণে ‘হ্যামনেট’ এবারের আসরে শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেয়, আর গোল্ডেন গ্লোব সেই স্বীকৃতি দিল সেরা ড্রামা চলচ্চিত্রের পুরস্কারের মাধ্যমে।

মিউজিক্যাল অথবা কমেডি বিভাগে সেরা মোশন পিকচারের পুরস্কার গেছে ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’-এর ঝুলিতে। পল টমাস অ্যান্ডারসনের এই ছবি শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল এর গল্প বলার ধরন ও অভিনয়ের কারণে। একই ছবির জন্য সেরা পরিচালক হিসেবেও পুরস্কৃত হয়েছেন পল টমাস অ্যান্ডারসন, যা এই চলচ্চিত্রের সাফল্যকে আরও জোরালো করেছে। তাঁর হাতে যখন পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়, তখন উপস্থিত দর্শকরা দীর্ঘ করতালির মাধ্যমে অভিনন্দন জানান।

অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র বিভাগে এবার জয় পেয়েছে নেটফ্লিক্সের ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’। কে-পপ সংস্কৃতি ও ফ্যান্টাসির মিশেলে তৈরি এই অ্যানিমেশনটি তরুণ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। একই ছবির গান ‘গোল্ডেন’ সেরা মৌলিক গানের পুরস্কারও জিতে নিয়েছে। এতে বোঝা যায়, অ্যানিমেশন ও সংগীত—দুই ক্ষেত্রেই ছবিটি গভীর প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

ইংরেজির বাইরে নির্মিত চলচ্চিত্রের বিভাগে সেরা ছবির পুরস্কার জিতেছে ব্রাজিলের ‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’। লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক বাস্তবতা ও মানবিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে। একই ছবির জন্য সেরা অভিনেতা, ড্রামা বিভাগে পুরস্কার জিতেছেন ওয়াগনার মোওরা। তাঁর অভিনয়কে অনেকেই এবারের আসরের অন্যতম শক্তিশালী পারফরম্যান্স হিসেবে উল্লেখ করছেন।

অভিনয় বিভাগেও এবারের গোল্ডেন গ্লোব ছিল সমৃদ্ধ। ড্রামা বিভাগে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে পুরস্কার জিতেছেন জেসি বাকলি, ‘হ্যামনেট’ চলচ্চিত্রে তাঁর অনবদ্য অভিনয়ের জন্য। চরিত্রের গভীরতা ও আবেগকে পর্দায় যেভাবে তুলে ধরেছেন, তা দর্শক ও সমালোচকদের মুগ্ধ করেছে। মিউজিক্যাল বা কমেডি বিভাগে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার গেছে রোজ বার্নের হাতে, ‘ইফ হ্যাড লেটস আই উড কিক ইউ’ ছবিতে তাঁর অভিনয়ের জন্য। অন্যদিকে, ড্রামা বিভাগে সেরা অভিনেতা হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন টিমোথি শ্যালামে, ‘মেরি সুপ্রিম’ চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয়ের সুবাদে। তরুণ এই অভিনেতার ঝুলিতে আরেকটি বড় আন্তর্জাতিক পুরস্কার যোগ হওয়ায় তাঁর ক্যারিয়ারে এটি একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হয়ে থাকল।

চলচ্চিত্রের পাশাপাশি টেলিভিশন বিভাগেও ছিল প্রতিযোগিতার উত্তাপ। ড্রামা বিভাগে সেরা টেলিভিশন সিরিজ হিসেবে পুরস্কার জিতেছে এইচবিও ম্যাক্সের ‘দ্য পিট’। শক্তিশালী চিত্রনাট্য ও অভিনয়ের কারণে সিরিজটি শুরু থেকেই দর্শকদের নজর কেড়েছিল। মিউজিক্যাল অথবা কমেডি বিভাগে সেরা টিভি সিরিজের পুরস্কার পেয়েছে অ্যাপল টিভির ‘দ্য স্টুডিও’, যা আধুনিক বিনোদন জগতের অন্তরালের গল্পকে হাস্যরস ও বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপের মাধ্যমে তুলে ধরেছে।

লিমিটেড সিরিজ বা অ্যান্থলজি বিভাগে সেরা পুরস্কার জিতেছে নেটফ্লিক্সের ‘অ্যাডোলেসেন্স’। কিশোর বয়সের মানসিক দ্বন্দ্ব, সামাজিক চাপ ও পরিচয় সংকটের গল্প নিয়ে নির্মিত এই সিরিজটি মুক্তির পর থেকেই ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল। গোল্ডেন গ্লোবের স্বীকৃতি সেই আলোচনাকে আরও বিস্তৃত করল।

এবারের গোল্ডেন গ্লোব আয়োজন ঘিরে একটি বিষয় বিশেষভাবে চোখে পড়েছে—স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর শক্ত অবস্থান। নেটফ্লিক্স, অ্যাপল টিভি ও এইচবিও ম্যাক্স একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার জিতে নিয়েছে, যা স্পষ্ট করে দেয় যে বিনোদনের ধারা এখন আর কেবল প্রেক্ষাগৃহকেন্দ্রিক নয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোও বিশ্বমানের কনটেন্ট তৈরি করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সক্ষম হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের পুরোটা জুড়ে ছিল আবেগঘন মুহূর্ত, কৃতজ্ঞতার ভাষণ এবং শিল্পীদের পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শন। অনেক বিজয়ী তাঁদের বক্তব্যে দর্শক, সহকর্মী ও পরিবারকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় শিল্প ও সংস্কৃতির ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। এসব বক্তব্য গোল্ডেন গ্লোবকে কেবল একটি বিনোদনমূলক আয়োজন নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক সংলাপের মঞ্চ হিসেবেও তুলে ধরে।

সব মিলিয়ে, গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডসের ৮৩তম আসর ছিল প্রত্যাশা ও চমকের এক অনন্য সমন্বয়। এই আয়োজন আবারও প্রমাণ করল, ভালো গল্প, শক্তিশালী অভিনয় ও সাহসী নির্মাণই শেষ পর্যন্ত বিশ্ব দর্শকের হৃদয় জয় করে নেয়। আগামী দিনে এই বিজয়ীরা কীভাবে তাঁদের সৃজনশীল যাত্রা এগিয়ে নেবেন, সেদিকেই এখন তাকিয়ে থাকবে বিশ্ব বিনোদন অঙ্গন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত