প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশের স্কোয়াড নিয়ে শুরু হয়েছে নতুনভাবে জোরালো আলোচনা। যদিও ঘোষিত স্কোয়াডের বেশিরভাগ ক্রিকেটার গত এক-দেড় বছর জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য, তবু মাঠে চলমান বিপিএল ২০২৬-এর পারফরম্যান্সের আলোয় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া এবং টপ অর্ডারের ব্যাটারদের ফর্ম নিয়েই সমর্থকদের মধ্যে দুশ্চিন্তার ভাব বাড়ছে।
বিপিএলের ১২তম আসরের সিলেট পর্বে সবচেয়ে হতাশাজনক পারফরম্যান্স দেখা গেছে সাইফ হাসান, লিটন দাস ও তানজিদ তামিমের। টপ অর্ডারের এই তিন ক্রিকেটারই আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ব্যাটিং ভরসার মূল ভিত্তি, কিন্তু ফর্মহীনতা দলের জন্য উদ্বেগের কারণ। সাইফ হাসান, যিনি জাতীয় দলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে টি-টোয়েন্টি দলের সহঅধিনায়ক হয়েছেন, বিপিএলে মাত্র ৬৫ বল মোকাবিলা করে ৬ ম্যাচে ৪৮ রান করেছেন। তার গড় মাত্র ৮, স্ট্রাইকরেট ৭৪-এর নিচে এবং সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ২২।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ওপেনার তানজিদ তামিমও আউট অব ফর্ম। ৭ ম্যাচে তার মোট রান ৯০, গড় ১২.৮৫, স্ট্রাইকরেট ১০২.২৭ এবং সর্বোচ্চ ইনিংস ২৯। জাতীয় দলে অতীত পারফরম্যান্সের কারণে তিনি এখনো স্কোয়াডে আছেন, কিন্তু বিপিএলে এই পারফরম্যান্স উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
অধিনায়ক লিটন দাসও বিপিএলে ফর্ম হারিয়েছেন। রংপুর রাইডার্সের হয়ে ৭ ইনিংসে ২০ গড়ে ১৪০ রান করেছেন, স্ট্রাইকরেট ১২৯.৬২, সর্বোচ্চ ইনিংস ৪৭। এই টপ অর্ডারের ফর্মহীনতা বিশ্বকাপের জন্য ইতিবাচক সংকেত নয়।
বিপিএলের ফাইনাল ২৩ জানুয়ারি, এবং স্কোয়াড পরিবর্তনের শেষ সময় ৩১ জানুয়ারি। এ সময়ের মধ্যে টপ অর্ডারের ফর্মহীনতা নতুন ভাবনার সুযোগ দিচ্ছে। সাবেক অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বিপিএলে ব্যাট হাতে দারুণ ফর্মে রয়েছেন। ৭ ম্যাচে ৪৭.৮৩ গড়ে ২৮৭ রান করেছেন, স্ট্রাইকরেট ১৪৮.৮৩ এবং ইতিমধ্যেই এক সেঞ্চুরি করেছেন। এই পারফরম্যান্স তাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ফেরার দাবিদার করেছে।
মোহাম্মদ নাঈম শেখও চট্টগ্রাম রয়্যালসের হয়ে ৭ ম্যাচে ১৯৭ রান করেছেন, গড় ৩২.৮৩, স্ট্রাইকরেট ১৩৫.৮৬ এবং দুই অর্ধশতক আছে। যদিও জাতীয় দলের অতীত অভিজ্ঞতার কারণে তাকে ফেরানো কঠিন মনে হচ্ছে।
লোয়ার মিডল অর্ডারে পারফরম্যান্সও বিশ্বকাপ স্কোয়াডে প্রভাব ফেলতে পারে। সোহান এবারের বিপিএলে ব্যাট হাতে ব্যর্থ। ৫ ইনিংসে তিনটি অপরাজিত, মোট ২১ রান এবং সর্বোচ্চ ইনিংস ৭। এ অবস্থায় মিডল অর্ডারে সিলেটের পারভেজ হোসেন ইমন স্কোয়াডে গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছেন। ইমন ৮ ইনিংসে ২৩৬ রান করেছেন, গড় ৩৩.৭১, স্ট্রাইকরেট ১৩১.৭১, সঙ্গে উইকেটকিপিংও করেছেন।
এ পরিস্থিতি বোঝাচ্ছে, বিপিএলের পারফরম্যান্স বিশ্বকাপ স্কোয়াডে পরিবর্তনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখছে। টপ অর্ডারে ফর্মহীনতা এবং মিডল অর্ডারে নতুন প্রতিভার উত্থান দুইই স্কোয়াড পরিবর্তনের প্রাসঙ্গিকতা নির্দেশ করছে। বিপিএল শেষ হওয়ার পর নির্বাচকরা যদি চান, টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারে শক্তি বাড়াতে স্কোয়াডে নতুন ক্রিকেটারের সুযোগ দিতে পারেন।
অতএব, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের স্কোয়াডে পারফরম্যান্সভিত্তিক পুনর্বিবেচনার প্রশ্ন যেন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। সমর্থকরা আশা করছেন, বিপিএলের ফর্ম এবং পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নির্বাচকরা বিশ্বকাপ দলকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকরভাবে সাজাবেন।