রাফিনহার জোড়া গোলে এল ক্লাসিকো জয়ে আবারও চ্যাম্পিয়ন বার্সা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫২ বার
রাফিনহার জোড়া গোলে এল ক্লাসিকো জয়ে আবারও চ্যাম্পিয়ন বার্সা

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফুটবলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দ্বৈরথগুলোর একটি এল ক্লাসিকো। সেই লড়াই যখন শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে রূপ নেয়, উত্তেজনার পারদ তখন স্বাভাবিকভাবেই ছুঁয়ে যায় আকাশ। জেদ্দার কিং আবদুল্লাহ স্পোর্টস সিটিতে ঠিক তেমনই এক নাটকীয় রাত উপহার দিল স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনাল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে ৩-২ গোলে হারিয়ে আবারও শিরোপা উঁচিয়ে ধরল বার্সেলোনা। রাফিনহার জোড়া গোলে আর গোটা দলের দৃঢ়তায় হ্যান্সি ফ্লিকের অধীনে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার প্রমাণ করল কাতালানরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, দুই দলই এসেছে শিরোপা জয়ের স্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে। রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা—দুই দলের খেলোয়াড়দের চোখে ছিল আগ্রাসন আর আত্মবিশ্বাসের মিশ্রণ। মাঝমাঠে দখল নেওয়ার লড়াইয়ে কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছিল না। প্রথম ৩৫ মিনিট পর্যন্ত আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ভরপুর ম্যাচে যদিও গোলের দেখা পায়নি কেউ। তবে সেই স্থবিরতা ভাঙতে বেশি সময় নেননি ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রাফিনহা।

৩৬তম মিনিটে বার্সেলোনার আক্রমণ যখন ধীরে ধীরে গতি পাচ্ছিল, তখনই রাফিনহার পায়ে আসে বল। প্রতিপক্ষ রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে নিখুঁত শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি। পুরো স্টেডিয়াম তখন নীল-লাল রঙে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। প্রথম গোলের পর বার্সার খেলায় বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেখা গেলেও রিয়াল মাদ্রিদ দ্রুতই ম্যাচে ফেরার সংকেত দিতে শুরু করে।

নাটকের আসল রূপ নেয় প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে। মাত্র পাঁচ মিনিটে দুই দল মিলে করে ফেলে তিনটি গোল। প্রথম যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটেই রিয়ালকে সমতায় ফেরান ভিনিসিউস জুনিয়র। বক্সের ভেতরে ঢুকে বার্সেলোনার দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ম্যাচে ফেরে রিয়াল। এই গোল যেন রিয়াল সমর্থকদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করে।

কিন্তু আনন্দটা বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। দুই মিনিট পরই পেদ্রির চোখধাঁধানো পাস থেকে আবারও বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডোভস্কি। তার এই গোল কেবল স্কোরলাইনে পরিবর্তন আনেনি, বরং ম্যাচের গতিপথও পাল্টে দেয়। তবুও প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে শেষ কথা বলার সুযোগ পায় রিয়াল মাদ্রিদ। তরুণ ফরোয়ার্ড গঞ্জালো গার্সিয়া ঠিকই নিজের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমতায় ফেরান দলকে। বিরতিতে দুই দল যখন ড্রেসিংরুমে যায়, তখন স্কোরলাইন ২-২—শিরোপা নির্ধারণের জন্য প্রস্তুত এক উত্তেজনাপূর্ণ দ্বিতীয়ার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। দু’দলই বুঝতে পারছিল, একটি মুহূর্তই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। ৭১তম মিনিটে বার্সেলোনা আবার এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পায়। ইয়ামালের নিচু শট ঠেকিয়ে দেন রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া, যা ম্যাচে রিয়ালের আশা বাঁচিয়ে রাখে। কিন্তু সেই স্বস্তি খুব বেশি সময়ের জন্য ছিল না।

মাত্র এক মিনিট পরই আবারও নায়ক হয়ে ওঠেন রাফিনহা। বক্সের ভেতরে স্লিপ করে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তেও নিখুঁত শট নেন তিনি। বলটি রিয়াল ডিফেন্ডার আসেন্সিওর পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। এই গোলেই কার্যত নির্ধারিত হয়ে যায় শিরোপার ভাগ্য। রাফিনহার জন্য এটি ছিল বার্সেলোনার হয়ে টানা দারুণ পারফরম্যান্সের আরেকটি উদাহরণ। সবশেষ পাঁচ ম্যাচে এটি তার সপ্তম গোল, যা তার ফর্মের ধারাবাহিকতারই প্রমাণ।

শেষ দিকে ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে রিয়াল মাদ্রিদ। একের পর এক আক্রমণে বার্সেলোনার রক্ষণকে চাপে রাখে তারা। কিন্তু প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান বার্সা গোলরক্ষক, যিনি অসাধারণ কিছু সেভ করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। অতিরিক্ত সময়ের চাপ সামলেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় ধরে রাখে বার্সেলোনা।

এই জয়ের মাধ্যমে হ্যান্সি ফ্লিকের কোচিংয়ে চতুর্থ ট্রফি জিতল বার্সেলোনা। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলের মধ্যে নতুন এক মানসিকতা ও শৃঙ্খলা গড়ে তুলেছেন এই জার্মান কোচ। তার অধীনে বার্সেলোনা আবারও শিরোপা জয়ের ধারায় ফিরেছে, যা দীর্ঘদিন পর সমর্থকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে এমন এক নাটকীয় ফাইনাল জয় বার্সেলোনার ইতিহাসে আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। এল ক্লাসিকো মানেই শুধু তিন পয়েন্ট বা একটি ট্রফি নয়, এটি গর্ব, ঐতিহ্য আর আবেগের লড়াই। সেই লড়াইয়ে রাফিনহার জোড়া গোল আর দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে আবারও শেষ হাসি হাসল কাতালানরা। সুপার কাপ জয়ের এই মুহূর্ত বার্সেলোনা সমর্থকদের জন্য শুধু আনন্দের নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য আত্মবিশ্বাসের এক শক্ত বার্তাও বয়ে আনল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত