হ্যাকিং থেকে বাঁচতে জিমেইলের গোপন সেটিংস বদলানো জরুরি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৬ বার
হ্যাকিং থেকে বাঁচতে জিমেইলের গোপন সেটিংস বদলানো জরুরি

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত ও পেশাগত যোগাযোগের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যমগুলোর একটি হলো জিমেইল। চাকরি, ব্যবসা, শিক্ষা, ব্যাংকিং, সামাজিক যোগাযোগ—সবকিছুর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে একটি ইমেইল অ্যাকাউন্ট। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল পরিচয়টি সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে অনেকেই এখনো পর্যাপ্ত সচেতন নন। সামান্য অসতর্কতা কিংবা একটি ভুল সেটিংসই আপনার জিমেইল অ্যাকাউন্টকে হ্যাকারদের সহজ টার্গেটে পরিণত করতে পারে।

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধও দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। এখন আর শুধু পাসওয়ার্ড অনুমান করেই হ্যাকিং হয় না; ফিশিং লিংক, ভুয়া ইমেইল, অচেনা ডিভাইস বা দুর্বল নিরাপত্তা সেটিংসের সুযোগ নিয়েই হ্যাকাররা ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ছবি, গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট, এমনকি ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের তথ্যও চলে যাচ্ছে অপরাধীদের দখলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জিমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে ক্ষতির পরিমাণ শুধু একটি ইমেইল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে না। কারণ একই ইমেইলের সঙ্গে যুক্ত থাকে ফেসবুক, ইউটিউব, গুগল ড্রাইভ, গুগল ফটোসসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা। তাই জিমেইলের কিছু গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস ঠিকভাবে ব্যবহার করাই হতে পারে আপনার ডিজিটাল নিরাপত্তার প্রথম ধাপ।

অনেক সময় ব্যবহারকারীরা বুঝতেই পারেন না যে তাঁদের অ্যাকাউন্টে অন্য কেউ ঢুকে পড়েছে। কিন্তু জিমেইলে এমন কিছু লক্ষণ দেখা দেয়, যা আগেভাগেই বিপদের ইঙ্গিত দেয়। হঠাৎ করে নিজের অবস্থান ছাড়া অন্য কোনো শহর বা দেশ থেকে লগ-ইনের নোটিফিকেশন এলে সতর্ক হতে হবে। আপনার পাঠানো নয়—এমন ইমেইল আউটবক্সে দেখা গেলে বা অপরিচিত কোনো মেইল পঠিত হিসেবে চিহ্নিত থাকলেও সেটি বিপদের লক্ষণ। আবার অনেক সময় দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ মেইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্র্যাশ বা স্প্যাম ফোল্ডারে চলে যাচ্ছে—এটিও হ্যাকিংয়ের ইঙ্গিত হতে পারে।

ভাগ্য ভালো যে গুগল নিজেই ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ কিছু শক্তিশালী নিরাপত্তা টুল দিয়েছে, যা ঠিকভাবে ব্যবহার করলে সহজেই বোঝা যায় আপনার অ্যাকাউন্ট নিরাপদ আছে কি না। স্মার্টফোন বা কম্পিউটার থেকে গুগল অ্যাকাউন্টের সেটিংসে ঢুকে ‘সিকিউরিটি’ বিভাগে গেলে দেখা যায়, বর্তমানে কোন কোন ডিভাইস থেকে আপনার জিমেইল অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করা আছে। সেখানে যদি অপরিচিত কোনো ফোন, ল্যাপটপ বা লোকেশনের নাম চোখে পড়ে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সেই ডিভাইস থেকে সাইন আউট করে দেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ‘ডিভাইস ম্যানেজমেন্ট’ অপশনটি অনেকেই কখনো ব্যবহারই করেন না, অথচ এটি সবচেয়ে কার্যকর নিরাপত্তা ফিচারগুলোর একটি। নিয়মিত এই তালিকা চেক করলে অজান্তেই কেউ আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে কি না, তা সহজেই ধরা পড়ে।

হ্যাকিং থেকে বাঁচার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন বা টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করা। এই ফিচার চালু থাকলে শুধু পাসওয়ার্ড জানলেই কেউ আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না। প্রতিবার নতুন কোনো ডিভাইস থেকে লগ-ইন করতে চাইলে আপনার মোবাইলে একটি কোড বা নোটিফিকেশন যাবে, যা অনুমোদন না দিলে লগ-ইন সম্পন্ন হবে না। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই একটি সেটিংসই ৯০ শতাংশ হ্যাকিং ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে।

পাসওয়ার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় ভুলের প্রবণতা। অনেকেই বছরের পর বছর একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন বা খুব সহজ পাসওয়ার্ড সেট করেন, যেমন জন্মতারিখ, নাম কিংবা মোবাইল নম্বর। এসব পাসওয়ার্ড হ্যাকারদের জন্য অনুমান করা খুবই সহজ। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর শক্তিশালী ও আলাদা ধরনের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা জরুরি। অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্নের সমন্বয়ে তৈরি পাসওয়ার্ড সবচেয়ে নিরাপদ বলে মনে করা হয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অচেনা বা পাবলিক ডিভাইসে জিমেইল লগ-ইন করা। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে আসছেন, অন্যের ফোন, সাইবার ক্যাফে বা অফিসের শেয়ার করা কম্পিউটারে জিমেইল লগ-ইন করা ঝুঁকিপূর্ণ। প্রয়োজনে লগ-ইন করলেও কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অবশ্যই সাইন আউট নিশ্চিত করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে ব্রাউজারে ‘রিমেম্বার পাসওয়ার্ড’ অপশন চালু থাকলে সেটিও বড় বিপদের কারণ হতে পারে।

বর্তমান সময়ে ফিশিং ইমেইলও হ্যাকিংয়ের অন্যতম বড় মাধ্যম। অনেক সময় গুগল বা ব্যাংকের নাম ব্যবহার করে এমন ইমেইল পাঠানো হয়, যেখানে লিংকে ক্লিক করতে বলা হয়। অসতর্কভাবে সেই লিংকে ক্লিক করলেই ব্যবহারকারীর লগ-ইন তথ্য চলে যায় হ্যাকারদের কাছে। তাই সন্দেহজনক ইমেইল এলে কখনোই লিংকে ক্লিক না করা এবং সরাসরি গুগলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে তথ্য যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিগত জটিলতার চেয়ে সচেতনতার অভাবই বেশি বিপজ্জনক। গুগল ব্যবহারকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব সুরক্ষা ব্যবস্থা দিলেও অনেকেই তা ব্যবহার করেন না বা গুরুত্ব দেন না। অথচ কয়েক মিনিট সময় নিয়ে জিমেইলের সিকিউরিটি সেটিংস যাচাই করলেই বড় ধরনের সাইবার ক্ষতি থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।

সব মিলিয়ে বলা যায়, জিমেইল হ্যাকিং এখন আর বিরল কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি প্রতিদিনের বাস্তবতা। ব্যক্তিগত তথ্য, পেশাগত গোপনীয়তা এবং আর্থিক নিরাপত্তা রক্ষায় এখনই প্রয়োজন সচেতন হওয়া। আজই আপনার জিমেইল অ্যাকাউন্টের গোপনীয় সেটিংসগুলো পরীক্ষা করুন, টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করুন এবং অপরিচিত ডিভাইস থেকে লগ-ইন থাকলে তা বন্ধ করুন। ডিজিটাল দুনিয়ায় নিরাপদ থাকতে হলে প্রযুক্তির পাশাপাশি সচেতনতা ও সতর্কতাই হতে পারে আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত