বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি: প্রতিবেদন জমা পেছালো ৯২ বার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৯ বার
বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ চুরি

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০১৬ সালের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের খাতে ঘটানো বিশাল হ্যাকিং কাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ আবারও পেছানো হলো। মঙ্গলবার আদালত নতুন করে এই প্রতিবেদন জমার দিন নির্ধারণ করেছে ১৮ ফেব্রুয়ারি। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অংশ, যেখানে আদালত ইতিমধ্যেই ৯২ বার প্রতিবেদন জমার তারিখ পরিবর্তন করেছে।

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে হ্যাকাররা প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি করে নিলে দেশজুড়ে এক বিপুল অর্থনৈতিক ধাক্কা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক খাতে চরম সতর্কতা জাগে। ওই সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের উপ-পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা মতিঝিল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় দায়ের করা হয় এবং পরদিন ১৬ মার্চ আদালত এই মামলার তদন্তভার সিআইডিকে দেন।

সিআইডি তখন থেকেই তদন্ত শুরু করে, কিন্তু প্রায় ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এই দীর্ঘ বিলম্বের কারণে বিচারিক প্রক্রিয়ায় ধীরগতি এবং ন্যায়বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেশের জনগণ এবং ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের কর্মকর্তারা বারবার এই বিলম্বের বিষয়ে উদ্বিগ্ন। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, দীর্ঘসময় ধরে প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় মামলার স্থিরতা নষ্ট হচ্ছে এবং অপরাধের বিরুদ্ধে জবাবদিহি বিলম্বিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুর্বলতা, সাইবার নিরাপত্তার ঘাটতি এবং অভ্যন্তরীণ তদারকির সমস্যা সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিক তদন্তের সময়ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব এবং হ্যাকারদের ট্র্যাকিংয়ে সীমাবদ্ধতার কারণে পুরো বিষয়টি এমন দীর্ঘমেয়াদি মামলায় পরিণত হয়েছে।

সিআইডি তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছে, চুরির পথে ব্যবহৃত সমস্ত প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক লেনদেনের খোঁজ পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। অপরদিকে, আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে নতুন নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন, যাতে তদন্তের মান ও কার্যকারিতা বজায় থাকে। তবে এই ধারাবাহিক বিলম্ব দেশের অর্থনৈতিক ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ ঘটনায় শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও সতর্ক হয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং সংস্থাগুলো বাংলাদেশের আর্থিক নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য নানা নির্দেশনা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে দেশের আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা কমতে পারে এবং ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়তে পারে।

দীর্ঘ প্রায় দশ বছরের এই মামলার বিলম্ব সমাজে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। অনেক নাগরিক প্রশ্ন করছেন, কেন তদন্তের ক্ষেত্রে এত দীর্ঘ বিলম্ব ঘটেছে, এবং কেন এখনো চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধার বা দায়ীদের শাস্তি কার্যকর হয়নি। এ বিষয়টি আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক দক্ষতার ক্ষেত্রে এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সিআইডি ও আদালত জানিয়ে এসেছে, ১৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নতুন তারিখে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার মাধ্যমে মামলার পরবর্তী ধাপ এগিয়ে যাবে। এ প্রতিবেদন মামলার সকল তথ্য, প্রমাণ ও তদন্ত প্রক্রিয়া তুলে ধরবে এবং অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশের আর্থিক নিরাপত্তা ও সাইবার সুরক্ষার জন্য এই মামলার দ্রুত সমাধান অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চিত মামলা আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও দক্ষতা হ্রাস করছে। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এই মামলার দীর্ঘ বিলম্বের প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষ, ব্যাংক কর্মকর্তা ও আইন বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী ধাপে জবাবদিহি এবং যথাযথ বিচার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা শক্তিশালী করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে ধরা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত