২০২৬ সালের চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকার কার্যকর কৌশল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৪ বার
২০২৬ সালের চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকার কার্যকর কৌশল

প্রকাশ:১৩ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কাঠামো, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং কর্মক্ষেত্রের ধরন দ্রুত বদলে যাওয়ার ফলে ২০২৬ সালের চাকরির বাজার আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে। শুধু ভালো একটি সিভি কিংবা একাডেমিক সনদ দিয়ে চাকরি পাওয়া এখন আর সহজ নয়। নিয়োগদাতারা এখন এমন প্রার্থী খুঁজছেন, যাঁরা বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎমুখী চিন্তাভাবনার প্রমাণ দিতে পারেন। ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁরা এখন থেকেই কৌশলগতভাবে নিজেদের প্রস্তুত করবেন, তাঁরাই আগামী দিনে চাকরির দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন।

বর্তমান চাকরিবাজারে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে মূল্যায়নের পদ্ধতিতে। আগে যেখানে সিভির তথ্যই ছিল মূল বিবেচ্য, সেখানে এখন গুরুত্ব পাচ্ছে কাজের নমুনা ও বাস্তব অর্জন। তাই একটি শক্তিশালী পোর্টফোলিও তৈরি করা ২০২৬ সালের চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকার অন্যতম প্রধান শর্ত হয়ে উঠছে। পোর্টফোলিও মানে শুধু ফাইলভর্তি সনদ নয়; বরং নিজের করা প্রকল্প, সমাধান করা সমস্যা, বাস্তব ফলাফল এবং সাফল্যের পরিমাপযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা। একজন গ্রাফিক ডিজাইনারের ক্ষেত্রে ডিজাইন করা কাজের নমুনা, একজন সফটওয়্যার ডেভেলপারের ক্ষেত্রে তৈরি করা অ্যাপ বা কোড রিপোজিটরি, কিংবা একজন মার্কেটিং পেশাজীবীর ক্ষেত্রে সফল ক্যাম্পেইনের ফলাফল—এসবই নিয়োগদাতার কাছে প্রার্থীর সক্ষমতা স্পষ্ট করে তোলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিকভাবে সাজানো একটি পোর্টফোলিও অনেক সময় শক্তিশালী সিভির চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।

একই সঙ্গে দ্রুত বদলে যাওয়া কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে আপস্কিলিং ও রিস্কিলিংয়ের বিকল্প নেই। আপস্কিলিং বলতে বোঝায় নিজের বর্তমান দক্ষতাকে আরও উন্নত করা, আর রিস্কিলিং হলো সম্পূর্ণ নতুন কোনো দক্ষতা শেখা, যাতে প্রয়োজন হলে ভিন্ন ভূমিকা বা ভিন্ন খাতে কাজ করা যায়। প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে অনেক পেশার চাহিদা কমে যাচ্ছে, আবার নতুন নতুন পেশার সৃষ্টি হচ্ছে। তাই শুধু একটি দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল থাকলে ঝুঁকি বাড়ে। গুগল ক্যারিয়ার সার্টিফিকেট, কোরসেরা, এডএক্স কিংবা মাইক্রোসফটের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল ও স্বল্পমেয়াদি সার্টিফিকেশন অর্জন করলে চাকরির বাজারে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রেই এসব প্রশিক্ষণ শুধু চাকরি পাওয়ার সুযোগই নয়, বরং বেতন বৃদ্ধির পথও তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রশিক্ষণের খরচ বহন করা যায় কি না, সেটিও খোঁজ নেওয়া উচিত।

২০২৬ সালের চাকরির বাজারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দ্রুত বর্ধনশীল খাতগুলোকে চিহ্নিত করা। যেসব পেশায় স্বয়ংক্রিয়তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে কাজের সুযোগ কমে যাচ্ছে, যেমন ডেটা এন্ট্রি, ক্লারিক্যাল বা কিছু প্রশাসনিক কাজ—সেসব খাতে ভবিষ্যৎ তুলনামূলক অনিশ্চিত। বরং প্রযুক্তিভিত্তিক পেশা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সেবা, নির্মাণ, কৃষি এবং সেবামূলক খাতে চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, ডেটা বিশ্লেষক, নার্সিং পেশাজীবী, কাউন্সেলর, সামাজিক কর্মী এবং উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের শিক্ষক—এই পেশাগুলো আগামী কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি ডেলিভারি ড্রাইভার, নির্মাণশ্রমিক ও কৃষিশ্রমিকের মতো ক্ষেত্রেও দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়ছে, যা শ্রমবাজারের নতুন বাস্তবতা তুলে ধরে।

শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতাই নয়, সফট স্কিল বা মানবিক দক্ষতার গুরুত্বও বাড়ছে। যোগাযোগ দক্ষতা, দলগতভাবে কাজ করার ক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের মানসিকতা এবং পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা—এসব গুণ ২০২৬ সালের নিয়োগদাতাদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন এমন কর্মী খুঁজছে, যারা শুধু নির্দেশনা মেনে কাজ করবে না, বরং উদ্যোগ নিয়ে নতুন সমাধান দিতে পারবে। তাই বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ইন্টার্নশিপ, ফ্রিল্যান্স কাজ বা স্বেচ্ছাসেবী প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞরা।

এ সময় ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় নেটওয়ার্কিংয়ের ভূমিকাও অস্বীকার করার উপায় নেই। পেশাগত নেটওয়ার্ক তৈরি করা, লিংকডইনের মতো প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকা এবং শিল্প সংশ্লিষ্ট মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা অনেক সময় চাকরির সুযোগ এনে দেয়। অনেক নিয়োগই হয় পরিচিতি ও রেফারেন্সের মাধ্যমে, যা প্রকাশ্য বিজ্ঞাপনের আগেই সম্পন্ন হয়ে যায়। তাই নিজের কাজ ও দক্ষতা দৃশ্যমান করে তোলা এখন সময়ের দাবি।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হলে মানসিকভাবে নমনীয় হতে হবে। একটি নির্দিষ্ট চাকরি বা পদে আটকে না থেকে নতুন সুযোগ ও নতুন শিখনের প্রতি উন্মুক্ত থাকতে হবে। প্রয়োজনে ক্যারিয়ার কোচিং বা পেশাদার পরামর্শ গ্রহণ করলে নিজের শক্তি ও দুর্বলতা চিহ্নিত করা সহজ হয়, যা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ২০২৬ সালের চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকার জন্য বড় কোনো জাদুকরী সমাধান নেই। বরং ধারাবাহিক শেখা, বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন, সঠিক খাতে নিজেকে প্রস্তুত করা এবং পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতাই হবে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। যাঁরা এখন থেকেই পরিকল্পিতভাবে নিজেদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবেন, তাঁরাই আগামী দিনের প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত