প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার পর থেকে এক বছরে লক্ষাধিক ভিসা বাতিল করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (১২ জানুয়ারি) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয় জানায়, বাতিল হওয়া ভিসার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার স্টুডেন্ট ভিসা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরে আসা ২ হাজার ৫০০টি বিশেষায়িত ভিসা রয়েছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখা এবং অপরাধীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমুখপাত্র টমি পিগোট বলেন, ভিসা বাতিলের ক্ষেত্রে চারটি বিষয় বিশেষভাবে ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, সহিংসতা এবং চুরি। তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ভিসা বাতিলের সংখ্যা ১৫০ শতাংশ বেড়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসী নীতি কঠোর করার পাশাপাশি নতুন ভিসা প্রদানেও ব্যাপক সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। এর ফলে এক বছরে অভিবাসীদের ওপর নজরদারি ও কড়াকড়ি আরও জোরদার হয়েছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশটিতে সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
স্টুডেন্ট ভিসা বাতিলের ঘটনায় দেশীয় ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ভিসা বাতিলের ফলে তারা শিক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রমে অংশগ্রহণে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। বিশেষায়িত ভিসা বাতিল করা হয়েছে মূলত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য, যারা দেশে অবস্থান করে আইনশৃঙ্খলার ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এতে তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করার পাশাপাশি অন্যদের সতর্ক করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন একাধিক নীতি গ্রহণ করেছে যা অভিবাসন প্রক্রিয়ায় নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করেছে। এই নীতির মাধ্যমে ভিসাধারীরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলছেন কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, যেসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে, তার মধ্যে অনেকই দেশটির নিরাপত্তার স্বার্থে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কিছু অংশ এই কঠোর নীতির সমালোচনা করেছে। তারা বলছে, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ কার্যকর শিক্ষালাভ ও পেশাগত উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তবু ট্রাম্প প্রশাসন এই নীতি অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করছে। প্রশাসন যুক্তি দিচ্ছে, দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য এই কঠোর পদক্ষেপ অপরিহার্য।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে বাতিল হওয়া ভিসার মধ্যে শীর্ষ তালিকায় রয়েছে স্টুডেন্ট ভিসা। শিক্ষার্থীরা যারা দেশের বাইরে থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে এসেছিলেন, তাদের মধ্যে অনেকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। বিশেষায়িত ভিসা বাতিল করা হয়েছে তাদের জন্য যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে আইন প্রণালীতে নজরে এসেছে। ভিসা বাতিলের এই পদক্ষেপটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসী নীতি কঠোর করার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ অভিবাসী ও বিদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান এবং কার্যক্রমে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে। শিক্ষার্থী ও বিশেষায়িত ভিসাধারীরা সরকারের নিয়মকানুন মেনে চলছেন কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিবাসী নীতি কঠোর করা হয়েছে এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ট্রাম্প প্রশাসন এক বছরে অভিবাসীদের ওপর নজরদারি এবং কড়াকড়ি আরও জোরদার করেছে। ২০২৫ সালে বাতিল হওয়া ভিসার সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১৫০ শতাংশ বেড়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা ও বিশেষায়িত ভিসা বাতিলের মাধ্যমে প্রশাসন দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের যথাযথ আচরণ নিশ্চিত করছে।