ইরানে পরিস্থিতি উত্তেজিত, যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা বিবেচনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৬ বার
ইরানে পরিস্থিতি উত্তেজিত, যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা বিবেচনা

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন এবং জনহানির খবরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বিমান হামলার বিকল্পকে বিবেচনায় রাখছে। সোমবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের জানান, ইরানের রাস্তায় মানুষ হতাহত হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এই পরিস্থিতি গভীরভাবে উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

ওয়াশিংটন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেছে যে সামরিক বিকল্পের পাশাপাশি কূটনৈতিক পথও এখনও খোলা রয়েছে। লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সবসময় প্রথমে কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন, তবে সব বিকল্প খোলা রাখার নীতি বজায় রাখা হচ্ছে। এ খাতের মধ্যে বিমান হামলাও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ইরানের শাসকগোষ্ঠী প্রকাশ্যে যা বলছে, গোপন যোগাযোগে তারা ভিন্ন সুরে কথা বলছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই বার্তাগুলো গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে আগ্রহী। এর আগে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে যোগাযোগের একটি গোপন চ্যানেল চালু রয়েছে।

রোববার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ একটি ‘খুব শক্ত বিকল্প’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যার মাধ্যমে তেহরান তার নির্ধারিত ‘লাল রেখা’ অতিক্রম করেছে। ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের নেতারা আলোচনার জন্য যোগাযোগ করেছেন, তবে আলোচনার আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, ইরানে নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। কয়েক দিন ধরে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় দেশটির ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে খুব সীমিত তথ্য বাইরে আসছে। হোয়াইট হাউসের বক্তব্যেও হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেহরানের রাস্তায় মানুষকে হত্যা হতে দেখতে চান না, তবে দুঃখজনকভাবে বর্তমানে সেটাই ঘটছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানে এই বিক্ষোভ এবং সরকারী দমন নীতি আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক বিকল্পের মধ্যে থাকা বিমান হামলার ইঙ্গিত তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, কিন্তু একই সঙ্গে ওয়াশিংটন প্রথমে শান্তিপূর্ণ সমাধান চাইছে। এ পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে রাজনৈতিক ও মানবিক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ইরানী গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা আগাম বলা কঠিন। তবে ওয়াশিংটনের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি হলো সব বিকল্প খোলা রাখা, যাতে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানে চলমান পরিস্থিতি কূটনৈতিক সংলাপ, আন্তর্জাতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতির সমন্বয়ে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক রূপ নির্ধারণ করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত