প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়ন সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারের দিক থেকে ছোড়া গুলিতে এক ১২ বছর বয়সি বাংলাদেশি কন্যাশিশু গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সো মোয়েকে তলব করেছে এবং কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশি পক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে উসকানিমূলক বা কোনো প্ররোচনামূলক কার্যক্রম ছাড়া গুলিবর্ষণ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং প্রতিবেশী দুই দেশের সুসম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এমন সীমান্ত লঙ্ঘন যাতে আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করার জন্য মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষকে পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দেশটির কর্তৃপক্ষ ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে যা-ই ঘটুক না কেন, তার কোনো প্রভাব যেন বাংলাদেশের জনগণের জীবন ও জীবিকায় না পড়ে।
এই বিষয়ে বাংলাদেশের কড়া অবস্থান জানানো হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সো মোয়ে জবাবে আশ্বস্ত করেছেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে তার সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে আহত শিশুটির প্রতি এবং তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশের সীমানা এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকায় সময়কালীনভাবে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তা বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সীমান্ত লঙ্ঘন রোধে ইতোমধ্যে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলিবর্ষণের সময় স্থানীয়রা আতঙ্কে ভেসে যাচ্ছিল। আহত শিশুটি স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়েছে এবং পরে হাসপাতাল পৌঁছে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। এলাকাবাসী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দাবি করেছেন, সীমান্তরক্ষীরা যেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। কিন্তু আমাদের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের সীমান্ত লঙ্ঘন সহ্য করা হবে না। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি পুনরাবৃত্তি রোধে আমরা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।”
এদিকে, এ ধরনের সীমান্ত পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও আইনগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ন। শিশু ও সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দুটি দেশের দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশের সরকারের এই পদক্ষেপ, যা তীব্র প্রতিবাদ এবং রাষ্ট্রদূতের তলবের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে, তা সীমান্ত রক্ষণশীলতা এবং প্রতিক্রিয়াশীল কূটনীতির উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। শিশুর আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকার মানুষ উদ্বিগ্ন এবং সীমান্ত এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যও প্রভাবিত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছেন, তারা গুলিবর্ষণের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেবে।
এ ঘটনায় কড়া অবস্থান নেওয়া বাংলাদেশের প্রচেষ্টা দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে এবং সীমান্তে নিরপেক্ষতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে। রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সো মোয়ে এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন, যা কূটনৈতিক মঞ্চে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তা, সীমান্ত রক্ষণ এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়গুলো আবারও প্রমাণিত হলো এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে। একই সঙ্গে আহত শিশুর পরিবার ও স্থানীয় জনগণ দ্রুত নিরাপত্তা ও ন্যায্য প্রতিকার আশা করছে।