পে কমিশনের প্রতিবেদন পেলেই সিদ্ধান্ত: অর্থ উপদেষ্টা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮ বার
পে কমিশনের প্রতিবেদন পেলেই সিদ্ধান্ত: অর্থ উপদেষ্টা

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল আলোচিত নতুন পে-স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পে কমিশনের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান এখনো অপেক্ষমান এবং কমিশনের সুপারিশই হবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল ভিত্তি। অর্থ উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, ২১ সদস্যের পে কমিশন খুব শিগগিরই তাদের বিশদ প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণ নিয়ে দেশজুড়ে যখন আলোচনা ও প্রত্যাশা তুঙ্গে, তখন অর্থ উপদেষ্টার এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পে কমিশনের কাজ কোনোভাবেই থেমে নেই। বরং নিরবিচ্ছিন্নভাবে কমিশন কাজ করে যাচ্ছে এবং সরকারের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তিনি জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো লিখিতভাবে এবং সরাসরি সাক্ষাৎ করে কমিশনের কাছে তাদের মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেছে। এসব মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েই কমিশন সুপারিশমালা প্রস্তুত করছে।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, পে স্কেল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল বিষয়। এটি শুধু বেতন বৃদ্ধি বা কাঠামো পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক ভারসাম্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। সে কারণেই কমিশন সময় নিয়ে, সব দিক বিশ্লেষণ করে সুপারিশ তৈরি করছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে স্কেল দিয়ে যেতে পারবে কি না, তা পুরোপুরি কমিশনের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে। প্রতিবেদন হাতে এলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এখনই এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। কারণ কমিশনের সদস্যরা বিচার-বিশ্লেষণ করে যে সুপারিশ দেবেন, সেটির ওপর ভিত্তি করেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি আরও জানান, পে কমিশনের প্রতিবেদনের সঙ্গে বিচার বিভাগের জন্য একটি আলাদা প্রতিবেদন থাকবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতের জন্য একটি সাব-কমিটিও কাজ করছে। অর্থাৎ, পে স্কেল শুধু বেসামরিক প্রশাসনের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাব করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল কার্যকর করা সম্ভব নয়—এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অর্থ উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে বলেন, পে স্কেল বিষয়ে গভর্নরের মন্তব্য করার এখতিয়ার নেই। তার ভাষায়, গভর্নর ব্যাংক ও আর্থিক খাতসংক্রান্ত বিষয়ে মতামত দিতে পারেন, কিন্তু পে স্কেল নির্ধারণ সম্পূর্ণভাবে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো ভূমিকা নেই।

নতুন পে স্কেল বর্তমান সরকার দিয়েই বাস্তবায়ন করবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সবকিছু নির্ভর করছে কমিশনের রিপোর্ট কবে আসে তার ওপর। রিপোর্ট এলে বোঝা যাবে, কী করা সম্ভব এবং কী করা সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আগে রিপোর্ট আসুক, তারপর বাস্তবায়ন বা সময়সূচি নিয়ে আলোচনা করা যাবে।

অর্থ উপদেষ্টা আরও জানান, পে কমিশনের কাজ অত্যন্ত সাবস্টেনটিভ ও ডিটেইলড। কমিশনের কাছে বিপুলসংখ্যক প্রতিনিধি দল ও ব্যক্তি তাদের দাবি ও প্রস্তাব পেশ করেছে। সরকার শুরু থেকেই কমিশনকে নির্দেশনা দিয়েছে, যেন ওপেন ইন্টারঅ্যাকশনের মাধ্যমে সবার কথা শোনা হয়। সেই নীতিতেই কমিশন কাজ করছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। বর্তমান পে স্কেল বাস্তবায়নের পর মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সামাজিক বাস্তবতায় অনেক পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করছেন কর্মচারী সংগঠনগুলো। তারা নতুন পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধি, গ্রেড পুনর্বিন্যাস এবং বৈষম্য নিরসনের দাবি জানিয়ে আসছেন। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ সতর্ক করছেন, অতিরিক্ত বেতন কাঠামো পরিবর্তন যেন সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে।

এই প্রেক্ষাপটে পে কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কমিশনের সুপারিশ শুধু সরকারি কর্মচারীদের জীবনে প্রভাব ফেলবে না, বরং জাতীয় বাজেট, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও এর প্রভাব পড়বে। ফলে কমিশনের প্রতিবেদন ঘিরে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার চায় একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই পে স্কেল। এমন একটি কাঠামো, যা একদিকে সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্যও রক্ষা করবে। তিনি বলেন, আবেগ নয়, তথ্য ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অপেক্ষমাণ। পে কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের দিকেই তাকিয়ে আছে সরকার, কর্মচারী সমাজ এবং সাধারণ মানুষ। সেই প্রতিবেদনই নির্ধারণ করবে নতুন পে স্কেলের ভবিষ্যৎ, বাস্তবায়নের সময় এবং সরকারের করণীয়।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত