সর্বশেষ :
গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও দূরত্ব ঘোচেনি ড্রোন অনুপ্রবেশে দোষীদের শাস্তির অঙ্গীকার দক্ষিণ কোরিয়ার ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রকে বহিষ্কারের দাবি ব্রিটিশ এমপিদের বিবাহবার্ষিকীতে ডিভোর্স পেপার, সেলিনার জীবনের কঠিন সত্য উত্তেজনার মধ্যে ইরানের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হাদীর বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে স্ত্রীর প্রশ্ন ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নে ধস, উন্নয়ন গতি পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন রংপুরের ছয় আসনে ভোটের লড়াই, শক্ত অবস্থানে জামায়াত যুব বিশ্বকাপে আজ পর্দা উঠছে, শুরুতেই ভারতের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের

আইপিওতে ফের লটারি, ৩০ কোটি টাকার কম কোম্পানি পারবেন না

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫০ বার
আইপিওতে ফের লটারি, ৩০ কোটি টাকার কম কোম্পানি পারবেন না

প্রকাশ: ১৪  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শেয়ারবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওতে বিনিয়োগকারীদের জন্য আবারও লটারি ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সংশোধিত আইপিও বিধির মাধ্যমে ঘোষণা করেছে, এখন থেকে আইপিওতে আসা কোম্পানির শেয়ারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হবে লটারির মাধ্যমে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন, যা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বাজারে সমতা নিশ্চিত করার জন্য করা হয়েছে।

আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই পরিবর্তনের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক এম হাছান মাহমুদ, পরিচালক মো. আবুল কালাম, অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো. লুৎফুল কবিরসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তারা জানান, আইপিওতে আগের মতো লটারি ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আগে বিভিন্ন সময় আইপিওতে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বরাদ্দের ক্ষেত্রে কার্যকর ছিল।

আইপিওতে লটারি প্রথা বাতিলের পর কিছু বছর ধরে শেয়ার বরাদ্দ করা হতো বিনিয়োগকারীর আগ্রহ এবং জমা অর্থের অনুপাতে। সেই সময়ে আইপিওর শেয়ার পেতে হলে আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের অবশ্যই সেকেন্ডারি বাজারে ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ থাকতে হতো। তবে এখন পুনরায় লটারি ব্যবস্থা চালু হওয়ায় শেয়ার বরাদ্দ সম্পূর্ণরূপে বিন্যাস করা হবে নিয়মানুসারে, যা বাজারে ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সমান সুযোগ সৃষ্টি করবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএসইসির কর্মকর্তারা আরও জানান, সংশোধিত আইপিও বিধি অনুযায়ী ৩০ কোটি টাকার কম পরিশোধিত মূলধনের কোনো কোম্পানি আইপিওতে আসতে পারবে না। নতুন নিয়মে আইপিওতে আসা কোম্পানিকে তার মূলধনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়তে হবে। এছাড়া আইপিওর পর কোম্পানির মূলধন কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা হতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো কোম্পানির মূলধন ৩০ কোটি টাকা হয়, তবে তাকে আইপিওতে অন্তত ২০ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়তে হবে। তবে ভালো মৌলভিত্তির বহুজাতিক বা বড় কোম্পানির ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা থাকবে।

বিএসইসি কর্মকর্তারা বলেন, নতুন নিয়মে শেয়ারবাজারে আইপিওর মান নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হবে। আইপিওতে আগ্রহী কোম্পানির প্রসপেক্টাস বা বিবরণীর ওপর স্টক এক্সচেঞ্জ যে কোনো বস্তুনিষ্ঠ মতামত দিতে পারবে। এভাবে বিনিয়োগকারীদের সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি, বাজারে স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। নতুন বিধিতে কোম্পানির কারখানা, কার্যালয় বা পরিচালনা পরিদর্শন করার ক্ষমতাও স্টক এক্সচেঞ্জকে দেওয়া হয়েছে। কোম্পানি তালিকাভুক্তির বিষয়ে যদি স্টক এক্সচেঞ্জ কোনো নেতিবাচক মতামত প্রদান করে, তাহলে কোম্পানিকে বিএসইসির কাছে আপিল করার সুযোগ থাকবে।

এই পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। লটারির মাধ্যমে শেয়ার বরাদ্দ হওয়ায় ছোট বিনিয়োগকারীরাও আইপিও থেকে অংশ নিতে পারবে। ফলে শেয়ারবাজারে ছোট ও মাঝারি বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়বে এবং বাজার আরও সমান ও দায়িত্বশীল হবে। পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর মূলধন ও আইপিও শেয়ার ছাড়ার শর্তে মান নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পাবে, যা বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সাহায্য করবে।

বিএসইসি কর্মকর্তা এম হাছান মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা চাই আইপিও প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ এবং নির্ভরযোগ্য হোক। লটারি ব্যবস্থার মাধ্যমে শেয়ার বরাদ্দ করা হবে যাতে বাজারে সব ধরনের বিনিয়োগকারীর সমান সুযোগ থাকে। ছোট বিনিয়োগকারীরাও আইপিওতে অংশ নিতে পারবেন এবং বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা বজায় থাকবে।”

স্টক এক্সচেঞ্জকে আইপিও প্রক্রিয়ায় আরও ক্ষমতাশালী করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে বিএসইসি। এর ফলে কোম্পানির প্রসপেক্টাস যাচাই, কারখানা পরিদর্শন এবং পরিচালনা সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়ে মতামত দেওয়া সম্ভব হবে। বাজারে কোম্পানির মান যাচাই করার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নতুন নিয়ম অনুযায়ী শেয়ারবাজারে আসতে চাইলে কোম্পানির মৌলিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, পরিচালনার সক্ষমতা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাব্য সুবিধা বিবেচনা করা হবে। বড় এবং বহুজাতিক কোম্পানির ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা থাকবে, যা তাদের আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী আইপিও আনার সুযোগ দেবে। তবে ছোট কোম্পানির ক্ষেত্রে মূলধন এবং শেয়ার ছাড়ার নিয়ম কঠোরভাবে পালন করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লটারির মাধ্যমে শেয়ার বরাদ্দ ফিরিয়ে আনা বিনিয়োগকারীর জন্য ইতিবাচক। এটি ছোট ও মধ্যম আয়ের বিনিয়োগকারীদের বাজারে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি করবে। একই সঙ্গে বাজারে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়বে, যা শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়াতে সাহায্য করবে।

নতুন আইপিও বিধি বাংলাদেশ শেয়ারবাজারের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ছোট ও বড় সব ধরনের কোম্পানির জন্য মান নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষা করা নিশ্চিত করা হয়েছে। লটারির পুনঃপ্রবর্তন, ৩০ কোটি টাকার ন্যূনতম মূলধনের শর্ত এবং স্টক এক্সচেঞ্জের ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে বাজার আরও শক্তিশালী এবং বিশ্বাসযোগ্য হবে।

এই পরিবর্তন বাংলাদেশ শেয়ারবাজারকে আরও সমান সুযোগ, স্বচ্ছতা এবং বিনিয়োগকারীর আস্থা প্রদানে সহায়ক হবে। ছোট ও নতুন কোম্পানির জন্য বাজারে প্রবেশের মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীর জন্য আইপিও আরও নিরাপদ ও সুযোগসাধ্য হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত