সর্বশেষ :
গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও দূরত্ব ঘোচেনি ড্রোন অনুপ্রবেশে দোষীদের শাস্তির অঙ্গীকার দক্ষিণ কোরিয়ার ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রকে বহিষ্কারের দাবি ব্রিটিশ এমপিদের বিবাহবার্ষিকীতে ডিভোর্স পেপার, সেলিনার জীবনের কঠিন সত্য উত্তেজনার মধ্যে ইরানের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হাদীর বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে স্ত্রীর প্রশ্ন ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নে ধস, উন্নয়ন গতি পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন রংপুরের ছয় আসনে ভোটের লড়াই, শক্ত অবস্থানে জামায়াত যুব বিশ্বকাপে আজ পর্দা উঠছে, শুরুতেই ভারতের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের

ইরানে বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৯ বার
ইরানে বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথে

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত ২৬ বছর বয়সী তরুণ এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অপেক্ষা শুরু হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরফানকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার জন্য মাত্র ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে। ইরানওয়্যারসহ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, নিরাপত্তা কর্মকর্তারা পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছে, এটিই হবে তাঁর সঙ্গে তাদের শেষ দেখা। এরপর তাকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলানো হবে।

এরফান সোলতানি ৮ জানুয়ারি কারাজ শহরে সরকারের ব্যর্থতা ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা অবরোধের কারণে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় গ্রেপ্তার হন। এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া হাজার হাজার মানুষ সরকারের নীতি ও অর্থনৈতিক ব্যর্থতার প্রতিবাদ জানায়। মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, এরফান প্রথম গ্রেপ্তারকৃত বিক্ষোভকারী, যার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এরফানকে কোনো আইনজীবী বা আইনি লড়াইয়ের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁর পরিবারের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, একজন নিকটাত্মীয় আইনজীবী এরফানের পক্ষে মামলা পরিচালনা করতে চেয়েছিলেন, তবে নিরাপত্তা বাহিনী তাঁকে বাধা ও হুমকি দিয়েছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আইনজীবীকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, এ বিষয়ে কোনো নথি বা পর্যালোচনার সুযোগ নেই এবং বিক্ষোভে গ্রেপ্তার হওয়া সকলকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরফানের পরিবারকেও সতর্ক করা হয়েছে যে তারা জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করলে বা গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হতে পারে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইউএস সান জানিয়েছে, এরফানের বিরুদ্ধে ‘সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ করার অভিযোগ আনা হয়েছে, যা ইরানের আইনে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, ইরান সরকার বিক্ষোভ দমন করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে দেশের ৩১টি প্রদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চলমান সহিংসতায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ৫০০ থেকে ২০০০ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ইরানে দেশজুড়ে ব্ল্যাকআউট অবস্থা চলমান। এ কারণে এরফানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সংক্রান্ত তথ্য এখনও কোনো নিরপেক্ষ পক্ষ দ্বারা যাচাই করা যায়নি। দেশজুড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে পরিবারের সদস্যরা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সঠিক তথ্য পেতে কষ্ট পাচ্ছেন।

একই সময়ে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ‘ইরানি দেশপ্রেমিকেরা, বিক্ষোভ চালিয়ে যান—আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নিন। সাহায্য আসছে।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের ‘নির্বিচার হত্যাকাণ্ড’ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করেছেন। ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানে চলমান সহিংসতার মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক চাপের বিষয়টি উঠে এসেছে।

এরফানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে এটি ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, ইরান সরকারের এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ন্যায্য বিচারবিচারহীনতার দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

এরফানের মতো তরুণরা মূলত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিল। তাদের ওপর কঠোর শাস্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সরকারি বাহিনী সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে।

ইরানে চলমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা সতর্ক করে দিয়েছে, আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি ও নীতিমালার লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হবে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌছেছে, যেখানে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক চাপ এবং বিক্ষোভকারীদের দমন একত্রিত হয়ে মানবিক সংকট তৈরি করছে। এরফানের পরিবারের পক্ষে এই মুহূর্তে আইনগত কোনো সহায়তা পাওয়া কঠিন। সরকারের শক্ত অবস্থান এবং তথ্যের সীমিততা তাকে ও তার পরিবারের কাছে চরম মানবিক সংকটের মধ্যে ফেলেছে।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর এখন ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর, যেখানে নির্দিষ্ট কোনো বিচারবিচার ছাড়াই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলি কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। দেশের ভেতরে এবং বাইরে একই সঙ্গে চাপ বাড়ছে, যার প্রভাব ভবিষ্যতের বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক আন্দোলনের গতিপথে পড়তে পারে।

এই ঘটনায় মানবিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বিশেষভাবে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, তরুণদের প্রতি এমন কঠোর শাস্তি সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে এবং ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বৃদ্ধি পাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত