বাড্ডায় নাহিদ ইসলামের নির্বাচনি অফিসে গুলি ও ভাঙচুর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৯ বার
নাহিদ ইসলাম নির্বাচনী অফিস হামলা

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নির্বাচনি অফিসে বুধবার সকালে গুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন এনসিপির মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহাবুব আলম। তিনি জানান, বাড্ডার ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত সাংগঠনিক অফিসে আনুমানিক সকাল ৯টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীরা গুলি ছুড়ে, অফিসের ভেতরের ব্যানার, ফেস্টুন এবং আহ্বায়কের ছবি ভাঙচুর করে।

এনসিপি নেতাদের দাবি, এ ধরনের হামলা নির্বাচনী উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। মাহাবুব আলম বলেন, “আমাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে লক্ষ্য করে এ ধরনের সহিংসতা করা হয়েছে। যদিও কেউ আহত হয়নি, তবে অফিসের ভেতরের সবকিছু ভাঙা ও গুলির চিহ্ন থেকে স্পষ্ট যে এটি প্রি-নির্বাচনী তাণ্ডবের অংশ।”

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং এটি তদন্ত প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বাড্ডা থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে কিছু গুলির শেল এবং ভাঙচুরের চিহ্ন সংগ্রহ করা হয়েছে। তাছাড়া CCTV ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। যদিও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

নির্বাচনী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে নির্বাচনী অফিসগুলোকে লক্ষ্য করে এমন হামলা প্রার্থীদের প্রচারণা কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারে। বাড্ডার এই ঘটনা সেই প্রেক্ষাপটে উদ্বেগজনক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে হবে যাতে সাধারণ জনগণ ও প্রার্থীরা নিরাপদে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা। তবে এ ধরনের হামলা আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না। আমরা আমাদের কর্মসূচি চলমান রাখব এবং দ্রুত পুনরায় অফিস পুনর্গঠন করব।” তিনি আরও বলেন, যে কোনও ধরনের সহিংসতা প্রতিহত করতে এনসিপি নেতৃবৃন্দ এবং কর্মী সমাজের সঙ্গে কাজ করছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী উত্তাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অফিস ও নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করছে। বিশেষ করে প্রার্থীদের ওপর হুমকি, অফিসে গুলি, ভাঙচুর বা প্রার্থীকে হয়রানির ঘটনা নিয়মিতভাবে বাড়ছে। নির্বাচনী কমিশনও সতর্ক করে জানিয়েছে, নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সকল রাজনৈতিক দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার জন্য রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রার্থীরা যেন তাদের অফিস ও কর্মসূচিতে নিরাপদে থাকতে পারে এবং ভোটারদের সুষ্ঠুভাবে তাদের প্রতি সমর্থন প্রদর্শনের সুযোগ পান, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের সহিংস ঘটনা শুধু প্রার্থীদের জন্য নয়, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্যই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বাড্ডা থানার পুলিশ জানিয়েছে, তারা নির্বাচনী অফিসগুলোতে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে আরও তৎপরতা দেখাবে এবং যেকোনও ধরনের সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখছে।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক ও সাধারণ জনগণের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় মানুষরা ভোট প্রদানের আগেই প্রার্থীদের অফিসে সহিংসতা ঘটে যাওয়ায় চিন্তিত। তারা আশা করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত তদন্ত শেষ করবে এবং নির্বাচনী অফিসগুলোকে নিরাপদ রাখবে।

সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়, বাড্ডায় নাহিদ ইসলামের নির্বাচনি অফিসে ঘটানো এই হামলা প্রার্থীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ভোটারদের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রাখে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয়তা নিশ্চিত করলে এই প্রকার সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এনসিপি নেতারা ইতোমধ্যেই অফিস পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা জোরদারের পরিকল্পনা নিয়েছেন এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত